২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন শুরু

  • ৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রাক্কলনসমূহ পাঠানোর অনুরোধ

এম শাহজাহান ॥ মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর আওতায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা প্রদান করে বাজেট পরিপত্র দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী ৩ জানুয়ারির মধ্যে সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলনসমূহ অর্থবিভাগের বাজেট অনুবিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনে এক প্রস্থ করে প্রেরণ করার জন্য সকল মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বাজেট পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন অবশ্যই চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে প্রদর্শিত মোট ব্যয়সীমার মধ্যে সংকুলানযোগ্য হতে হবে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে মূল বাজেটে প্রদর্শিত মোট ব্যয়সীমার মধ্যে সংকুলান সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অপারেশন ইউনিটের বরাদ্দ হ্রাস বা বৃদ্ধি করা যাবে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ব্যয়ের প্রাক্কলন মূল বাজেটে প্রদর্শিত মোট উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে কোন অর্থ অব্যয়িত থাকবে বলে মনে হলে ওই অব্যয়িত অর্থ কোনভাবেই অনুন্নয়ন বাজেটে স্থানান্তর করা যাবে না।

জানা গেছে, সরকারী ব্যয়ের দক্ষতা, কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অর্জন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামো পদ্ধতিতে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে কৌশলগত পর্যায়, প্রাক্কলন পর্যায় এবং বাজেট অনুমোদন পর্যায়।

কৌশলগত পর্যায়ের প্রথম ধাপে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যমান বাজেট কাঠামো হালনাগাদ করতে হয়। এ পরিপত্রে বিবৃত পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সকল মন্ত্রণালয় তাদের বাজেট কাঠামো সংশোধন ও হালনাগাদ করে অর্থবিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করবে। পরবর্তীতে অর্থবিভাগ এবং পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনাক্রমে বাজেট কাঠামো চূড়ান্ত করবে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়নে রাজস্ব প্রাপ্তির সংশোধিত প্রাক্কলন পদ্ধতি, অনুন্নয়ন ব্যয়ের সংশোধিত প্রাক্কলন, রাজস্ব বাজেট হতে অর্থায়নকৃত উন্নয়ন কর্মসূচীর সংশোধিত প্রাক্কলন, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী, বাজেট প্রাক্কলনের সঙ্গে প্রদেয় অন্যান্য তথ্য প্রদান, স্পষ্টীকরণ এবং বাজেট প্রাক্কলন দাখিল করার সময়সীমার বিষয়ে পরিপত্রে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৯ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা কমানো হয়। ফলে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ৪০ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। ঘোষিত বাজেটে যা ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য ব্যয় ১ লাখ ৭০ হাজার ১৯১ কোটি টাকার বিপরীতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা নামিয়ে আনা হয়েছে। মূল বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) ছিল ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ৭৫ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব ২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা অর্থায়নসহ গত অর্থবছরে এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। ওই বাজেটে ঘাটতি বেড়েছে ৯ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা কমেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের আয় বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিপির সাইজও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যয় বাড়িয়েছে সরকার। তাই চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়নে গত অর্থবছরের হিসাবও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, ইতোমধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্যও সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের পরিপত্র দেয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুসরণ করেই বাজেট প্রণয়ন করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে গাইড দিয়েছে অর্থবিভাগের বাজেট অনুবিভাগ।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব প্রাপ্তির সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন প্রণয়নের জন্য ফরম-১ ব্যবহার করার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণভাবে গত দুই অর্থবছরের (২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫) প্রথম ছয় মাসের এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের রাজস্ব আদায়ের ধারা বিবেচনায় নেয়ার কথা বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে কোন আইটেমের আদায়ের হার বৃদ্ধি করা হয়ে থাকলে পুনর্নির্ধারিত হারে সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এবং প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে চলতি অর্থবছরে তিন মাসের প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে সংশোধিত প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।

এই মাত্রা পাওয়া