২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও জাপার

  • সবাই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রমাণিত হয় আমরা নিরপেক্ষ- সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনা হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বেশি সহানুভূতি দেখানো হচ্ছে। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতি করা হচ্ছে নির্দয় আচরণ। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে পৌর নির্বাচন দুরূহ হয়ে পড়ছে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে এ দুদলের অভিযোগের পেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেন, সব দলই নির্বাচনে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এতে প্রমাণিত হয় নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করছে। সবার প্রতি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন, এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের ওপর হয়রানি আচরণ করছে। তিনি বলেন, আমরা সমস্যায় রয়েছি। আমরা ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা চাই। তাদের বাড়তি সুবিধা না দিয়ে ইসিকে সম-আচরণ করতে হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির পক্ষ থেকে পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ ও প্রচারের বাধা দেয়ার অভিযোগ আনেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করা হলো। দুপুর পৌনে ২টার দিকে মাহবুব-উল আলম হানিফের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন আবুদুস সোবহান গোলাপ, দীপু মনি, এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠক শেষ বেরিয়ে এসে মাহবুব-উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, পৌর নির্বাচনের ইসির আচরণ নিরপেক্ষ নয়। এতে বিএনপির প্রার্থীরা বেশি সহানুভূতি পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতি নির্দয় আচরণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বিএনপির প্রতি অতি সদয় হয়ে আমাদের ওপর নির্দয় আচরণ করছে। আমরা ইসির কাছে নিরপেক্ষ আচরণ চাই বলেই এ দাবি জানাতে এসেছি। কারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অযথা জরিমানা করা হচ্ছে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে বলে জরিমানা করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষ আচরণ নয়। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের দুজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তারা বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে।

হানিফ বলেন, সংসদে না থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন, নিচ্ছেন। তাদের বাড়তি সুবিধা দিলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। প্লেয়িং ফিল্ড তাদের অনুকূলে রয়েছে। তাদের যেন বাড়তি সুবিধা দেয়া না হয়।

তবে তিনি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে বলে সাংবাদিকের কাছে জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভাল রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা করা দরকার তাই করবে ইসি। যখন যেটা প্রয়োজন মনে করে সে ব্যবস্থাই নেবে। সংসদ সদস্যরা বিধি ভঙ্গ করছেন না। প্রয়োজন হলে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে ইসি। কিন্তু একজন প্রতিমন্ত্রী মসজিদ থেকে বের হয়ে কোলাকুলি করলেই বিধি ভঙ্গ হয় কী করে প্রশ্ন করেন? কারও পক্ষে ভোট চাইলে তখন ব্যবস্থা নিতে পারে ইসি উল্লেখ করেন। তবে বিধি ভঙ্গের বিষয়ে তদন্ত না করে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য ইসির প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও বিএনপি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে যাতে কোন ধরনের বাড়তি সুবিধা নিতে না পারে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে তারপর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান হানিফ।

জাতীয় পার্টির অভিযোগ ॥ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া খুবই দুরূহ হয়ে পড়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এজন্য অবাধ সুষ্ঠু ও যথাযথ নির্বাচনে ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতীয় পাটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানানো হয়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী আজাদ উদ্দিন চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। জয়পুরহাটের মেয়রপ্রার্থী তিতাস মোস্তফাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফেনী পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী মোজাম্মেল হককে জোর করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কুয়াকাটায় মেয়রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে মারধর করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তারা।

সাক্ষাত শেষে আবু হোসেন বাবলা সাংবাদিকদের বলেন বলেন, ‘সিইসি আমাদের বলেছেন- তারা ইতোমধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা যেসব ঘটনা চিহ্নিত করেছি, সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতি, সাইদুর রহমান টেপা, যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম নুরু এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সবাই যখন নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে তখন প্রমাণ হয় ইসি নিরপেক্ষ। সবার প্রতি আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের (এমপি) তালিকা চেয়ে কয়েকটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার বিষয়ে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা এ ধরনের কোন চিঠি পাইনি। কেবল এমপিদের শোকজ করেছি। তারা ক্ষমাও চেয়েছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরও সরিয়ে নিয়েছি। কাজেই সব দিক থেকে আইনের পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি প্রার্থী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, লোকের মাথায় বাড়ি দেব কেন। এজন্য আইন-আদালত আছেন। তাই লোকের মাথায় বাড়ি দেয়ার দরকার নেই আমাদের।

পৌর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৯টি সংগঠনের বিষয়ে আপত্তি আওয়ামী লীগের ॥ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে পর্যবেক্ষণে ৯টি সংগঠনের প্রতি আপত্তি জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বুধবার নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানো হয়েছে। চিঠিতে এসব সংগঠনের আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, খান ফাউন্ডেশন, মানবিক সাহায্য সংস্থা, লাইট হাউস, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ, রাইটস যশোর, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুস, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশ।

ইসি জানিয়েছে পৌর নির্বাচনে ২৯ সংগঠনকে অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে নয়টির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ইসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে নিবন্ধিত শতাধিক সংস্থার মধ্যে ২৯টির ৩ হাজার ৩৯৭ জন পর্যবেক্ষককে এবার পৌর ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১৩০ জনকে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি অনুমোদিত সংগঠনের সর্বোচ্চ পাঁচ জনের একেকটি দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে। পর্যবেক্ষকরা প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য ভোটকক্ষও পরিদর্শন করতে পারবেন।