২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাটের প্রত্যাবর্তন!

  • তাপস মজুমদার

ইন্টারমিডিয়েটে (১৯৬৯) পড়ার সময় কলেজের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে দলবেঁধে শিক্ষাসফরে গিয়েছিলাম রাজধানীর অনতিদূরে নারায়ণগঞ্জে আদমজী জুটমিল পরিদর্শনে। স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে তাহলে বলতে পারি, তৎকালে আদমজী ছিল এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল। বিশ্বের মধ্যেও সবচেয়ে বড় পাটকল ছিল কিনা তা নেট না ঘেঁটে এই মুহূর্তে বলতে পারব না। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছিল পৃথিবীতে সর্বাধিক পরিমাণ পাট উৎপাদনকারী দেশ। সত্যি বলতে কি, সব মিলিয়ে সোনার বাংলা তখন পাট নিয়ে রীতিমতো গর্ব করতে পারে। করতও বুঝি। ফিরে যাই আদমজী পরিদর্শনে। সে সময়ে আদমজী দেখা সত্যি এক বিরল অভিজ্ঞতা। সুবিশাল এলাকা অথবা বলা যায় অঞ্চল নিয়ে সুবিশাল মিল। বলা হতো আদমজীনগর। অনেকটা টাটানগরের মতো আর কি! ঢাকা থেকে আদমজী পর্যন্ত সরাসরি বিশেষ বাস সার্ভিস ছিল, ছিল মেল ট্রেনও। মিলের ঠিক ভেতরে নয়, বরং বাইরে চারপাশে সারি সারি ছিল শ্রমিক কলোনি। অগণিত অবাঙালী শ্রমিক থাকাও বিচিত্র নয়। হাট-বাজার, চায়ের দোকান, রেশন শপ, মুদি ও মনোহারী দোকান, ওষুধের দোকান, মেডিক্যাল ক্লিনিক প্রায় সবই ছিল মিলের ভেতরে ও আশপাশে। বিশাল বিশাল তিনটি শেড ছিল ফ্যাক্টরির। প্রতিটিতে তিন শিফটে রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা কাজ হতো। প্রতি শিফটে কমপক্ষে ১৫/১৬ হাজার নিয়মিত (রেগুলার) শ্রমিক। নৈমিত্তিক (মাস্টাররোল) ভিত্তিতে কাজ করত অতিরিক্ত আরও ছয় হাজার শ্রমিক। অর্থাৎ প্রতিটি শেডে ২২ হাজার শ্রমিক। যন্ত্রের ঘড়ঘড়ে কান পাতা দায়। সে এক হৈ হৈ কা-কারখানা, রৈ রৈ ব্যাপার। যতদূর মনে পড়ে আধুনিক শিল্পকারখানায় যাকে বলে এ্যাসেম্বলি লাইন (ধংংধসনষু ষরহব) তা প্রথম ভাসাভাসা বুঝতে পারি আদমজী দেখে। একদিক দিয়ে স্তূপীকৃত কাঁচা পাট ঢুকছে আর বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে সুবিস্তৃত বুননকৃত চট আকারে। সেটা এমনকি রোলও হয়ে যাচ্ছে অটোমেটিক মেশিনে। আবার চট বা ছালার বস্তাও তৈরি হচ্ছে মেশিনের সাহায্যে অথবা ম্যানুয়ালি। সেই প্রথম এত বড় একটা আধুনিক ফ্যাক্টরি দেখা। আবারও বলি আদমজী জুট মিল দেখা সত্যিই এক অভিজ্ঞতা।

প্রায় ঐতিহাসিক সেই আদমজী আজ এক মৃত বিবর্ণ ইতিহাস। কেন আদমজী আমরা চালুু রাখতে পারলাম না, কেন আদমজী দিনে দিনে পাহাড়প্রমাণ লোকসান দিয়ে মরে গেল একদিন এবং তারও পরে সেই আদমজীনগরে প্রায় জোরজবরদস্তি করে জ্বালিয়ে দেয়া হলো সারি সারি লালবাতি, আদার ব্যাপারী অথবা চুনোপুঁটি হয়ে সেই কূটবিতর্কে আমরা যাব না। একদার বহুল আলোচিত এবং ইতিহাসে মৃতবৎ স্থানপ্রাপ্ত আদমজীনগর এখন কেমন কি অবস্থায় আছে, তাও জানি না। কোথায় হারিয়ে গেল সেই সব অহঙ্কারী দাপুটে শ্রমিক, জানি না তাও। তবে বেশ মনে পড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জনসভায় শ্রোতাদের বড় একটা অংশের যোগান দিত আদমজী। সেসব শ্রমিকের দু’চারজন অথবা আরও বেশি, যে বা যারা আজও বেঁচে আছেন, ভাল না খারাপ, সেটা ধর্তব্য নয়। তাদের কি সেই কর্মব্যস্ত কর্মমুখর আদমজীর কথা মনে হলে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে! বহু দূরের বহু যুগের ওপার থেকে ভেসে আসা মিলের ভোঁ ভোঁ সাইরেন এবং পাট কিংবা পাটজাত পণ্য বোঝাই মালবাহী ট্রেনের মুহুর্মুহু হুইসেলের স্মৃতি ও শ্রুতি ভেসে ওঠে মানসপটে! কেন যেন বড় জানতে ইচ্ছে করে।

দুঃখজনক হলো, বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপসনে হোক অথবা হোক না কেন নিজেদের হঠকারিতায়, আদমজীকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি চিরতরে। এ রকম একে একে হারিয়েছি খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল, কর্ণফুলী পেপার মিল, বাওয়ানী এবং তারও আগে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন কটন মিল, ঢাকেশ্বরী কটন মিল ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় কথা, এসব মিল ও শিল্পকারখানা অদক্ষতা, অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে একের পর এক বন্ধই করিনি, এগুলোর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নির্বিচারে লুটপাটও করেছি। সর্বোপরি বিকেন্দ্রীকরণ তথা প্রাইভেটাইজেশনের নামে যা হয়েছে ও হচ্ছে, তাও অবাধ ও একচ্ছত্র লুটপাট। জানি না, পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে এ রকম হয়েছে কিনা!

আদমজী নিয়ে এত স্মৃতিকাতর ও দুঃখবোধের কারণ হলো, ইদানীং দেখতে পাচ্ছি সরকার বুঝি আবার বাংলার পুরনো ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাইছে স্বমহিমায়, স্বগৌরবে। জানি না, সরকার ও নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে কতটা উদ্যমী ও আন্তরিক! তবে মনে সততই প্রশ্ন জাগছে সেটা কি আদপেই কোনদিন সম্ভব হবে? স্বর্ণসুত্র, সোনালি আঁশের সুদিন কি আবারও ফিরে আসবে এই বাংলায়?

সরকার সম্প্রতি ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি এই ছয়টি পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। দেখতে পাচ্ছি, এ সম্পর্কে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০। এটি বাস্তবায়নের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং ও তদারকির জন্য গঠন করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোথাও কোথাও আইন না মানার অপরাধে অর্থদ-ও করা হয়েছে। আবার বিভিন্ন এলাকায় ধর্মঘট-অবরোধের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, আইনটি বাস্তবায়ন করার আগে সরকার মাঠ পর্যায়ে যথাযথ গবেষণা এবং ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে কিনা! এখনও পর্যন্ত যেসব খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে এখনই নিরাশ না হলেও আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু দেখছি না।

প্রথমত বলি পাটের বস্তার কথা। এটা সত্য যে, পাটের বস্তা প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে অনেক আগেই। ছেলেবেলায় বেত ও বাঁশের ঝুড়ি এবং তারও পরে চট বা ছালার হাতব্যাগ নিয়ে আমরা বাজারে যেতাম। সে ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে অনেক আগেই। বলা যায়, প্রায় পুরোটা বাজার দখল করেছে পলিথিন। এখন প্রায় সবাই পলিথিনের ব্যাগ নিয়ে বাজারে যায়। কেউ কেউ না নিলেও অসুবিধা নেই। দোকানের সবকিছুই প্রায় পলিথিনের প্যাকেটে, ছোট-বড় মাপে ও মোড়কে। আপনি যা কিছুই কেনেন না কেনÑ মাছ, মাংস, ডিম থেকে শুরু করে হলুদ-মরিচ-মসলা, চাল-ডাল, তেল-নুন, আটা-ময়দাÑ সবই পাবেন পলি-প্যাকে। হ্যাঁ, তেলও। দশ-বিশ টাকার সয়াবিন কিংবা সরষের তেলও মুদি দোকানদার পলিপ্যাকে ঢুকিয়ে দিয়ে পাট বা সুতির সুতা অথবা রাবারব্যান্ড দিয়ে বেঁধে দেয়। সস্তা ও সাশ্রয়ী বলে কথা! পানিরোধক, বৃষ্টিতে ভেজে বা পচে না। পাটের ব্যাগ সাইজে যদি ছোটও হয় দামে পোষাবে না। ওজনেও। কাগজের ঠোঙ্গার ওজন বেশি বিধায় সেটিও প্রায় বিদায় নেয়ার পথে। পাট কি আদৌ কোনদিন খুচরাখাচরা পণ্যের মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে? মনে হয় না। তরল পণ্যের জন্য আগে ছিল কাঁচের শিশি বোতল। এখন প্লাস্টিক। টেকসই ও সাশ্রয়ী। সহজে ভাঙ্গে না। বার বার ব্যবহারযোগ্য। আগে কোক বা সেভেনআপ খেলে বোতল ফেরত দিয়ে জমা টাকা নিয়ে আসতে হতো। ঝামেলা! প্লাস্টিকের বোতলে তা নেই। ঝেড়ে কাশো আর কি! আগে মিষ্টি দিত শাল পাতার ঠোঙ্গায় এবং মাটির হাঁড়িতে। সমূহ ভাঙ্গার ভয় থাকত। চিনির সিরা চুইয়ে পড়ে। এখন পলিথিনে। হাত সুগার ফ্রি!

এবার আসি বড় ব্যাগ বা বস্তা প্রসঙ্গে। বলা হয়েছে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনিতে পাটের তৈরি চটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। আশৈশব অভিজ্ঞতায় সুবিধা-অসুবিধা এ দুটোই আমরা দেখেছি। একদা প্রায় সর্বত্র পাটের বস্তার সর্বতোমুখী ব্যবহার দেখেও আমরা বলব, নদীমাতৃক ও বৃষ্টিবহুল দেশে, বন্যা ও প্লাবনের দেশে সেসব ভিজে যায় প্রায়ই। চিনি যায় গলে, সার যায় ভিজে। ভিজে দলাদলা হয়ে যায় চাল ও গম। ধান, ভুট্টাও ভেজে বৈকি। তদুপরি পরিবহনে বিভিন্নভাবে ও উপায়ে হয় অপচয়। যেমন স্যাম্পল বা নমুনা পরীক্ষার জন্য ধান-গম-চালের বস্তায় বারসুঁই বা ফোঁড়নি ব্যবহার করতেই হয়। তাতে প্রতিবারই কিছু না কিছু অপচয় হয়ে থাকে। পাটের বস্তা নরম হলে ফেটে যেতে পারে ওঠানো-নামানোর সময়। ইঁদুরে তো কুটকুট করে কাটেই। এর সহজ একটা সমাধান হতে পারে। পাটের বস্তার ভেতরে প্লাস্টিকের পাতলা একটা লাইনিং দেয়া। কিন্তু তাতে খরচ বাড়ে অনেক। তদুপরি আবার সেই প্লাস্টিক! স্বীকার করতেই হবে যে, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বস্তা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও টেকসই।

এবার আসি আসল কথায়, কাজের কথায়। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় যে এত তড়িঘড়ি ও তোড়জোড় করে পাটের বস্তা দিয়ে কয়েকটি পণ্যের মোড়কীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে চাইছে সে বিষয়ে তাদের যথাযথ প্রস্তুতি আছে কিনা! বরং শুরুতেই দেখছি সমন্বয়ের প্রকট অভাব। যেমন সার নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও ধর্মঘট হয়েছে ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানিয়েছেন, ‘কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী পাটমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে পাটের বস্তায় সার পরিবহনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বলেছেন।... সুতরাং ধর্মঘট চলবে।’ অন্যদিকে কাঁচা পাট রফতানিতে সরকারী নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। সরকার পক্ষের বক্তব্য, ছয় ধরনের পণ্যে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ফলে আগের চেয়ে এ বছর অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ লাখ বেল কাঁচা পাটের প্রয়োজন পড়বে। দেশে বছরে গড়ে পাট উৎপাদন হয় ৭০ লাখ বেল। সে অবস্থায় কাঁচা পাট রফতানি অব্যাহত রাখা হলে স্থানীয় বাজারে সঙ্কট তৈরি হবে। আর ব্যবসায়ীদের বক্তব্য প্রতিবছর গড়ে ১০ লাখ বেল কাঁচা পাট রফতানি হয়। দুই থেকে আড়াই লাখ বেল কাঁচা পাট রফতানির এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) ইতিমধ্যে খোলা হয়েছে। এসব এলসির বিপরীতে পাট রফতানি করতে না পারলে দেশী-বিদেশী বিক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তদুপরি রফতানির জন্য উন্নতমানের পাট সংগ্রহ করা হয় বিধায় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে দাম পাওয়া যায় না। তবে আশার কথা এই যে, এ বছর ইতোমধ্যে পাটের বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। গত বছর যে পাটের দাম ছিল প্রতি মণ ১৪০০-১৬০০ টাকা, এবার মৌসুমের শুরুতে তা বিক্রি হয়েছে ১৬০০-১৮০০ টাকায়। মানভেদে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ হলে তা আরও বাড়তে পারে।

৭০ লাখ বেল পাট উৎপাদনের কথা লিখেছি। এর মধ্যে স্থানীয় ও রফতানি বাজার মিলিয়ে চাহিদা রয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ বেল। এর বাইরে দেশের সরকারী-বেসরকারী পাটকলগুলো ব্যবহার করে ৫-৬ লাখ বেল। এখন থেকে ছয় পণ্যসহ যেখানে যতটুকু সম্ভব পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় আরও অতিরিক্ত ১৫-২০ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদনের প্রয়োজন পড়বে। প্রশ্ন হলো, এই পরিমাণ জমি পাট চাষের উপযোগী ও প্রস্তুত কিনা। তদুপরি কৃষক পাট চাষে আদৌ সম্মত কিনা!

লেখাটা পড়ে কারও কারও মনে হতে পারে যে, পাটের বিরুদ্ধে আমাদের বুঝি কোন বক্তব্য আছে। আসলে কিন্তু আদৌ তা নয়। বরং আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় যেভাবে চাইছে ঠিক সেভাবে পাটের সুদিন তথা সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনা যাবে না। কয়েকটি পণ্যে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও এর হারানো দিন ফিরে আসবে না। চাষীরা ধান বা অন্য কোন অর্থকরী ফসল বাদ দিয়ে মনোনিবেশ করবে না পাট চাষে। সে অবস্থায় করণীয় কি?

বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম পাটের জেনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকে। সরকার তথা নীতিনির্ধারকদের চিন্তাভাবনা ও কাজ করতে হবে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে। উন্নতমানের হাইব্রিড পাটবীজ, যা হবে উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী, তা উদ্ভাবন করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাটবীজ রফতানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস বা মেধাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে প্যাটেন্ট নিতে হবে। মনসান্টো যা করে থাকে। কিছু সময়সাপেক্ষ হলেও পাট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারে। কাঁচা পাটের ম- থেকে শুরু করে আঁশ হতে প্রস্তুত গাড়ির বডি, যত বহুমুখী করে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, করতে হবে সে সব। মোট কথা, পাটকে শুধু বস্তায় সীমিত রাখলে কারও কোন লাভ হবে না আদপেই। পরিবেশ সুরক্ষায় পাটের বিকল্প নেই স্বীকার করেও বলতেই হয়, প্লাস্টিক বা পলিথিন কোনদিনই উৎখাত করা যাবে না একেবারে। বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার খুবই প্রতিযোগিতামূলক। সাশ্রয়ী অথচ টেকসই পণ্যের সুবর্ণ যুগ। পাটকে সে সবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই টিকে থাকতে হবে। নিছক আইন করে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন গভীরভাবে। তা না হলে আদমজী কেসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।