২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাঁচশিল্প গ্রাম

ধান ও মাছ চাষে সমৃদ্ধ পশ্চিম বগুড়ার উপজেলা আদমদীঘি। এই উপজেলা তাঁত, কাঁচ, মাদুরসহ বিভিন্ন কুটির শিল্পে দেশব্যাপী সুখ্যাতি অর্জন করেছে। উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের শিহারি, ডুমুরিগ্রাম ও ধনতলা গ্রাম প্রায় ৬৫ বছর ধরে কাঁচশিল্প গ্রাম হিসাবে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিত। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাঁচের টুং টাং শব্দে মুখরিত গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি। নারী-পুরুষের নিপুণ হাতে অবয়ব পাচ্ছে হোমিও ওষুধের শিশি আর শো-পিচ ও শিশুদের নজরকারা খেলনা। অর্থনীতির শক্ত ভিত তৈরি করে এগিয়ে চলেছে স্বনির্ভরশীলতার দিকে। খুলে গেছে সম্ভাবনার দ্বার।

পঞ্চাশের দশক থেকে এই এলাকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই শিল্পের ওপর ভর করে দূর হয়েছে দারিদ্র্র্য। কম খরচ, যন্ত্রপাতিরও তেমন বাড়তি ঝামেলা নেই। সহজেই কাঁচ শিল্পে ভাল উৎপাদন সম্ভব হয়। এই কাঁচ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় চিকন পাইপের মতো কাঁচের স্টিক। কাঁচ শিল্পের উদ্যোক্তারা স্টিককাঁচ ঢাকা থেকে সংগ্রহ করেন। ওই কাঁচের স্টিকগুলোকে কুপির আগুনে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাপ দিয়ে ২/৩ ইঞ্চি লম্বা করে শিশি-বোতল তৈরি করা হয়। এগুলো হোমিওপ্যাথির তরল ও দানাদার ওষুধের বোতল বা শিশি ব্যবহত হয়। পাশাপাশি একই প্রক্রিয়ায় স্টিককাঁচ দিয়ে শো-পিচ এবং শিশুদের নজরকারা খেলনাও তৈরি হয়।

কাঁচ শিল্পের পণ্য তৈরিতে নারী-পুরুষ উভয়েই অংশগ্রহণ করছে। দরিদ্র বেকার কিশোর-যুবক এবং ছাত্র-ছাত্রীরাও কাজ করছে। প্রতিটি শ্রমিক সপ্তাহ শেষে কাজের মজুরি হিসাবে এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকে। মজুরি পাবার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ নেই, সবার অধিকার সমান। উৎপাদিত কাঁচ শিল্পের মালামাল অর্ডার অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় সব প্রান্তে পাঠায় ব্যবসায়ীরা। উপজেলার নশরৎপুর ইউনিয়নের ডুমুরিগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় এই শিল্পের নানা দিক নিয়ে। তিনি জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজির সমস্যা আছে। সমস্যা থাকার পরও এই তরুণ উদ্যোক্তা কাঁচ শিল্পকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখন তিনি বড় একটি কারখানার মালিক। তার কারখানায় কাজ করে ৭০ জন শ্রমিক। কাঁচ শিল্পকে কেন্দ্র করে এই এলাকার মানুষের অভাব দূর হয়েছে। স্বল্প পুঁজি, পরিবেশবান্ধব, কম ঝুঁকিপর্ণ এই শিল্প সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এগিয়ে যেতে পারবে আরো বহুদূর।

মোঃ হারেজুজ্জামান হারেজ

নির্বাচিত সংবাদ