১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আড়াইহাজারে গ্রামবাসী যে কারণে আইন হাতে তুলে নেয়-

মোঃ খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিগত দিনে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার ক্ষোভ থেকেই বিক্ষুব্ধ জনতা আট ডাকাতকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা দাবি করছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছে, শুষ্ক মৌসুম এলেই ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যায়। ডাকাতি সংঘটিত হলে থানায় মামলা করলেও পুলিশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার বা ডাকাতদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এ কারণে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আইন হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে ডাকাত হত্যা করেছে বলে অনেকেই অকপটে বলেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ভাই ভাই ট্রেডার্স নামের একটি চালের দোকানে ডাকাতির জের ধরে গণপিটুনিতে নিহত হয় আটজন। এ দোকান থেকে কিছুটা দূরে বাজারের আরেক চালের আড়ত রয়েছে, যার নাম হানিফ এ্যান্ড ব্রাদার্স। আড়তের মালিক এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি হাজী মোহাম্মদ সামসুদ্দিন জানান, পুরিন্দা বাজার থেকে এক কিলোমিটার দূরে তার আরেকটি চালের আড়ত রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে ১৯ নবেম্বর তার বাগবাড়ি বাজারের দোকানে ডাকাতি হয়। ওই দিন রাত সাড়ে তিনটায় ডাকাতরা পুরিন্দা বাজারের ঘটনার মতোই দারোয়ানকে হাত-পা বেঁধে রেখে তার দোকান থেকে ১৯৬ বস্তা চাল নিয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি থানায় ডাকাতির মামলা করতে গেলে পুলিশ ডাকাতির মামলা না নিয়ে চুরির মামলা নেয়। চুরির মামলায় পুলিশ যদি আসামি গ্রেফতার করত তাহলে আফসোস থাকত না। এ চুরির মামলায় কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি। চালও উদ্ধার হয়নি। তিন বছর আগে এই পুরিন্দা বাজারের সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর থেকে ফজরের নামাজের সময় তিন শ’ বস্তা চালসহ ট্রাক নিয়ে যায় ডাকতরা। পুলিশকে বললে কোন লাভ হয় না। তাই ওই ঘটনায় কোন মামলা করেননি বলে জানান হাজী সামসুদ্দিন।

একই বাজারের হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার এনামুল হক বললেন, ‘ভাই, মানুষ মারা খারাপ। আমরা এটা সমর্থন করি না। কিন্তু হাজার হাজার মানুষ উত্তেজিত হয়ে গেলে তখন আর নিয়ন্ত্রণ করার কিছু থাকে না।’ তিনি এই উত্তেজনার জন্য পুলিশকে দায়ী করে বলেন, পুলিশ বলে আড়াইহাজারে নাকি ডাকাতি কমে গেছে। অথচ প্রায়ই ডাকাতি ঘটছে। টেকপাড়ায় কয়েক মাস আগেও এক রাতে চার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাগবাড়িতে এক মাস আগে চালের দোকানে ডাকাতি হলো। ডাকাতির বিষয়ে মামলা হলে সে মামলা দশ-পনেরো বছর বাইতে হয়। উল্টো হয়রানি। এ কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে হয়ত গণপিটুনি দিয়ে ডাকাতদের মেরে ফেলেছে। বাজারে আসা টেকপাড়ার কাওসার, তাঁত শ্রমিক কামিজ উদ্দিন ও বাজারের সরকার স্টোরের আমিনুল ইসলাম সরকার বললেন, দিনের পর দিন এলাকার ডাকাতির ঘটনার বিচার না হওয়ায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ একে তো ডাকাত ধরে না, আবার ডাকাত ধরলে দেখা যায় দুই-তিন মাস পরই ডাকাত বের হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবারও ঘটনার অনেক পর পুলিশ আসে। পুলিশ সময়মতো এলে হয়ত এতগুলো মৃত্যুর ঘটনা ঘটত না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে গণপিটুনির সময় এক ডাকাত একটি বাঁশঝাড়ে গিয়ে লুকায়। এ সময় তাকে বাঁশঝাড় থেকে বের করে এনে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।