১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিল্লীর সঙ্গে আলোচনায় ‘অসমের সার্বভৌমত্ব’ পরেশ বড়ুয়ার পূর্বশর্ত

বিডিনিউজ ॥ আলোচ্যসূচীতে ‘অসমের সার্বভৌমত্ব’ প্রধান ইস্যু না হলে নয়া দিল্লীর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসমের (উলফা) সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া।

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে উলফার এই নেতার বিরুদ্ধে। চীন-মিয়ানমার সীমান্তে কোথাও তিনি লুকিয়ে আছেন বলে ভারতের কর্মকর্তাদের ধারণা।

অসম ট্রিবিউন জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে অসমের কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ও আর্ট অব লিভিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা রবিশঙ্করের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন পরেশ বড়ুয়া।

পরেশ জানান, রবিশঙ্কর তাকে আলোচনার টেবিলে বসার অনুরোধ করেছেন। “আমি তাকে (রবিশঙ্কর) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছি। তিনি আমাকে আলোচনায় নিয়ে যেতে চান। কিন্তু এটা তখনই সম্ভব, যখন আলোচনার মূল বিষয় হবে আসামের সার্বভৌমত্ব এবং এ বিষয়ে দিল্লীর লিখিত প্রতিশ্রুতি থাকবে।”

আলোচ্যসূচীতে সার্বভৌমত্ব রাখলে ‘বিজেপি সরকারের পতন ঘটতে পারে’ রবিশঙ্কর এমন আশঙ্কা জানানোর পরও নিজের দাবিতে অটল উলফার (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) পরেশ।

“এটা তাদের (সরকারের) অবস্থান হতে পারে। কিন্তু আমার অবস্থান আরও পরিষ্কার। আমি তখনই কথা বলব, যখন সার্বভৌমত্বের বিষয়ে আলোচনা হবে।”

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে লুকিয়ে থাকা উলফা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর পরেশ বড়ুয়া চীন-মিয়ানমার সীমান্তের তেনচং ও রুইয়ের মধ্যবর্তী কোথাও লুকিয়ে আছেন বলে ভারতীয় গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

উলফা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) এ বছরের শুরুর দিকে ভারতের আরও কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে একজোট হয়ে ভারতের সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহতও হয়।

প্রতিক্রিয়ায় চলতি বছরের জুলাই মাসে মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে ঢুকে উলফার ঘাঁটিতে কয়েক দফা হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। বিজেপি সরকারের দুই মন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার পর বিদ্রোহী জোটের বিরুদ্ধে হামলার ওই বিষয়টি উন্মোচিত হয়।

উলফার আরেক নেতা অনুপ চেটিয়াকে সম্প্রতি ভারত হাতে পেয়েছে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের কারাগারে থাকার পর গত মাসে তাকে হস্তান্তর করা হয়।