১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝুঁকিতে ইলেকট্রনিক্স খাতের বিনিয়োগ

  • কপারের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক কর আরোপ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কপার টিউব, কপার বার ও কপার প্লেটের আমদানির ওপর রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে দেশের উদীয়মান কেবল, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স শিল্প খাত। সংশ্লিষ্টরা একে শিল্পবিরোধী পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে বলছেন, এর ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের উদীয়মান শিল্প খাত।

অভিযোগ রয়েছে, এনবিআরকে ভুল বুঝিয়ে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশীয় শিল্পবিরোধী একটি চক্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে প্ররোচিত করেছে। বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে না দেখে এবং খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা না বলে এনবিআর রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করে। রাজস্ব বোর্ড গত ৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে কাঁচামাল কপার টিউব, বার ও প্লেটের ওপর যথাক্রমে ১৫, ১৫ ও ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণযোগ্য কর আরোপ করেছে। আগে এসব কাঁচামাল আমদানিতে সবমিলিয়ে যথাক্রমে ৩১.০৭ শতাংশ, ৩৭.০৭ এবং ৩৭.০৭ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। এখন এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণমূলক কর বসল। এর ফলে আমদানি বিকল্প মানসম্পন্ন ওয়্যার, কেবল, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, মোটর, ফ্যান, সুইচ, সকেটসহ ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এনবিআর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় তারা বিস্মিত। তাদের মতে, রাজস্ব বোর্ডের এমন পদক্ষেপ মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে এই খাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিশাল বিনিয়োগকে। এছাড়াও, দেশের সম্ভাবনাময় এই শিল্পে বিদেশী বিনিয়োগও নিরুৎসাহিত হবে। তারা মনে করছেন, প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পায়নে দেশের বর্তমান অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে একটা অশুভ চক্র গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

জানা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠান আগামী এপ্রিল নাগাদ দেশে কপার টিউব, বার এবং প্লেট উৎপাদনের জন্য মেশিনারিজ সেটআপ শুরু করতে যাচ্ছে। উৎপাদনে যেতে তাদের এ বছর লেগে যাবে। তারপরও সেখানে মানসম্পন্ন কাঁচামাল তৈরি সম্ভব কি না তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। অথব সেই প্রতিষ্ঠানটিকে সুরক্ষা দিতে পুরো ইলেকট্রনিক্স খাতকে আগাম জিম্মি করা হয়েছে। বর্তমানে ভারি শিল্পে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের কপার কাঁচামাল তৈরির কোন কারখানা দেশে নেই। এদিকে কপারযুক্ত ফিনিশড পণ্য আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়নি। কিন্তু কাঁচামাল হিসেবে কপার যখন আনলে যদি বাড়তি শুল্ক দিতে হয় তা অসম প্রতিযোগিতা এবং শিল্পায়নবিরোধী বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে বিআরবি কেবলসের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, এনবিআর রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করলে অবশ্যই পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, আশা করি সরকার তথা এনবিআর বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনায় নেবে। কারণ এটা দেশীয় শিল্পবিরোধী একটি পদক্ষেপ। এর ফলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে।