২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কারচুপি হবে জেনেও আমরা পৌর নির্বাচনে যাচ্ছি ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গণতন্ত্রের লেশমাত্র ছিল না অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন এখনও আমরা তামাশা ও কারচুপি হবে জেনেও নীল নকশার একটা নির্বাচনে যাচ্ছি। কারণ একটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিকল্প কোন পথ না থাকায় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এগ্রিকালচারিস্ট এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘পৌরসভা নির্বাচন-২০১৫ ও দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি জেনেই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সরকার। পৌর নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার পরও সারাদেশ বিএনপির ১০ হাজার নেতকর্মীকে আটক করা হয়েছে। দেশে একদলীয় শাসন চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র নেই, মুক্তচিন্তার সুযোগ নেই এমনকি জীবন রক্ষার নিরাপত্তাটুকুও নেই। ভবিষ্যতে আরও কী হতে পারে কেউ বলতে পারে না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পেতে সাত বছর ধরে আন্দোলন করছে। এ আন্দোলনকে আর ও বেগবান করতে হবে। তবে আন্দোলনে ব্যর্থতা আসতে পারে, কিন্তু আমাদের থেমে থাকলে চলবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন দিতে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করতে হবে।

ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাসী। তাই পৌর নির্বাাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা দেখতে চাই সরকার ও নির্বাচন কমিশন কি করে। দেশের মানুষ নিরাপদে ভোট দিতে পারে কি না তা আমরা দেখতে চাই।

ফখরুল বলেন, সরকার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন করছে। তড়িঘড়ি করে এ নির্বাচন করার কারণ আমরা জানি। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করা হবে। এমনকি তাদের খুনও করা হতে পারে। এরপর ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ২০ দলের প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হবে। তারপরেও আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। আর আমরাও জনগণের কাছে যেতে চাই। পৌর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ন্যূনতম যে সুবিধা রয়েছে, সেই সুবিধাটুকু নিতে চাই।

ফখরুল বলেন, সরকার পেশিশক্তির ব্যবহার ও কারচুপির মাধ্যমে পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে নেবে। এরপর শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক বিশ্বকে দেখাতে চাইবে যে, আওয়ামী লীগ দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ সরকারের কোন জনপ্রিয়তা নেই। দেশবাসী এ সরকারকে আর এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা শঙ্কিত। গণতন্ত্রের আবরণে একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা চলছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আ ন হ আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মোস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী প্রমুখ।

পৌর নির্বাচনের নামে সরকার জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছেÑ খন্দকার মাহবুব ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের নামে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত ‘আজকের গণতন্ত্র ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দায় সরকারের এবং এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে মাহবুব বলেন, সরকারের চাপে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু পৌরসভা নির্বাচন করতে না পারলে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। জনগণকে বলুন আপনারা সরকারের অশুভ চাপের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে না পেরে সরে গেছেন। তাহলে আপনাদের মুখ রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, জনগণের সরকার না থাকলে গণতন্ত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর গণতন্ত্র বাধা হলে উগ্রপন্থার আবির্ভাব হয়। প্রশাসন দিয়ে দেশে শান্তি রক্ষা করা যায় না।

সরকারের উদ্দেশে খন্দকার মাহবুব বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় ও সিটি নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করবেন না। এ নির্বাচনেও তা পুনরাবৃত্তি করলে জনগণ আপনাদের ঘৃণা করবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোঃ লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, যুব বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদার প্রমুখ।