১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে অধিকতর তদন্ত করতে পারবেন ॥ হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় অধিকতর তদন্ত চেয়ে নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির করা আবেদনের নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে অধিকতর তদন্ত করতে পারবেন এবং ষড়যন্ত্রের একটি ধারাও যোগ করতে পারবে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন মন্টু ঘোষ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মনিরুজ্জামান কবির।

শুনানি চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে নারাজি আবেদনের পর ম্যাজিস্ট্রেট বিউটির বক্তব্যের ওপরে যে বিষয়ে পরীক্ষা করেছেন তার আদেশ চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। আবেদনকারী পক্ষ গত ১০ ডিসেম্বর ওই আদেশটি আদালতে দাখিল করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর শুনানির এক পর্যায়ে বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে মারাত্মক ত্রুটি আছে। তবে অধিকতর তদন্তের নামে শতভাগ অর্জন করতে গিয়ে যারা কারাগারে রয়েছেন তারা আবার কোন সুবিধা না নিয়ে নেন। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির করা মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশনার রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজ ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য ছিল।

গত ২৯ নবেম্বর রিটের ওপার শুনানি শুরু হয়। তার আগে গত ১ ডিসেম্বর এ রিটেরে ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি করেন আইনজীবীরা। গত ২৮ এপ্রিল র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। পরে নজরুল ইসলামের স্ত্রী অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি তুলে তার বিষয়ে বিচারিক আদালতে একটি নারাজি আবেদন করেন। গত ৯ নবেম্বর বিচারিক আদালত উক্ত নারাজি আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারিক আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে এবং মামলাটির আরও অধিকতর তদন্ত চেয়ে এ ‘ক্রিমিনাল রিভিশনর আবেদন করা হয়েছে।

পরে আইনজীবী মন্টু ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটির করা মামলায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়া হয়েছে। যেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ে গেছে। আমরা বিচারিক আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করলে আমাদের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। তাই গত সোমবার হাইকোর্টে আমরা এ চাঞ্চল্যকর মামলার আবেদনটি দায়ের করি।

সোমবার হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, এ মামলায় ষড়যন্ত্রের ধারা যুক্ত না থাকার বিষয়টিকেই শুনানির সময় ‘ত্রুটি’ বলা হয়েছিল। সাত খুনের ঘটনার পর হাইকোর্টের নির্দেশেই র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, এম এম রানা ও আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রশাসন তদন্ত কমিটিও করে আদালতের নির্দেশে।