২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলতি বছরে মাত্র একটি মিউচুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর করুণ দশার মাঝেও চলতি বছরে দেশের পুঁজিবাজারে ‘এশিয়ান সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড’ নামে মাত্র ১টি মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত হয়েছে। ১১ মার্চ এ ফান্ডটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং ৩১ মার্চ ফান্ডটির লেনদেন শুরু হয়। তবে ২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত হলেও ২০১৪ সালে ফান্ডটির আইপিও অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এছাড়া গত নবেম্বর মাসে আরও দুটি ফান্ড প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। তবে এখনও পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করেনি।

এশিয়ান সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের আকার হচ্ছে ৬০ কোটি ৫৯ লাখ ৫ হাজার টাকা। ফান্ডটির স্পন্সর সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০ কোটি টাকা যোগান দিয়েছে। বাকি অর্থ প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ও আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

২৩ ডিসেম্বর লেনদেন শেষে ১০ টাকা ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর দাঁড়িয়েছে ৭.৩০ টাকায়। লেনদেন শুরুর পর থেকেই অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে ফান্ডটির ইউনিটের বাজারদর। ফান্ডটির সর্বোচ্চ বাজারদর উঠেছিল ৯.৬ টাকায় এবং সর্বনিম্ন দর ছিল ৫.৬ টাকায়। ২০১৫ সালে ফান্ডটি ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ এবং ২.৫ শতাংশ পুনর্বিনিয়োগ হিসাবে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় হয়েছে ৬২ পয়সা এবং ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য হচ্ছে ১২.২১ টাকা।

এদিকে ২০১৫ সালে বিএসইসি দুটি মেয়াদী ফান্ডের অনুমোদন দিয়েছে। ফান্ড দুটি হচ্ছে- এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড। গত নবেম্বর মাসে ফান্ড দুটি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলেও এখনও বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি।

৮ থেকে ১৬ নবেম্বর পর্যন্ত এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে। এ ফান্ডের আকার হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। ৫ কোটি টাকা যোগান দিয়েছে ফান্ডের স্পন্সর লেকচার পাবলিকেশন্স লিমিটেড। প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। বাকি ২৫ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করার কথা। এ ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে স্ট্র্যাটিজিক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটিড।

অপরদিকে ২০১৫ সালে আইপিও অনুমোদন পাওয়া ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ডের আকার হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা। গত ৮ থেকে ১৭ নবেম্বর পর্যন্ত আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করেছে ফান্ডটি। আইপিওর মাধ্যমে ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার কথা রয়েছে ফান্ডটির। এ ফান্ডটির স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বিডি ফাইন্যান্স যোগান দিয়েছে ২০ কোটি টাকা। বাকি ৬০ কোটি টাকা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

২০১৪ সালে কোন মিউচুয়াল ফান্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। এখানে প্রসঙ্গত, বর্তমানে শুধু মেয়াদী মিউচুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে যাতে বে-মেয়াদী ফান্ডও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে সেজন্য মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় সংশোধন আনা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বে-মেয়াদী ফান্ডও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।