২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফোরজি সার্ভিস শুরুর আগেই ইন্টারনেটে অতিরিক্ত চার্জ

  • গ্রাহকের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে

ফিরোজ মান্না ॥ ফোরজি তরঙ্গ নিলামের আগেই ইন্টারনেটের ওপর অতিরিক্ত চার্জ ধরা হচ্ছে। এলটিই (লং টার্ম ইভাল্যুয়েশন) প্রযুক্তির ওপর চার্জ ধরা হলে গ্রাহক ফোরজি (চতুর্থ প্রজন্মের ফোন) সেবার প্রতি আগ্রহ হারাবে। আগামী জানুয়ারিতে ফোরজি সেবা গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর জন্য তরঙ্গ নিলাম করা হবে। এজন্য বিটিআরসি সব ধরনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফোরজি সেবা শুরু না করতেই এই চার্জ দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবার বিকাশে চরম বাধা হয়ে দাঁড়াবে। গ্রাহকরা উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার জন্য অপেক্ষা করছে। ফোরজি সেবার অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকরা এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারণ ব্যয়বহুল সেবা নিতে গ্রাহকরা আগ্রহ দেখাবে না। যেমন থ্রিজি সেবার বেলায় ঘটেছে। ইন্টারনেট সেবায় অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করলে ইন্টারনেট সেবায় বিপর্যয় ঘটবে। প্রযুক্তির ওপর চার্জ ধার্য না করে বরং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ-রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন করা হোক। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) সেবার প্রকৃত গতি পাচ্ছে না, এজন্য ব্যবহারকারীদের সঠিক চাহিদা পূরণ করতে সরকারের উচিত সম্ভাব্য সব উপায়েই চেষ্টা করা। গ্রামীণ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার মান খুবই নিম্নমানের। ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস এ্যাকসেস (বিডব্লিউএ) ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) সময়মতো আপারেশনাল ডকুমেন্টস (এনওসি, প্রযুক্তিগত অনুমোদন ইত্যাদি) দিয়ে সহযোগিতা করা দরকার। সেখানে এটি না করে উল্টো ফোরজি বা লং টার্ম ইভাল্যুয়েশন (এলটিই) ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করলে দেশের ইন্টারনেট সেবা খাতের অগ্রগতির সম্ভাবনা কমে যাবে। মানসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে সরকারকে কোন রকম অতিরিক্ত চার্জ আরোপ না করেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যেমন এলটিই বা ফোরজির মতো সেবা চালু করতে হবে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির উচিত হবে দেশে নতুন প্রযুক্তি প্রবর্তনের সামনে থেকে কাজ করা, তা না হলে গ্রাহক ফোরজি থেকে কোন সুফলই পাবে না। ২০১৩ সালে ২১০০ ব্যান্ডের বেতার তরঙ্গের উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ থ্রিজির যুগে প্রবেশ করে। সে সময় সব জিএসএমভিত্তিক মোবাইল ফোন অপারেটরই গ্রাহকদের জন্য এ সেবা কিনেছিল। কিন্তু এই থ্রিজি সেবার নিম্নগতির কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তুষ্টির শেষ নেই।

অন্যদিকে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। সরকার বিডব্লিউএ (ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস এ্যাকসেস) অপারেটরদের গ্রাহকদের জন্য এলটিই সেবা প্রদানের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। সারা বিশ্বে ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোন প্রকার অতিরিক্ত চার্জ প্রদান ছাড়াই ওয়াইম্যাক্স থেকে এলটিই প্রযুক্তিতে ইন্টারনেট সরবরাহ করছে। কিন্তু সম্প্রতি সেলুলার ফোন অপারেটর এবং বিটিআরসির মধ্যে এক সভায় এলটিই প্রযুক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত চার্জ প্রদানের বিষয়টি আসলে বিডব্লিউএ অপারেটররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রাথমিক পর্যায়ে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছিল সেটি যদি বিডব্লিউএ অপারেটররা পায়, তাহলে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার আরও গতিশীল হবে বলে মনে করেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান মঞ্জু। তিনি মনে করেন, মোবাইল ফোন অপারেটরদের সরবরাহ করা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সঠিক সেবা গ্রাহকরা পাচ্ছে না। উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে সরকারকে এলটিই বা ফোরজির প্রতি নজর দিতে হবে। বিটিআরসির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৪১ লাখ। বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই ইন্টারনেটের নিম্নমানের গতির জন্য অসন্তুষ্ট। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিডব্লিউএ অপারেটরদের অনেক কর্মকর্তাই বলেছেন, বর্তমান চার্জ বৃদ্ধি করা হলে সেই অতিরিক্ত চার্জ মূলত গ্রাহকদেরই প্রদান করতে হবে। এটা সত্য যে, অপারেটররা অতিরিক্ত চার্জ প্রদানের জন্য প্রস্তুত না। বিটিআরসির উচিত হবে প্রথমে ইন্টারনেট সেবার বাজারকে বাড়তে দেয়া।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ফোরজি সুবিধার নিলাম অনুষ্ঠান করা হবে। এ সরকারের মেয়াদেই ফোরজি মোবাইল ফোন (চতুর্থ প্রজন্ম) সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করা হযেছে। আমরা থ্রিজি (তৃতীয় প্রজন্মের) ফোন সেবা বাস্তবায়ন করেছি। দেশের গ্রামাঞ্চলেও এ সেবার পরিধি বাড়ানো হবে। উদ্দেশ্য গ্রাম ও শহরের মধ্যে পার্থক্য কমানো। শহরের মানুষ শুধু প্রযুক্তির সেবা পাবেন, আর গ্রামের মানুষ পাবেন না। এমন বৈষম্য রাখা হবে না। দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে নিতে হলে সারাদেশেই সমভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার এ উদ্দেশ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনেট হয়ে যাচ্ছে আমাদের সাধারণ একটি সেবা, ভবিষ্যতের জন্য করতে হবে ইন্টারনেট নিউট্রালিটি বা নেট নিউট্রালিটি পলিসি। একটি স্ট্রং পলিসি করা হবে। যাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, ইন্টারনেট যাতে সব মানুষের কাছে সমান থাকে ও কম খরচে সবার কাছে পৌঁছানো হবে।

নির্বাচিত সংবাদ