২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিস্তা চুক্তিসহ সব সমস্যা সমাধানে সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে॥ পঙ্কজ শরণ

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। আর এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই ভারত কাজ করে চলেছে। তিনি বলেছেন, আইএস এখন বৈশ্বিক হুমকি। এই হুমকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ-ভারত একযোগে কাজ করতে পারে। এছাড়া তিস্তা চুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি খুব শীঘ্রই ঢাকা ছাড়বেন। ঢাকা থেকে বিদায় নেয়ার আগে শনিবার গুলশান ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পঙ্কজ শরণ। বাংলাদেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

পঙ্কজ শরণ বলেন, অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ-ভারতের বর্তমান সম্পর্ক গভীর ও বিস্তৃত। দুই দেশের সম্পর্ক এখন উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের মধ্যে দিয়ে ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যা সমাধান হওয়ার ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন পঙ্কজ শরণ। তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন আরও যে অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে তা বাস্তবায়নে দুই দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তিসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সাংবিধানিকভাবেই হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ওই নির্বাচন হয়। আর ভারত যে কোন দেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই কাজ করে থাকে। আমরাও এখন এদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

বাংলাদেশে আইএস’র অস্তিত্ব রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে পঙ্কজ শরণ বলেন, আমি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নই। এখানে আইএস রয়েছে কি-না এদেশের সরকারই বলতে পারবে। তবে বিশ্বজুড়ে আইএস’র হুমকি রয়েছে। এই হুমকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ-ভারত একযোগে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই দেশ একযোগে কাজ করছে। বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের পর দুই দেশ নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করেছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে কোন কোন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, কোন রাজনৈতিক দলের মনোভাব নিয়ন্ত্রণে ভারতের কোন হাত নেই। সেটা রাজনৈতিক দলের বিষয়। তবে আমরা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশ কি ধরনের কর্মসূচী নিতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দুই দেশই সীমান্ত হত্যা বন্ধ চায়। তবে সীমান্তে বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে জনগণকে সচেতনতার পাশাপাশি ডিসি-ডিএম বৈঠক বাড়াতে হবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিজিবি-বিএসএফ, স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অগ্রগতিতে এদেশের গণমাধ্যম বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। আমি গণমাধ্যমের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। গণমাধ্যমের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা রয়েছে। তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আর এখানের তরুণ প্রজন্ম আরও বেশি সচেতন। এদেশের মানুষ বন্ধুত্বপূর্ণ ও অতিথিপরায়ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভিসা সহজীকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভিসা সহজ করা হয়েছে। ১০টি ক্যাটাগরিতে কোন তারিখ ছাড়াই ভিসা আবেদন সরাসরি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ভিসা আবেদনের জন্য যে তারিখ পাওয়া যায় না এমন অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।