১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

সংশয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিরোধী দলে থাকলে নানা বিষয়ে সন্দেহ সংশয় থাকতেই পারে। তাই বলে দেশের ইতিহাস তাও কিনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ! এতকাল পরে এসে সে আবার কোন্ কথা। সেটা যদি আসে দেশের দুবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে তাহলে কি প্রশ্ন জাগতে পারে না আদতে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তায় বিশ্বাস করেন কিনা। নাকি উনার বন্ধু গোলাম আযমকেই অনুসরণ করেন। গোলাম আযম তো বলতেনই তিনি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের আর জাতি হিসেবে মুসলমান আর বাংলা তো কেবল একটি ভাষাই মাত্র। নাকি উনার বয়স হয়েছে কিছু আর ঠিক থাকে না। কখন কী হয়ে যায় হুঁশ-জ্ঞান থাকে না। তাইবা কী করে উনি তো কিছু কিছু জায়গায় তো ভালই বলেন। তাহলে দেশের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেন এত গায়ে জ্বালা। আবার কিনা রাজনীতিই করেন এক সূত্র ধরে উনার স্বামী দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ছাড়া আর কেউ স্বাধীনতার জন্য কিছু করেন নাই। সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বেগম জিয়া বলেছেন, আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে। সরকার নানারকম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি করছে। যাদের অন্যায়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে; আমরা ক্ষমতায় এলে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করে তাদের যথাযথ সম্মান ও সম্মাননা দেব। হ্যাঁ উনি তো বহুকাল তা দিয়ে আসছেন। কেননা রাজাকারের গাড়িতে উনিই পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধকে কি সম্মান দিয়েছেন?

ডাক্তারের কাছে যান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিঃসন্দেহে মাথা নষ্ট মানুষই তার অতীত ভুলে যান। আর এই অবস্থা তৈরি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। দেশে এই রকম মাথা নষ্ট মানুষের জন্য পাবনায় সরকারী উদ্যোগে সুব্যবস্থা রয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সব ভুলে বসে যদি কেউ এই নাটক করেন তিনি নিশ্চই ভবের পাগল। তার জন্য ব্যবস্থাপত্র ভিন্ন। তবে তিনি আসলে ভবের পাগল না অরিজিনাল পাগলা তা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরী। বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা এমনকি বীরাঙ্গনার সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে কৌশলে বিতর্কের জন্ম দিতে বক্তব্য রেখেছেন। দেশের সচেতন মানুষ বলতেই ছিঃ ছিঃ করেছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনাদের নেত্রী অসুস্থ, তাকে চিকিৎসা করান। কারণ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রত্যাশা করছে আওয়ামী লীগ। হানিফ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপির মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তা দেখে দলটির নেত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই বিএনপি নেতাদের বলব, আপনাদের নেত্রীর চিকিৎসা করান। আওয়ামী লীগ সুস্থ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ হওয়া নিয়ে মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। তার যে বিদ্যার দৌড় তাতে এমন মন্তব্য তিনি করতেই পারেন। খালেদা জিয়া এমন বক্তব্য দিয়ে মূলত রাজাকার ও পাকিস্তানীদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করছেন।

প্রেমপত্র

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচন এলেই গত পাঁচ বছরে বিএনপি বাজিমাত করেছে। আর গোঁড়ামি করে আমি যাচ্ছি না যাচ্ছি না পারবো না বলে ঘরে বসে থাকলে ভিন্ন কথা। নির্বাচনে না এলেও তাদের জিতিয়ে দেয়ার ক্ষমতা কারও এখন আর নেই। কারণ বন্দুকের নলে ক্ষমতার পালা বদলের ইতিহাস জিয়াউর রহমান আর এরশাদেই শেষ হয়ে গেছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন অবশ্য বলছেন আর আন্দোলন নয় এবার নির্বাচনের মাধ্যমে ঘায়েল করে দেব। কারণ বছরের গোড়ার দিকে সারাদেশটাকে ‘শ্মশান’-এ পরিণত শুরু করেছিলেন তিনি। এসব করে মানুষের ঘৃণা ছাড়া ভালবাসা অর্জন করা যায় না। কিন্তু সেই নির্বাচন করতে এসে নির্বাচন কমিশন যতই নিরপেক্ষ হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি ততই আরও পেয়ে বসছে। নানা ছুঁতো খুঁজছে নির্বাচন থেকে সটকে পড়ার। সবশেষ ঢাকা আর চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থীদের মাঠে নামিয়ে ভোটের দিন সরে পড়েন। প্রার্থীদের কোটি কোটি টাকা খরচ করিয়ে মাঠ ছেড়ে দেয়ায় একজন সাবেক মেয়র তো বলেই বসলেন আর করতেছি তোমাদের রাজনীতি। ভদ্রলোক এত কষ্ট পেলেন যে রাজনীতিকেই না বলে দিলেন। সম্প্রতি বিএনপির রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনের শোকজ প্রেমপত্রে পরিণত হয়েছে। কারণ, পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা প্রতিনিয়তই নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করে প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন শুধু শোকজ করেই তাদের দায়িত্ব পালন করছে। কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই সারাদেশে পৌর নির্বাচনের সময় সহিংসতা ও তা-ব রুখতে বিএনপির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে।