২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তান এখনও প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে

  • মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, পাকিস্তান প্রমাণ করছে তারা শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের শত্রু ছিল না; তারা স্বাধীন বাংলাদেশেরও শত্রু। তারা দম্ভ করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কথা বলছে। একাত্তরের কথা অস্বীকার করছে। তারা আত্মসমর্পণ করেছিল ঠিকই কিন্তু প্রতিহিংসার আগুনে এখনও জ্বলছে। তাই পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতেই হবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ’৭১ সালের জন্য পাকিস্তান যাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়, সংসদে সে রকম একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে। আর পাকিস্তান সংসদকেও তা জানিয়ে দিতে হবে।

রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ১৩ জন বিশিষ্ট সাংবাদিকের জীবন নিয়ে বইটি প্রকাশিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, একাত্তরে সাংবাদিকদের হত্যার ঘটনা একটি ঠা-া মাথার হত্যাকা-। গণমাধ্যম কর্মীরা আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন তাদের লেখনীর কারণে। এটা একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। বর্তমানে সেই হত্যাকা-ের বিচার হচ্ছে। পাকিস্তানীরা প্রতিহিংসা করেছিল, কিন্তু আমরা যুদ্ধাপরাধের ন্যায়বিচার করছি। এই বিচার কোন প্রতিহিংসা থেকে নয়।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে স্থানীয় নির্বাচনের ডামাডোলে সেসব ঘটনা ধামাচাপা দেয়া যাবে না। নির্বাচনে অংশ গ্রহণের নামে আগুন সন্ত্রাসীদের মাফ করা যাবে না। তাদের বিচার করতে হবে।

ইনু আরও বলেন, খালেদার নেতৃত্বে জঙ্গীরা ক্ষমতা দখল করেছিল। তারা আবার ক্ষমতা দখল করতে চাচ্ছে। ক্ষমতা পুনর্দখলের সব অপচেষ্টা নস্যাত করে দিতে হবে। দেশের এই সাফল্য ধরে রেখে দেশকে নিরাপদ করে গড়ে তুলতে হবে। শেখ হাসিনার সরকার দেশের ইতিহাসের কলঙ্ক তিলক মুছে ফেলার জন্য যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে।

গণমাধ্যমকে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। গণমাধ্যম কর্মীদের সমকালীন সময়ের সঙ্গে খাপ খেয়ে চলতে হবে। সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে কোনভাবেই যাতে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সমবেদনা সৃষ্টি না হয়, তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, পরাজিত শক্তি পাকিস্তান আজ স্বাধীন বাংলাদেশেরও শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ দিচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আমরা যখন ন্যায়বিচার করছি, তখন তারা তাদের মিত্রদের বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাদের পক্ষে কথা বলছে। পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল, কিন্তু প্রতিহিংসার আগুনে তারা এখনও জ্বলছে। দেশের এই অগ্রযাত্রা রুখে দিতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, একাত্তরে গণহত্যার পর আজ পাকিস্তান গর্ব করে কথা বলে। সর্বত্র ক্ষমা চাওয়ার জন্য দাবি ওঠানো উচিত। আন্তর্জাতিক মহলে তাদের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এমন প্রস্তাব পাস করতে হবে যেন ’৭১ সালের জন্য পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়। সেটি পাকিস্তানকেও জানিয়ে দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির চেয়ারম্যান ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার পাকিস্তানী পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান।

ওই অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিকদের পরিবার বর্গও আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় তাদের বক্তব্যে উঠে আসে কান্না আর ক্ষোভ। আবেগতাড়িত হয়ে ওঠেন উপস্থিত দর্শক। শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারের কন্যা শমী কায়সার গণহত্যায় নিহত বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করার দাবি জানান। আরেক শহীদ সাংবাদিক শেখ আবদুল মান্নানের ছোট ভাই শেখ আহমেদ আব্বাস ক্ষোভ আর কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। প্রকাশিত বইটি একটি ইতিহাস হয়ে থাকল। এ ছাড়াও শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে জাহীদ রেজা নূর ও আ ন ম গোলাম মোস্তফার কন্যা ঊর্মি মোস্তফা আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক মোঃ শাহ আলমগীর সূচনা বক্তব্য রাখেন। পিআইবির চেয়ারম্যান ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু প্রমুখ।