১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সামনে নির্বাচন ॥ রাজশাহীতে তৎপর মাদকচক্র

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ পৌর নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে আসতে শুরু করেছে মাদক। রাজশাহীর সীমান্তের মাদক সিন্ডিকেট চক্র পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ওপার (ভারত) থেকে নিয়ে আসছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। জেলার গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘার সীমান্ত দিয়ে এসব মাদকদ্রব্য এসে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন পৌর এলাকার গ্রামে গ্রামে। উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে যোগান নিতে এসব মাদক নিয়ে আসা হচ্ছে।

সর্বশেষ বুধবার জেলার চারঘাটে বিজিবির হাতে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার হয়েছে। জেনারুল ইসলাম নামের এ মাদক বিক্রেতা নদী সাতরিয়ে ফেনসিডিলগুলো এপারে নিয়ে আসছিল। ভোটের সময় মাদকের কদর বেশি ভেবে ওপারের ব্যবসায়ীরা টাকার মিনিময়ে তাকে পাঠিয়েছিল। তার কাছ থেকে ৫৩০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

চারঘাটের ইউসুফপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা জানান, চোরাকারবারী জেনারুল ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার সাহেবনগর এলাকার মজিবার রহমানের ছেলে। বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার মোক্তারপুর এলাকার নিচে পদ্মার চর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে তার বিরুদ্ধে চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা করেছে বিজিবি।

বিজিবির ইউসুফপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার আব্দুল কুদ্দুস জানান, ভারতীয় এসব চোরাকারবারীরা নদী সাতরিয়ে এসব মাদক বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। তাদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা মূলত এভাবেই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এপারের পৌর নির্বাচন শুরু হওয়ায় মাদকের কদর বেশি। এ কারণে এপারের চোরাকারবারী ওপারের সঙ্গে আঁতাত করে মাদকের চালান নিয়ে আসতে শুরু করেছে। তাদের টার্গেট এখন এপারের পৌর এলাকা।

জেলার গোদাগাড়ী ও বাঘা উপজেলা ছাড়াও সীমান্তবর্তী নাটোরের লালপুর সীমান্ত দিয়ে এখন মাদকদ্রব্য আসছে বলে জানিয়েছে সীমান্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। গোদাগাড়ীর মাদক সিন্ডিকেট সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে সীমান্তে। সুযোগ পেলেই তারা মাদকের চালান দেশে প্রবেশ করাচ্ছে। পদ্মাপাড়ের উপজেলা গোদাগাড়ী। নদীর ওপারে ভারতীয় সীমানা। এক সময়কার ধান, আম আর সবজির জন্য বিখ্যাত গোদাগাড়ী এখন দেশের সবচেয়ে বড় হেরোইন ও ফেনসিডিল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রবেশ করা ফেনসিডিল ও হেরোইনের ৮০ শতাংশই আসে এ পথে।