২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফিরে গেলেন আফ্রিদি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল টি২০) তৃতীয় আসরে খেলে পাকিস্তান চলে গেছেন শহীদ আফ্রিদি। সিলেট সুপার স্টারসের হয়ে বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচটি খেলে শুক্রবার সকালেই বাংলাদেশ ছাড়েন ‘বুমবুম’ আফ্রিদি। এবার বিপিএলে ৫টি ম্যাচ খেলেন এ অলরাউন্ডার। ৪ ম্যাচে ব্যাটিং করে ২৯.০০ গড়ে ৮৭ রান করেন। আর বল হাতে ৩ উইকেট নেন।

সিলেট সুপার স্টারস ৫ ম্যাচ খেলে ফেলার পর দলের সঙ্গে যোগ দেন আফ্রিদি। প্রথম ৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জয় ছিল সিলেটের। এরমধ্যে আবার টানা চার ম্যাচে হেরেছে। দলের নেতৃত্ব ছিল তখন মুশফিকুর রহীমের হাতে। ষষ্ঠ ম্যাচে এসে আফ্রিদি দলের সঙ্গে যোগ দেন। সেই ম্যাচটিও সিলেট হারে। চট্টগ্রাম পর্ব শেষে যখন ঢাকায় সিলেট খেলতে নামে, তখন নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। মুশফিকুর রহীমের পরিবর্তে অধিনায়কের দায়িত্ব আফ্রিদির কাঁধে পড়ে। মুহূর্তেই যেন বদলে যায় সিলেট। আফ্রিদির ছোঁয়ায় পরের ৪ ম্যাচের ২টিতেই জিতে।

ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ফিরতি লেগের ম্যাচে ৬ বলে জিততে ১০ রান দরকার ছিল। এমন মুহূর্তে চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান আফ্রিদি। এবার খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। পরের ম্যাচে বরিশাল বুলসের বিপক্ষে ব্যাটই করতে হয়নি আফ্রিদিকে। তবে বল হাতে নেন ২ উইকেট। নিজের তৃতীয় ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ২ রান করেন। ঢাকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে নেমে দুই ছক্কাসহ ৭ বলে অপরাজিত ১৫ রান করে নিজেই ম্যাচ জেতান। শেষ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৬ রান করেন ও ১ উইকেট নেন।

এমন অবস্থা হয়, যে দলটি নিশ্চিত বাদ পড়বে ধরে নেয়া হয়; সেই দলটিই শেষ চারে খেলার সম্ভাবনা জাগায়। শেষ ম্যাচটিতে যদি সিলেট জিততো, তাহলে ঢাকা ডায়নামাইটসের সমান ৮ পয়েন্ট হয়ে যেতো। তখন রানরেটে শেষ চারে সিলেটও খেলতে পারতো। কিন্তু সিলেট হেরে যাওয়ায় ঢাকা শেষ চারে খেলে। সিলেটের বিদায় ঘটে। আর তাই বাংলাদেশে বসে থেকে লাভ নেই। আর কোন খেলা যে নেই। তাই আফ্রিদি পাকিস্তান চলে গেছেন।

প্রথম আসরেও খেলেন আফ্রিদি। দ্বিতীয় আসরে কোন পাকিস্তানী ক্রিকেটার বিপিএলে অংশ না নেয়ায় আফ্রিদিও খেলেননি। প্রথম আসরে ঢাকার হয়ে মাত্র ২ ম্যাচ খেলেন। ১ ম্যাচ ব্যাট করতে পারেননি। রান করেন অপরাজিত ২৭। শুধু আফ্রিদিই নন, সিলেটের সব বিদেশী ক্রিকেটারই দেশ ছেড়েছেন।

ইংল্যান্ডের রবি বোপারা (৯ ম্যাচে ১৩২ রান ও ১০ উইকেট), জসুয়া কব (৪ ম্যাচে ৫১ রান), ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার ফিদেল এ্যাডওয়ার্ডস (২ ম্যাচে ২ উইকেট), শ্রীলঙ্কান দিলশান মুনাভিরা (৮ ম্যাচে সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৩ রান ও ১ উইকেট), ইংল্যান্ডের ওয়াইজ শাহ (১ ম্যাচে ১১ রান) ও পাকিস্তানের পেসার সোহেল তানভির (৫ ম্যাচে ১ উইকেট) বাংলাদেশ ছেড়ে নিজ নিজ দেশে চলে গেছেন। সিলেটের আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় চিটাগাং ভাইকিংস। দলটির পাকিস্তানী মোহাম্মদ আমির, তিলকারতেœ দিলশানরা আগেই ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচ খেলেছেন। তাতেই নজর কাড়তে পেরেছেন আফ্রিদি। বিপিএল উপভোগও করেছেন। নিজেই বলেছিলেন, ‘বিপিএল উপভোগ করেছি আমি।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘অনেক নতুন মুখ, এত সহজ না এ্যাডজাস্ট করা। আলহামদুলিল্লাহ পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমরা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছি। স্থানীয় বেশ কিছু মেধাবী খেলোয়াড় রয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে খেলে উপভোগ করেছি এবং তাদের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করেও অনেক উপভোগ করেছি।’

আফ্রিদি বলেন, ‘যখন টুর্নামেন্ট শুরু হয় তখন আমি ছিলাম না। শুরুতে আমরা কিছু ম্যাচ খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। অনেক বেশি একাদশ পরিবর্তনের কারণে সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন ছিল। আমরা দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারি নাই ব্যাটিং এবং বোলিং দুই বিভাগেই। কিছু খেলায় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছি। আমাদের জেতা দরকার ছিল। আমরা সব ম্যাচেই অনেক ভুল করেছি।’ আফ্রিদি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়েও বলে গেছেন। জানিয়েছেন, ‘মাশাআল্লাহ দলে বেশ কিছু দারুণ তরুণ খেলোয়াড় আছে। যে দলের বিপক্ষেই খেলেছি সেখানেই বেশ কিছু তরুণ মেধাবী খেলোয়াড় ছিল, যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত।’ লীগ পর্বে সিলেটের শেষ পাঁচ ম্যাচে আফ্রিদিকে মিলেছে। কিন্তু শেষ চারে আর খেলতে পারেনি সিলেট। তাই আফ্রিদিকেও দেখা যাচ্ছে না। চলে গেছেন আফ্রিদি।