২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডাক্তারকে খুঁজতে হয় না, ডাক্তারই খুঁজে নেয়

ডাক্তারকে খুঁজতে হয় না, ডাক্তারই খুঁজে নেয়

অনলাইন ডেস্ক॥ ভাবুনতো দেখি, ডাক্তার এসে আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে। সে বাড়িতে এসেই আপনার পুরো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। শুধু আপনারই নয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে আপনার পরিবারের সবার।

আপনার রক্তচাপ মাপা হচ্ছে, হৃদযন্ত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে চাকরী এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে। আপনার ঘরবাড়ি, আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কেও সতর্কতার সাথে নোট নিচ্ছেন ডাক্তার। যাচাই বাছাই করে দেখছেন আপনার বা আপনার পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যহানি ঘটে এমন কোনও উপাদান আশপাশে রয়েছে কিনা।

এটা কিউবার স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতির বিবরণ।

সার্বিক সফলতা না এলেও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার এই স্ব-উদ্যোগী পন্থাটা বেশ কাজ দিচ্ছে দেশটিতে সেটা বলাই যায়।

কিউবার স্বাস্থ্য সেবা মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতো বটে, বহু ধনী দেশের স্বাস্থ্য সেবাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যখাতে মাথাপ্রতি মোটে ৪৩১ মার্কিন ডলার খরচ করে কিউবার শিশুমৃত্যুর হার এখন যুক্তরাষ্ট্রের চাইতে কম, গড় আয়ু যুক্তরাষ্ট্রের সমান। অথচ যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্যখাতে মাথাপ্রতি খরচ করে সাড়ে আট হাজার ডলারের বেশী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করছে, তারা কিভাবে এটা করছে সেটা দেখে অন্য দেশগুলোও শিখতে পারে। ধনী কিংবা গরীব, সব দেশেরই এখান থেকে শেখার আছে।

কিউবায় সরকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয় এবং সবার জন্য এই সেবা সমান।

যদিও প্রতিরোধমূলক এই স্বাস্থ্য সেবার মডেলটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে দেশটিতে।

কিউবায় অবশ্য ডাক্তারের কোনও অভাব নেই।

এক কোটি দশ লাখ মানুষের জন্য দেশটিতে নব্বই হাজার ডাক্তার। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য আটজন ডাক্তার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য আড়াই জন ডাক্তার, যুক্তরাজ্যে রয়েছে ২.৭ জন।

দেশটিতে এই প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মডেলের চাবিকাঠি হচ্ছে বার্ষিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনা।

অর্থাৎ যে ডাক্তার বা যে ক্লিনিকটির আওতায় যতগুলো পরিবার এখানে চিকিৎসাধীন থাকবে তাদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে বার্ষিক ভিত্তিতে।

নাগরিকেরা যদি বার্ষিক পরীক্ষণের যদি ডাক্তারের কাছে বা ক্লিনিকে আসতে না চায় তাহলে তার বাড়িতে যাওয়া হবে, এবং যেখানেই থাকুক তাকে খুঁজে বের করা হবে।

ড. কুইভ্যাস হিল রসিকতা করে বলছিলেন, ‘আমার নার্স জানে তারা কোথায় থাকে। তারা দৌড়াতে পারবে, কিন্তু পালাতে পারবে না’।

বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষণের এই তথ্য সন্নিবেশ করে চিকিৎসকেরা নির্ধারণ করেন কোন নাগরিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন আর কোন নাগরিক ঝুঁকিমুক্ত।

এখানে উদ্দেশ্য একটাই, রোগ আসার আগেই ঠেকিয়ে দেবার চেষ্টা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা