২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস আছে, আইএস নেই

  • একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার

বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদনের হেডলাইন থেকে আজকের লেখার শিরোনামটি নিয়েছি। বাংলাদেশে আইএস (সিরিয়াভিত্তিক ইসলামিক স্টেটের জঙ্গী-জিহাদী) আছে কি নেই এই রকম একটি দুরভিসন্ধিমূলক বিতর্ক কিছুদিন থেকে চলছে, যার পেছনে দেশী-বিদেশী কিছু চক্র সক্রিয়ভাবে নিরবচ্ছিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এই বিতর্ক সৃষ্টির প্রধান হোতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, যারা বিশ্বের জঙ্গীবাদের কার্যক্রম ও তৎপরতার মনিটরিং করে এবং খোঁজ খবর রাখে। প্রতিষ্ঠানটির নাম ঝবধৎপয ভড়ৎ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঞবৎৎড়ৎরংঃ ঊহঃরঃরবং, সংক্ষেপে ঝওঞঊ, বাংলায় সাইট, এটিকে আবার সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপও বলা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এই দুূরভিসন্ধিমূলক বিতর্কের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও প্রচারণার অবসান হওয়া দরকার। প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও কর্মকা- সম্পর্কে একটু বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই, যাতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকা-ের অস্বচ্ছতা ও দুরভিসন্ধি সকলের কাছে স্পষ্ট হয়। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রেই এদের অফিস। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নাম রিটা কটজ (জরঃধ শধঃু), যিনি একজন ইহুদী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইহুদী লবির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে বলে জানা যায়। তিনি এক সময় ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা সোসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরও জানা যায় রিটা কটজ যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদী লবির স্বার্থেই কাজ করে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদী লবিকে বলা হয় ইনভিজিবল বা অদৃশ্য সরকার। এই অদৃশ্য সরকারের ক্ষমতা নাকি দৃশ্যমান সরকারের চাইতে বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কর্পোরেট হাউসগুলোর মালিক বা মূল চাবিকাঠি সবই ইহুদীদের হাতে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে ইহুদীদের এই কর্পোরেট হাউসগুলোর বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষাই প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে। যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতির কিছুটা খোঁজখবর রাখেন তারা নিশ্চয়ই জানেন বিশ্ব জঙ্গীবাদের উৎপত্তি ও উত্থান ঘটেছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায়। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের মাদ্রাসার ছাত্রদের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছিল মুজাহিদ ও তালেবান বাহিনী। এর পরের কাহিনী ও পরিণতি সকলেই জানেন। ১৫ বছর ধরে চলছে আফগান যুদ্ধ, এখনও শেষ হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই তৈরি আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ২০১৪ সালে ক্ষমতা ত্যাগের প্রাক্কালে এক বিদায়ী ভাষণে বিশ্ব নেতাদের সতর্ক করেছেন এই বলে যে, সবাই যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চক্রান্ত সম্পর্কে সজাগ থাকেন। আফগান থেকে যুদ্ধ সম্প্রসারিত হয়েছে ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ায়। এই একই জঙ্গীবাদবিরোধী যুদ্ধ এখন সম্প্রসারিত হচ্ছে উত্তর, মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার অন্যান্য দেশে। যুদ্ধ মানেই ব্যবসা। যুদ্ধ বাধলেই ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়, মার্কিন অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। যার পুরো সুবিধা পায় ইহুদী লবি নিয়ন্ত্রিত কর্পোরেট হাউসগুলো। তাই বিশ্বব্যাপী জঙ্গীবাদী তৎপরতার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এবং কর্পোরেট হাউসগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। সুতরাং সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের মতো এ ধরনের বেশ কিছু সংস্থা তৈরি হয়েছে, যারা মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ইহুদী ব্যবসায়িক স্বার্থের পক্ষে কাজ করে। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান, ধ্বংস ও দখল করা হয় সম্পূর্ণ মিথ্যা অজুহাতে ওই একই উদ্দেশ্যে। ইরাকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যে মিথ্যা ছিল সেটি আজ প্রমাণিত হয়েছে। ইরাক যারা ধ্বংস করলেন, তারাই অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট হাউসগুলো পুনর্গঠনের নামে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে নিলেন। এটা যেন সেই বাংলা গানের কলির মতোÑ ‘সর্প হয়ে দংশন করো, ওঝা হয়ে ঝাড়ো’।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিজার তাভেলা হত্যাকা- থেকে শুরু করে, জাপানিজ নাগরিক হত্যা, তাজিয়া মিছিলের ওপর আক্রমণ, বগুড়ার শিয়া মসজিদে আক্রমণ, প্রতিটি ঘটনার পর সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ থেকে সঙ্গে সঙ্গে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রচার করা হচ্ছে এটা আইএসের কাজ। আইএস কোন মাধ্যমে দায় স্বীকার করেছে এই মর্মে বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য জানতে চাওয়া হলে সাইট কোন উত্তর দেয়নি। আইএস দায় স্বীকার করেছে এমন লিংক ও স্ক্রিনশট সরবরাহে সাইট অস্বীকৃতি জানায় (ইত্তেফাক-২৯ নবেম্বর)। বাংলাদেশে হামলার খবর প্রকাশ করার সময় রিটা কটজ কোথাও উল্লেখ করেননি, কোন মাধ্যমে আইএস দায় স্বীকার করেছে। অথচ এ পর্যন্ত দেখা গেছে সব জঙ্গী সংগঠন হামলার পর কৃতিত্ব জাহির করতে তাদের নিজেদের প্রচার মাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন জিহাদী মাধ্যমে তা প্রচার করে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো বাংলাদেশে জঙ্গী হামলার পর আইএসের দায় স্বীকারের বার্তাটি কেবল রিটা কটজ ও তার প্রতিষ্ঠানের কাছে ফ্লাশের মতো পৌঁছে যায়, অন্য কেউ তা জানতে পারে না। জেএমবি, জেএমজেবি, হরকাত-উল-জিহাদ (হুজি), হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম প্রভৃতি স্থানীয় জঙ্গী সংগঠনগুলো প্রায় দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশে তৎপরতা চালাচ্ছে। হাই ভেল্যু ও ব্যাপক সেনসেশন সৃষ্টিকারী ঘটনা তারা ঘটিয়েছিল সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ২০০৪ সালে। তখন তো আইএস ছিল না। তাহলে এখন নিরীহ ও বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা বিদেশী নাগরিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাহীন ব্যক্তি ও স্থানে জঙ্গী আক্রমণ হলেই তা আইএস করেছে এমন প্রচারণা কেন? তাজিয়া মিছিল ও বগুড়ায় শিয়া মসজিদে জঙ্গী হামলা হাওয়ায় একটা প্রশ্ন উঠেছে, যেহেতু পূর্বে বাংলাদেশে শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর কোন আক্রমণ হয়নি। স্থানীয় জঙ্গীরা সুনির্দিষ্ট দুটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিয়াদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে থাকতে পারে। প্রথমত, ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক আইএসের অন্যতম প্রধান টার্গেট মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া সম্প্রদায়। তাই আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং একাত্মতা ঘোষণার মাধ্যমে সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় স্থানীয় জঙ্গীরা এখানে শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। দ্বিতীয়ত, শিয়াদের ওপর আক্রমণ হলে বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি প্রমাণ করা সহজ হবে। তাতে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষিত হবে। আইএস আছে এই অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র আইএস দমনে সহযোগিতার নামে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ওপর অনাকাক্সিক্ষত চাপ সৃষ্টির সুযোগ পাবে। আমেরিকা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, আইএস বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, সেখানেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আক্রমণ চালাবে। এটা হবে আবার যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অজুহাতে। তাই দেখা যায় ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত আগ বাড়িয়ে বলেছেন, আইএস দমনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিগত দিনের ঘটনার পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব উঠলে কেউ অবাক হবে না যে, আইএস হচ্ছে এক নম্বর শত্রু, তাই এখন সকল শক্তি নিয়োগ করে সর্বাগ্রে আইএস দমন করতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পরেও করা যাবে। সুতরাং এই জায়গায় এসে বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, যুদ্ধাপরাধীদের যারা রক্ষা করতে চায় তারা এবং বাংলাদেশের স্থানীয় জঙ্গীরা, এরা সকলে এক ও অভিন্ন অক্ষে অবস্থান করছে বললে সেটি একেবারে অমূলক হবে না। আর সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ তো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আছেই। সুতরাং উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগা-ার মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে বাংলাদেশে আইএস থাকতে পারে। এই সময়ে আইএস বাংলাদেশকে টার্গেট করতে পারে এমন কোন কারণ নেই। আইএসের এখন এক নম্বর টার্গেট হলোÑ যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াসহ সেই সব দেশ যারা সরাসরি আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। দুই নম্বর টার্গেট হলো মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী শিয়া সম্প্রদায়, যাদের আইএস মুসলমান মনে করে না। তৃতীয় এবং শেষ পর্যায়ের টার্গেট হিসেবে আছে সেই সব দেশ যেখানে মুসলমানরা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। উপরোক্ত তিনটি কারণের কোনটাই বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশে শিয়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা একেবারেই অনুল্লেখযোগ্য। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রে সম্প্রদায়গত কোন প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার একক ক্ষমতা বাংলাদেশের শিয়াদের নেই। গোয়েন্দা সূত্রের খবরে জানা গেছে শিয়াদের মসজিদে আক্রমণ চালিয়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় জঙ্গী সংগঠন জেএমবি। সুতরাং আইএস সিরিয়া ও ইরাকে এখন বহুপক্ষীয় বাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত, তাই এই সময়ে বাংলাদেশের প্রভাবহীন, অনুল্লেখযোগ্য শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের কোন যৌক্তিকতা বিচার বিশ্লেষণে পাওয়া যায় না। গত ২৮ সেপ্টেম্বরে সিজার তাভেলা হত্যাকা- থেকে শুরু করে তাজিয়া মিছিলের ওপর আক্রমণ, পীর ও ধর্ম যাজকদের ওপর হামলা এবং শিয়া মসজিদের ভেতরে আক্রমণ, এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো ঘটেছে, এটাই সত্য। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে আইএস জড়িত থাকা না থাকার মধ্যে পার্থক্য কি অথবা এই বিতর্কই বা কেন উঠছে এবং কারা এই বিতর্ক উসকে দিচ্ছে? দেশী-বিদেশী এই গোষ্ঠীর পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড কি? দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব প্রশ্নের গভীরে যাওয়া দরকার। তৃণমূল পর্যায়ে অর্থাৎ যারা এই ঘটনার শিকার হচ্ছে, তাদের কাছে এর কোন পার্থক্য নেই। রাষ্ট্রের কাছে সাধারণ মানুষ নির্বিঘœ জীবন-যাপনের নিরাপত্তা চায়। ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের নিরাপত্তা প্রদানে সরকার দায়বদ্ধ। আইএস হলে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি এক রকম হবে, আর আইএস না হলে অন্যরকম হবে এমন ভাবার কোন কারণ দেখি না। জঙ্গী জঙ্গীই, তাদের ব্যাপারে কোন বাছ-বিচার নেই। এরা সকলেই মানবতার শত্রু, সভ্যতার শত্রু এবং মুসলমানদের শত্রু। এদের দমন ও নির্মূলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনা যে-ই ঘটিয়ে থাকুক না কেন, তা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু আলোচিত আক্রমণগুলোর সঙ্গে আইএসের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার যৌক্তিক কোন কারণ না থাকা সত্ত্বেও যারা বলার চেষ্টা করছেন এগুলো আইএসের কাজ, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দিহান না হয়ে পারা যায় না। কারণ সত্য-মিথ্যা যে কোনভাবে আইএসের উপস্থিতি প্রমাণ করা গেলে বাংলাদেশকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বসহ একটা গোষ্ঠী নতুন খেলা শুরু করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং আইএস আছে কি নেই, এই বিতর্ককে হাল্কাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এই প্রোপাগা-ার পেছনে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যসহ দেশী-বিদেশী চক্রান্ত জড়িত। তবে এ কথাও ঠিক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক জঙ্গীবাদের তৎপরতার প্রভাব থেকে বাংলাদেশ মুক্ত নয়। তাই বৈশ্বিক জঙ্গী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য এবং নিজেদের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় জঙ্গীরা পূর্বে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতেও সেটি তারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই স্থানীয় জঙ্গীদের দমনে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতাও বাড়ানো উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে আইএস নেই এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে, ভবিষ্যতে আইএস-আল কায়েদা বাংলাদেশে তৎপরতা শুরু করবে না, এমন আত্মতুষ্টিতে থাকাও উচিত হবে না।

লেখক : ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক