১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম কাস্টমের রাজস্ব আদায় ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নবেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমসের ১৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এই সময়ের মধ্যে আয় হয়েছে ১১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম।

আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের। একে গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ১২১ কোটি টাকা। প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নবেম্বর) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে শুল্কায়ন হওয়া পণ্য থেকে রাজস্ব এসেছে ১১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। গত ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ শতাংশ বা ৪৬৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ বা ৪১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এরপরের ৩ অর্থবছরে প্রথম ৫ মাসের রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হলেও চলতি অর্থবছরের এই সময় পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার রেজাউল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম কমেছে। পণ্যের দাম কমার কারণে রাজস্ব আয়ও কমেছে। যানবাহনের মেশিন ও যন্ত্রাংশ এবং প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম গত ৭-৮ বছরের মধ্যে ন্যূনতম। এসব কারণেই মূলত রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কাস্টমসের মোট রাজস্ব আদায় বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আমদানি পণ্যের ছাড়করণ প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৮৭ হাজার ৫ লাখ মেট্রিক টন। এর শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। যা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। বেশকিছু পণ্য থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে কাস্টমস। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে পিস্টন ইঞ্জিন, রেফ্রিজারেট, মোটরকার, রেলওয়ে ব্যবহৃত লোহা ও ইস্পাত, ভোজ্যতেল ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৪২৯ কোটি মেট্রিন টন। এর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এসব পণ্য আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। যা হতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই খাতে রাজস্ব আদায় কমেছে ১ হাজার ১০৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আমদানিকারকরা জানান, বেশকিছু পণ্যে শুল্ক বাড়ায় এবং দেশীয় বাজারে কিছু পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় গত কয়েক মাসে আমদানি কম হয়েছে।