১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইল ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ছে

  • ৫শ’ কোটি টাকা লেনদেন, গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সোয়া ৩ কোটি

রহিম শেখ ॥ তাৎক্ষণিকভাবে বা অতিদ্রুত শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং কেবল টাকা আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অনেক নতুন নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে এতে। প্রতিমাসেই বাড়ছে বিভিন্ন সেবা বিল দেয়ার পরিমাণ। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। নবেম্বরে গড়ে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা। লেনদেন বাড়লেও গত কয়েক মাস ধরে চালু (এ্যাকটিভ) এ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমছিল। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নবেম্বরে সচল এ্যাকাউন্ট বেড়ে এক কোটি ২৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকসংখ্যা সোয়া ৩ কোটি ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নবেম্বর শেষে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ২ হাজার। যেখানে ১ মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ অক্টোবর মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর শেষে গ্রাহক ছিল ৩ কোটি ২ লাখ ৩৮ হাজার। অক্টোবরের তুলনায় নবেম্বরে বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৯৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যা আগের মাসে ছিল ৪৩৪ কোটি টাকার ওপরে। এখানে ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি লেনদেন হয়েছে। আবার গ্রাহকের পাশাপাশি বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধি বা এজেন্ট। অক্টোবরের চেয়ে নবেম্বরে এজেন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৫২ জনে। আগের মাসে যা ছিল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৩।

হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্রাহক বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে এ্যাকটিভ (সক্রিয়) এ্যাকাউন্টের সংখ্যা। নবেম্বরে সচল এ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার। আগের মাসে ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ৫৭ হাজার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত নবেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার ৯১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছ। যা অক্টোবরে ছিল ১৩ হাজার ৪১ কোটি ২২ লাখ টাকা। সে হিসাবে মাসিক লেনদেন কমেছে ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, উৎসবকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি ব্যবহার হয়েছে। এজন্য সেপ্টেম্বরে লেনদেন বাড়লে অক্টোবরে কিছুটা কমেছে। সচল হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নবেম্বরে লেনদেন বেড়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের মাসের তুলনায় নবেম্বরে প্রবাসী আয়ের লেনদেন বেড়েছে ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ সময়ে লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা যা অক্টোবরে ছিল সাড়ে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সেবার মাধ্যমে নবেম্বর মাসে টাকা উত্তোলন (ক্যাশ আউট) করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা আগের মাসে ছিল ৪ হাজার ৭০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। নবেম্বর মাসে অন্যের হিসাবে টাকা পাঠিয়েছেন এমন লেনদেনের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের মাসে ছিল ২ হাজার ২৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। নবেম্বরে বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ১৪০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা আগের মাসে ছিল ৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

অক্টোবর মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছিল ১৬৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। যা কমে গিয়ে নবেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৯৯ কোটি ৪২ লাখ টাকায়। অন্যান্য খাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৩১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বলেন, গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এখন সঠিক গ্রাহক ও লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর লেনদেন কিছুটা কমলেও এটা স্বাভাবিক রয়েছে, আগের মাসে ঈদের কারণে লেনদেন একটু বেড়েছিল। এ প্রসঙ্গে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ও লেনদেন যেমন বেড়েছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে ই-কমার্সসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বেড়েছে। অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন করছে, তেমনি অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ থেকে শুরু করে কর্মীদের বেতনও দিচ্ছে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে। এদিকে মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে মোবাইল ফোনের এয়ারটাইম ক্রয়ের পাশাপাশি দোকানে কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যাচ্ছে। এ ছাড়াও ওয়ালেটে (এ্যাকাউন্টে) জমা টাকার ওপর দেয়া হচ্ছে ইন্টারেস্ট। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ওয়ালেট ব্যবহারের উৎসাহ বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত ২৮ ব্যাংককে অনুমোদন দিলেও এ সেবা দিচ্ছে ২০ ব্যাংক। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এরপরই আছে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং। সম্প্রতি এ সেবার নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি ছাড়া এ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতা, ঘুষ লেনদেনসহ নানা অপরাধমূলক কাজে অর্থ লেনদেনে যাতে এ মাধ্যম ব্যবহৃত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।