২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হামলা চালিয়ে ঘরছাড়া ॥ পাঁচ দিন খোলা মাঠে পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের খয়রা এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়ি দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী চক্র। পুলিশের সহায়তায় ওই বাড়ির মালিক গর্ভবতী গৃহবধূ রাহেলা বেগমকে বের করে দিয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে দুই সন্তান নিয়ে তারা এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। এ ঘটনায় রাহেলা মোহনপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। সর্বশেষ শুক্রবার রাতেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ১০ বছর আগে মোহনপুর উপজেলা খয়রা গ্রামে ইয়াছিন আলী শেখ আলজামী নামের একটি হ্যাচারিতে ম্যানেজারের চাকরি নেন। তিনি তার স্ত্রী রাহেলা ও সন্তান নিয়ে খয়রা বাজারের পশ্চিমদিকে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। হ্যাচারিতে মন্দা দেখা দিলে পূর্বের মালিক হ্যাচারিটি ভাড়া দেন মৌগাছি ইউপি চেয়ারম্যানের জামাই শরিফুল ইসলামকে। নতুন মালিক শরিফুল ইসলাম আগের মতোই ইয়াছিন আলীকে ম্যানেজার হিসেবে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সঙ্গে ওই ফার্মে পার্টনার হিসেবে অংশ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তখন থেকে ইয়াছিন আলী এ নিয়ে হ্যাচারিটি আবারও দাঁড় করেন।

তবে চেয়ারম্যানের জামাই শরিফুল ইসলামের চোখ পড়ে ইয়াছিন আলী পাকা বাড়ির ওপর। বেশ কিছুদিন থেকেই ইয়াছিনের পরিবারকে বাড়িছাড়া করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খান ও জামাই শরিফুল ইসলাম মিলে ইয়াছিনের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন।

বর্তমানে ইয়াছিন কুমিল্লা গিয়ে ফার্মে চাকরি নেন। এ সুযোগে গত ৮ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ও শরিফুল ইসলাম মিলে রাহেলার বাড়ি গিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বের করে দেয়। রাহেলা দুই শিশুসহ বাড়ির পাশে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে আবারও প্রভাবশালী শ^শুর-জামাই মিলে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া গর্ভবতী রাহেলা বিবির আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা ফ্রিজ ও খাট ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের কাছে টাকা পাব তাই তারা নিজ ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এলাকাবাসী জানান, শরিফুল লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তাদের বের করে দিয়েছে। এ বিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হামিদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।