২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোটারের মন জয় অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীতে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। এখনও প্রার্থীদের প্রতীক ও আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও প্রার্থীরা শীতের কুয়াশা ভেদ করে ছুটছেন ভোটারের ঘরে ঘরে। গৃহিণীর রান্নাঘর থেকে শুরু করে ফসলের ক্ষেতে কৃষকের সঙ্গে দেখা করে ভোট চাইতে ভুলছেন না প্রার্থীরা। যেখানেই মানুষের বিচরণ সেখানেই ছুটে যাচ্ছে নিজের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।

প্রতীক না পেলেও ভোটের মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ছুটে বেড়াচ্ছেন মাঠে-ঘাটে-হাটেও। রাজশাহীতে ১৩ উপজেলায় ৬০ মেয়রপ্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৮৫ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৩৯ জন নারী প্রার্থীই ছুটছে উর্ধশ^াসে। বিজয়ী হতে গেলে ভোট প্রয়োজন। আর ভোট আছে সাধারণ মানুষের কাছে। তাই প্রার্থীদের এখন একটাই লক্ষ্য প্রার্থীদের কাছে ছুটে যাওয়া। এ কারণে কদরও বেড়ে গেছে ভোটারদের।

সকাল থেকে প্রার্থীরা বাড়ি থেকে বের হয়ে ছুটছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। ইতোমধ্যে নিজ পৌর এলাকায় কোন দিকে অবস্থান শক্ত, কোন দিকে অবস্থান নরম তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। অপেক্ষকৃত দুর্বল এলাকাগুলোতে চলছে ভোটারদের মন জয়ের অভিযান। রাজশাহী কাটাখালি এলাকার বিএনপির বিদ্রোহীপ্রার্থী সিরাজুল ইসলাম জানান, গত নির্বাচনে তিনি মাত্র ৫২ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। এবারেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। মাত্র কয়েকদিনের প্রচারে ভোটারদের সাড়া দেখে তিনি বেশ খুশি।

তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। তবে স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষ প্রতীকের উপরে নির্ভর করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে না। সাধারণ মানুষ ভোটের মাঠে ব্যক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের সবখানেই এখন চলছে আমন কাটাই-মাড়াই মৌসুম। সাধারণ মানুষের বেশি সংখ্যক মানুষ এখন মাঠ ব্যস্ত। তাই প্রার্থীরা সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন মাঠেও। আর ঘরে ঘরে গৃহিণীর রান্নাঘরেও যাচ্ছেন সামান তালে। একজন বিদায় নিচ্ছেন তো আরেকজন এসে হাজির। এভাবেই ভোটের উৎসব শুরু হয়েছে সবখানে।

শনিবার রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভার বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজকে পৌর এলাকার শুনশুনি পাড়ায় দেখা যায় ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত শ্রমিকদের সঙ্গে উঠোনে বসে ধানকাটার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে।

মেয়রপ্রার্থী হাফিজ জানান, সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার বিকল্প নেই। সে কারণে সাধারণ মানুষ যেখানেই থাকবেন সেখানেই ছুটে যেতে হবে। সাধারণ মানুষ তাকে ভালভাবে গ্রহণ করেছে। সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে তিনি আশা করছেন। তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চিনাশো গ্রামের গৃহিণী আফরোজা জানান, সকাল হলেই প্রার্থীরা ছটে আসছেন বাড়িতে। রান্নাঘরেও ঢুকে যাচ্ছেন তারা। এতদিন অনেকের ছায়া না পড়লেও এখন আসছেন অতিতের ভুল স্বীকার করে নিচ্ছেন আবার ভোট চাচ্ছেন।