২১ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোমালিয়া, তাজিকিস্তান ও ব্রুনাইয়ে বড়দিন উদ্যাপনে নিষেধাজ্ঞা

খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের এ বছরের বড়দিনের উৎসব উদ্যাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তিনটি দেশের সরকার। দেশগুলো হলো- সোমালিয়া, তাজিকিস্তান ও ব্রুনাই। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও ওয়াশিংটন পোস্টের।

ইসলামের সঙ্গে বড়দিনের উৎসবের কোন সম্পর্ক নেই এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানসমূহ সন্ত্রাসীদের সম্ভাব্য হামলারও লক্ষ্যবস্তু- এমন যুক্তিতে সোমালিয়ায় বুধবার বড়দিন ও নববর্ষ উদ্যাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সরকার। দেশটিতে এখন বাস করছে এমন কোন স্থানীয় খ্রীস্টান নেই। তবে আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) ২২ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী রয়েছে দেশটিতে। তাদের অনেকই খ্রীস্টান। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল মোহাম্মদ খেরো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বড়দিন বা নববর্ষের উৎসব উদ্যাপন বিনষ্ট করতে পারে মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস। বড়দিন শুধুই খ্রীস্টানদের উৎসব। তাই তা পালনে হুঁশিয়ারি দিয়েছি আমরা। এজন্য রাজধানী মুগাদিসুতে বড়দিনের উৎসব উদ্যাপন প্রতিরোধে পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা ও কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে। এই ঘোষণার মাধ্যমে জঙ্গী সংগঠন আল-শাবাবকেই অনুকরণ করল দেশটি। কারণ ইসলামী এই জঙ্গী সংগঠনের শাসনেও বড়দিনের অনুষ্ঠান পালন নিষিদ্ধ। মুগাদিসুর মেয়রের মুখপাত্র আবদিফাতাহ হালান বলেন, দুটি কারণে সোমালিয়ায় বড়দিন উদ্যাপিত হবে না। প্রথমত, এখানে কোন খ্রীস্টান নেই, সবাই মুসলমান। অন্যটি হচ্ছে নিরাপত্তা। আর বড়দিন হচ্ছে শুধুই খ্রীস্টানদের জন্য, এটা মুসলমানদের জন্য নয়। গত বছর মুগাদিসুতে এইউয়ের সামরিক ঘাঁটিতে বড়দিনের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গী সংগঠন আল-শাবাবের বন্দুকধারীরা।

ওই হামলায় তিন শান্তিরক্ষী ও একজন বেসমারিক ব্যক্তি নিহত হন। এদিকে মুসলিম অধ্যুষিত ও নামমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ এশীয় দেশ তাজিকিস্তানও বাৎসরিক এই উৎসব, ক্রিসমাস ট্রি সাজানো ও স্কুলগুলোতে উপহারসামগ্রী দেয়ার ওপর কঠোর নিষিধাজ্ঞা জারি করেছে। রাশিয়ার সান্তা ক্লজের সমতুল্য হওয়ায় ২০১৩ সালে টিভি পর্দায় ফাদার ফোস্টকে নিষিদ্ধ করে দেশটি। কঠিন ইসলামী আইনের অধীনে থাকা সুলতান শাসিত তেলসমৃদ্ধ ব্রুনাইও বড়দিনের অনুষ্ঠান পালন নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা না মানলে লঙ্ঘনকারীর শাস্তি হবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।