১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেত্রকোনায় নবীন- প্রবীণের লড়াই

সঞ্জয় সরকার, নেত্রকোনা ॥ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছেÑ ততই জমে উঠছে নেত্রকোনা পৌরসভার নির্বাচনী প্রচার। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা কাক-ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরছেন পাড়া-মহল্লায়। সমর্থকদের নিয়ে করছেন শোডাউন। শহরের অলিগলি ছেয়ে ফেলেছেন পোস্টার-ব্যানার দিয়ে। মাইকে বাজাচ্ছেন প্রার্থীদের গুণকীর্তন করে গাওয়া গানের অডিও রেকর্ড। সব মিলিয়ে নির্বাচনী উৎসবে মেতে উঠেছেন পৌরসভার বাসিন্দারা।

নেত্রকোনা পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তিনজনই নিজ নিজ দল মনোনীত প্রার্থী। তারা হচ্ছেন- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম খান (নৌকা), জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম মনিরুজ্জামান দুদু (ধানের শীষ) ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সজীব সরকার রতন (কোদাল)। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের দুই প্রবীণ-নবীন প্রার্থীর মধ্যে। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলতেও ‘হাড্ডাহাড্ডি’ কিছু নয়। অতীতের ধারাবাহিকতায় অধিকাংশ ভোটার মনে করছেনÑ জয়-পরাজয় তাদের মোটামুটি জানা। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাকি।

এমন ভাবার পেছনেও নানা কারণ আছে। জানা গেছে, প্রায় ১শ’ ৩০ বছরের পুরনো এ পৌরসভায় কখনও বিএনপির কোন প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হননি। স্বাধীনতার পর সব নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা মেয়র হয়েছেন। গত নির্বাচনে বিএনপি কোন প্রার্থীই দিতে পারেনি এখানে। এবার বিএনপির প্রার্থী হয়ে মনিরুজ্জামান দুদু দলের ‘পেস্ট্রিজ’ রক্ষা করেছেন। কাজেই জয়-পরাজয়ের চেয়ে প্রার্থী দিতে পারাটাকেই ‘বড় ক্রেডিট’ হিসেবে দেখছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে দুদু অবশ্য জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তার দাবিÑ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি জয়ী হবেন। প্রসঙ্গত, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দুদু সম্প্রতি দলীয় কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার পক্ষে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ভোট চাচ্ছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান ইতোপূর্বে নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তার পিতা মরহুম আব্বাছ আলী খানও পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং এমপি ছিলেন। তার প্রার্থিতা নিয়ে দলে কোন বিরোধ নেই। বর্তমান মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় মনোনয়ন দাখিলের দিন থেকেই তাঁর পক্ষে প্রচার করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও তার জন্য ভোট চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত এ পৌরসভায় তার ‘নির্বাচনী বৈতরণী’ পাড়ি দেয়া অনেকটা সহজ বলেই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার এবং দল সমর্থকরা।

এদিকে ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও বসে নেই। তারাও চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিটি অলিগলি। বরং ভোটারদের দৃষ্টি কাউন্সিলর প্রার্থীদের দিকেই বেশি।