১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পে স্কেল পরিবর্তন হচ্ছে না, আন্দোলন অযৌক্তিক

  • নিজের আয়কর রিটার্ন প্রদান শেষে অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ২০১৫-১৬ করবর্ষের জন্য সাড়ে ৫৫ হাজার টাকা আয়কর দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত কয়েক বছরে তাঁর আয় বেড়েছে মাত্র সাড়ে চার লাখ টাকার মতো। তাতেই খুশি সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।

বুধবার সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে কর অঞ্চল-৮ এর উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেন তিনি। কর প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ওই সময় তিনি জানান, সরকারী চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল পরিবর্তনের আর কোন সুযোগ নেই। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেতন বৈষম্যের অভিযোগকে খামোখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবিকে অজ্ঞতাপ্রসূত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অযৌক্তিক দাবিতে তারা এসব করছেন। তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি বাড়বে না। এই ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। তবে বাজেট ঘাটতি না বাড়লেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) কিছুটা কাটছাঁট করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দাফতরিক ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারিনি। এজন্য ৩০ নবেম্বর এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেছিলাম। তারা (এনবিআর) সময় দিয়েছিল। আজ (বুধবার) রিটার্ন সাবমিট করলাম। তিনি জানান, ২০১৫-১৬ করবর্ষে মোট ৫৫ হাজার ৮৭০ টাকা আয়কর দেয়া হয়েছে। বহুদিন পর এবার আমার আয় বেড়েছে চার লাখ টাকার কিছু বেশি। মোট এক লাখ ১৭ হাজার ৫৩৩ টাকা কর দিয়েছি। এরমধ্যে রিফান্ড পাওয়া গেছে ৬১ হাজার ৬৬৩ টাকা। কারণ প্রকৃত ট্যাক্স এসেছে ৫৫ হাজার ৮৭০ টাকা।

এক কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদ থাকার কথা জানিয়ে মুহিত বলেন, গত বছর এটি ছিল ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। এরমধ্যে এ বছরের আয় ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৭ টাকা। করযোগ্য আয় ১০ লাখ ১৩ হাজার ৭২২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৭ লাখ টাকার মতো।

তিনি বলেন, ১৯৫৫ সালে প্রথম এবং ১৯৬০ সালে দ্বিতীয়বার আয়কর দেয়ার পর কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় সেখানেই কর দেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিত দেশে আয়কর দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

পে স্কেল পরিবর্তন হচ্ছে না, অযৌক্তিক আন্দোলন ॥ সরকারী চাকরিজীবীদের জন্য করা অষ্টম পে স্কেল পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যেসব দাবিতে এখন আন্দোলন করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। নতুন বেতন স্কেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অবনমন করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনও করে। এ বিষয়টি নিয়ে ওই দিন দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলন একদম খামোখা। তাদের দাবি-দাওয়া যা কিছু তার মধ্যে যৌক্তিক কিছু দেখছি না। অযৌক্তিক দাবিতে তারা এসব করছেন। ননসেন্স। আটারলি ননসেন্স।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি অবশ্য প্রমিজ করেছিলাম তাদের (বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের) স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দেয়া হবে। কিন্তু যে বেতন স্কেল দেয়া হয়েছে, তাতে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের দাবি একেবারেই অজ্ঞতাপ্রসূত। আমি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে ঠিক করেছি। তিনি বলেন, জাতীয় অধ্যাপক বলে কিছু নেই। তাদের কোন স্কেলও নেই। এটা একটা সম্মান। এজন্য আগেও ৪০ হাজার টাকা সম্মানী দেয়া হতো, এখনও এটা আগের মতোই আছে। এটা আলাদা করার কিছু নেই। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তি অত্যন্ত বাজে ব্যবস্থা। এটা স্কুলের স্বার্থ দেখে না, এমনকি ছাত্রদের স্বার্থও দেখে না। শুধু শিক্ষকদের স্বার্থ দেখে। এজন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটি যে সুপারিশ করবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদিও এই কমিটি খুব ধীরে কাজ করছে।

বাজেট ঘাটতি বাড়বে না ॥ সরকারের ব্যয় বাড়লেও চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি বাড়বে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। কারণ সেটা তো আগে থেকেই ঠিক করা। রাজস্ব আদায় অক্টোবর পর্যন্ত একটু ধীর ছিল। তবে নবেম্বরে অনেক ভাল হয়েছে। তিনি বলেন, এরপরও যদি কিছু ঘাটতি থাকে, তাহলে হয়ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে কিছু কাটছাঁট করা হতে পারে। কারণ গত অর্থবছরে ৬৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি ছিল, এবার সেটা বেড়ে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা হয়েছে। সেখান থেকে একটু কমতে পারে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।