২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে

  • ‘ক্যালিফোর্নিয়া হত্যাকা- মার্কিনীদের অভিবাসীবিরোধী করে তুলেছে’

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ভীতি বেড়ে চলেছে। আমেরিকার অনেক ভোটার যাদের মধ্যে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচকরাও আছেন গত এক সপ্তাহে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারাও ট্রাম্পের প্রস্তাব একেবারে উড়িয়ে দিতে রাজি নন। তারা মনে করেন প্রত্যেকের মনে এখন একটি ভীতি কাজ করছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের পেছনে এই ভীতিবোধ কাজ করে থাকতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইন।

২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর আমেরিকায় এখন সবচেয়ে মুসলিম ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাপিটল হিল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনোর কাছাকাছি শহরতলি এলাকা যেখানে কেটেছে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ট্রাম্পের শৈশব, সর্বত্র এক ধরনের মুসলিম ভীতি কাজ করছে। সান বারনারডিনোতে কয়েক সপ্তাহ আগে বন্দুক হামলায় ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। হামলাকারীরা জঙ্গী গ্রুপ ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এস্টেটের বাসিন্দা (এই এলাকাটিতেও ট্রাম্প এক সময় ছিলেন) যারা ট্রাম্পেরবিরোধী তারাও মুসলিমদের বিষয়ে তাদের ভীতির কথা প্রকাশ করেছেন। ৬৬ বছর বয়স লিওনেজ গালান বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অনেক কিছুই করতে পারে।’ ট্রাম্পের বক্তব্যকে তিনি প্রথম দিকে সমালোচনা করলেও পরে সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন গালান। হিজাব পরিহিত মুসলিম নারীদের সম্পর্কে জার্মান অভিবাসীর সন্তান ট্রাম্প বলেন তার এলাকায় কোন নারীকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখলে তিনি ভয় পান। তিনি মনে করেন তারা মানুষ হত্যা করতে এসেছে। এলাকাটি ডেমোক্র্যাটিক দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে অনেকে এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামাকে ভোট দিয়েছেন। অনেকে হিলারিকে সমর্থন করবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। তাদেরই একজন এ্যান্ড্রু বেকার। তিনিও এখন মুসলিম আতঙ্কে ভুগছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ‘মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক।’

যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা কোন নতুন ঘটনা নয়। ১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে এ্যাটর্নি জেনারেলকে লক্ষ্য করে তার বাসভবনে হামলা চালান হয়েছিল। কিন্তু তিনি অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে বেঁচে যান। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় থেকে শুরু হয়। ইউরোপ থেকে আসা শরণার্থীদের বহিষ্কার করাও শুরু হয়। ইতিহাসবিদ ওয়েন হিকরি যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনা প্রথমবারের মতো মার্কিনীদের অভিবাসীবিরোধী করে তোলে। ঘটনাটি প্রথম ‘রেড স্কেয়ার’ নামে পরিচিত লাভ করে। হিকরি মনে করেন, ‘সম্ভবত ইতিহাস থেকে আমাদের শেখার কিছু বিষয় রয়েছে।’ মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার যে আহ্বান রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশী ট্রাম্প সম্প্রতি করেছেন সে বিষয়ে কথা বলছিলেন হিকরি। তিনি বলেন, এই ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং ইসলামী চরমপন্থার সঙ্গে লড়ছে যেসব দেশ ওইসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ওপর আরও বেশি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি দেয়া হোক। এ বিষয়ে একটি সীমারেখা টানা জরুরী বলে তিনি মনে করেন। বিদেশী শরণার্থী, অপরিচিত সংখ্যালঘু ও সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কিছু নয়। ট্রাম্প যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তাকেও মার্কিন রাজনীতিতে নতুন কোন ঘটনা নয় বলেই মনে করেন হিকরি।

নির্বাচিত সংবাদ