২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের সঙ্গে কমেছে সব ধরনের মূল্যসূচক। যার কারণে আগের সপ্তাহের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে পারল না বাজার। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আগের সপ্তাহের চেয়ে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩৪০ কোটি টাকা। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৬৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার শেয়ার।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্ষ সমাপনীকে কেন্দ্র করে অনেক বড় বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করছেন। এছাড়া মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় ছোট-বড় অনেক পোর্টফোলিও থেকেও শেয়ার বিক্রি হচ্ছে। এদিকে অবসায়নে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তালিকাভুক্ত দুটি মিউচুয়াল ফান্ড, বাজার দরের ভিত্তিতে যেগুলোর মোট সম্পদমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। বিক্রির চাপ বৃদ্ধিতে এরও একটি প্রভাব ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টদের কাছে সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য খবরগুলোর মধ্যে ছিল ব্রোকারেজ হাউসের নতুন শাখার ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার না, নবেম্বরে উচ্চ রফতানি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে আসা, কলমানি ও ব্যাংকঋণের সুদের নিম্নমুখী হার এবং পাবলিক ইস্যু লেস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার খসড়া সংশোধনী অনুমোদন।

জানা গেছে, বাজারে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শাখা খোলার অনুমোদনে ডিএসইর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঋণের চাহিদা আশানুরূপ না বাড়ায় অক্টোবরে সুদের হার কমিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংক। এদিকে মূলত তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে নবেম্বরে রফতানি প্রবৃদ্ধি তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে তথ্য রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর। অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে, যাতে আমদানি হ্রাসই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এদিকে, ডিএসইর সার্বিক বা ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ১ দশমিক ২৪ শতাংশ বা ৫৭ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা ৩১ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। অপরদিকে শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক কমেছে ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা ১৮ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪২টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৫০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির। আর লেনদেন হয়নি ৫টি কোম্পানির শেয়ার।

গত সপ্তাহে বাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ এবং রসায়ন খাতের কোম্পানি কেয়া কসমেটিকসের পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত বছরেরও কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : কাসেম ড্রাইসেল, বিএসআরম স্টিল, স্কয়ার ফার্মা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মা, কেডিএস এক্সেসরিজ, সাইফ পাওয়ার টেক, আফতাব অটোস, এমআই সিমেন্ট ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : হাক্কানী পাল্প, এ্যাপেক্স স্পিনিং, ্িজকিউ বলপেন, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, মেঘনা লাইফ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কেয়া কসমেটিকস, নিটল ইন্স্যুরেন্স ও এ্যাপেক্স ট্যানারি।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ফার ইস্ট নিটিং, কাসেম ড্রাইসেল, ইউনাইটেড এয়ার, রূপালী ব্যাংক, এশিয়ান টাইগার ফান্ড, আমান ফিড, অলটেক্স ইন্ড্রাস্টিজ, ইফাদ অটোস, ব্র্যাক বন্ডস ও ফনিক্স ফাইন্যান্স।