২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাকে নাড়া দেয় ॥ সুজেয় শ্যাম

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাকে নাড়া দেয় ॥ সুজেয় শ্যাম

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী সুজেয় শ্যাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার জাদুকরী কণ্ঠ দিয়ে উজ্জীবিত করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের, সংগঠিত করেছিলেন লাখ লাখ শরণার্থীসহ সাধারণ মানুষকে। মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের সঙ্গীতাঙ্গন সম্পর্কে কথা হয় গুণী এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দিনগুলোর কথা বলুন?

সুজেয় শ্যাম : বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। আমি তখন ঢাকা রেডিওতে চাকরি করতাম। তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের অত্যাচার তখন চরমে উঠতে শুরু করে। আমি তখন বিভিন্ন মিছিলেও যোগ দিয়েছি। ঢাকা থেকে ১৬ মার্চ আমার জন্মস্থান সিলেটে যাই। ২৫ মার্চের রাতে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় পাকিস্তানী বাহিনীর নিষ্ঠুর বর্বরতায় সিলেট নগরীতেও ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করে। বোমা মেরে কালুরঘাট রেডিও স্টেশন বন্ধ করে দেয়ার পর আগরতলা হয়ে কলকাতায় পৌঁছাই। বহু কষ্টে কলকাতা ১৯’র ৫৭/৮ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে গিয়ে সন্ধান পেলাম স্বাধীন বাংলা বেতারের। ২৫ মে থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রোগ্রাম শুরু হয়, সেদিন ছিল কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন।

সে সময়ের উল্লেখযোগ্য কোন স্মৃতির কথা বলুন...

সুজেয় শ্যাম : আমার সবচেয়ে গর্বের দিন হলো ১৬ ডিসেম্বর। একাত্তরের এই দিনে শহীদুল ইসলামের লেখা এবং আমার সুরে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’ গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে প্রচার হয় পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণের পর পরই। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে বাঙালী ততদিন গর্বের সঙ্গে এই গানটি উচ্চারণ করবে। এছাড়া অসংখ্য স্মৃতি আছে, কিন্তু এখন সেগুলো বলে কোন লাভ নেই। শহীদুল ইসলামের কথা এবং আজিত রায়ের সুরে ‘তুমি ফিরে যাও’ গানটি রেডিওতে শোনার পর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের চিঠি দিয়েছিলেন।

যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছেন স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর কোনভাবে দেখেন?

সুজেয় শ্যাম : সেগুলো এখন মনে করতে ইচ্ছে করে না, কষ্ট হয়। ’৭৫-এর পর মুক্তিযোদ্ধাদের দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে তাদের এক অংশ কাজ করাটা আমাকে বেশি কষ্ট দেয়। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে কিন্তু স্বাধীনতা তো সবার জন্য। আমরা মুখে বলি দেশকে ভালবাসী কিন্তু কাজের বেলায় তার বিপরীত।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রভাব কেমন মনে করেন?

সুজেয় শ্যাম : আমার সন্তানকে সত্যি কথা না বললে, তারা সত্যকে জানবে কি করে? মুক্তিযুদ্ধের সময় তরুণদের দিয়ে ৫০টি গান করিয়েছি। নওশাদ ভাই আমাকে এই সব গানের ক্ষেত্রে অনেক প্রেরণা দিয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলার গানের জন্য আজ লাল সালাম দেই মেজর জেনারেল (অব) আমিন চৌধুরীকে। তাদের কারণে আজ স্বাধীন বাংলার গানগুলো বেঁচে আছে। তরুণ প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রভার তাদের ওপর পড়বে কি করে? তবে সত্য কোনদিন মরে না। আমি এখনও আশাবাদী একদিন আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারব।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বিজয় উৎসব উদ্বোধক আপনি, অনুভূতি কি?

সুজেয় শ্যাম : এক কথায়, আমি বিশাল ভাগ্যবান। আমার মতো মানুষের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বিজয় উৎসব উদ্বোধন করা, নিছক ভাগ্য ছাড়া আর কিছুই নয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলা গানের অবস্থান সম্পর্কে বলুন

সুজেয় শ্যাম : এখন মৌলিক গান তেমন হচ্ছে না। ক্লাসিক্যালের অবস্থাও তেমন। তবে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ক্লাসিক্যাল গানের ও বিবর্তন আনার চেষ্টা করছে, এটা প্রশংসার যোগ্য। এখন বেশিরভাগ গান হচ্ছে তারকা হওয়ার জন্য, আগে গান হতো শিল্পী হওয়ার জন্য। Ñগৌতম পা-ে