১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হবিগঞ্জে চা শ্রমিকদের আন্দোলন: ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে সরকার

হবিগঞ্জে চা শ্রমিকদের আন্দোলন: ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক॥ বাংলাদেশে হবিগঞ্জের কয়েকটি চা বাগানের লিজ নেয়া জমিতে সরকার একটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেটি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছেন সেখানকার শ্রমিকরা।

চা বাগান সংলগ্ন এসব জমিতে চা শ্রমিকেরা ধান চাষসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ করে থাকেন।

হবিগঞ্জে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে যোগ দিয়েছেন মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরাও। সবমিলিয়ে ১৫ টি চা বাগানের প্রায় ১৫ হাজারের মতো শ্রমিক আন্দোলন করছেন।

শ্রমিকরা বলছেন, সাত দিনের মধ্যে তাদের দাবি মেনে না নিলে পুরোপুরি কর্মবিরতিতে যাবেন তারা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলছেন, চা শ্রমিকেরা খুব অল্প মজুরিতে কাজ করেন বলে তারা এই জমির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।

"মাত্র ৬৯ টাকা দৈনিক মজুরিতে আমরা কাজ করতে পারছি কারণ ঐ জমিটা আমরা ভোগ করতে পারি বলে। দেড়'শ বছর ধরে আমরা যে জমিতে চাষ করছি সেট নিয়ে নিলে আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে যায়।" বলেন মি. কৈরী।

এদিকে চা শ্রমিকদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম বলেছেন, চা বাগান সংলগ্ন এসব জমি 'পতিত জমি' হিসেবেই পড়ে রয়েছে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এই জমিগুলো বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।

"এখানে গ্যাস আছে, বিদ্যুৎ আছে। দেশী-বিদেশী কোম্পানীগুলো এখানে আসলে এলাকার উন্নয়ন ঘটবে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদেরও একটি মুক্তির পথ তৈরি হবে।" বলেন সাবিনা আলম।

ইকোনোমিক জোন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চা শ্রমিকদের মজুরিও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চা শ্রমিকদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং একটি তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণও দেয়া হবে জানাচ্ছেন হবিঞ্জের জেলা প্রশাসক।

তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে শ্রমিকদের সাথে কোন আলোচনা করা হয়নি বলে দাবী করছেন চা শ্রমিক নেতা মি. কৈরী।

তিনি বলছেন, এর আগেও চা বাগানের জমি নিয়ে শ্রমিকদের নানা সুবিধা দেয়ার কথা বলা হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।

মি. কৈরী বলছেন, চা শ্রমিকদের আন্দোলনের সাথে চা বাগানের মালিকদের সম্পর্ক নেই। তিনি বলছেন, তারা শুনেছেন যে মালিকেরাও জমি না নেয়ার পক্ষে তাদের মতামত দিচ্ছেন।

সূত্র : বিবিসি বংলা