১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোনাল্ডিনহোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মেসির

রোনাল্ডিনহোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মেসির

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একসময় বার্সিলোনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনাল্ডিনহোর সতীর্থ ছিলেন লিওনেল মেসি। তখন রোনির স্বর্ণ সময়। তার পায়ের জাদুতে মোহবিষ্ট ছিল ফুটবল বিশ্ব। রোনির কারিশমা দেখে অনেককিছুই শিখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাতকারে মেসি রোনাল্ডিনহোর প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞাও প্রকাশ করেন। তাছাড়া কিভাবে তিনি বার্সার ‘১০’ নম্বর জার্সি পেয়েছেন সে প্রসঙ্গেও জানান।

ফুটবল মাঠে ১০ নম্বর জার্সি সব সময়ই বিশেষ আভিজাত্য প্রকাশ করে। পেলে-ম্যারাডোনা-জিদানের মতো কিংবদন্তিদের গায়ে দেখা গেছে সম্মানসূচক এই জার্সি। সাধারণত দেখা যায়, দলের অধিনায়ক বা সেরা খেলোয়াড় ১০ নম্বর জার্সি পরে থাকেন। বার্সিলোনার ১০ নম্বর জার্সি অনেকদিন ধরে গায়ে চাপাচ্ছেন মেসি। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা যোগ্যতাবলেই এ জার্সির মালিক হয়েছেন। তবে জার্সিটার উত্তরাধিকারী তিনি কিভাবে হয়েছেন, সেটা মেসি নিজেই জানিয়েছেন।

বার্সিলোনায় কিংবদন্তি ম্যারাডোনা, রোমারিও, রিভাল্ডোর মতো মহাতারকাদের দেখা গেছে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলতে। ২০০৩ সালে বার্সিলোনায় যোগ দেয়ার পর রোনাল্ডিনহোকেও দেয়া হয়েছিল ১০ নম্বর জার্সি। আর্জেন্টাইন সাবেক অধিনায়ক জুয়ান রোমান রিকুয়েলমে ভিয়ারিয়ালে ধারে চলে গেলে জার্সিটা পান রোনি। ২০০৩-২০০৮ সাল পর্যন্ত দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে এই জার্সির মানও রক্ষা করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। এ সময়ের মধ্যে বার্সা জয় করে দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা। ২০০৮ সালে বার্সা ছেড়ে যাওয়ার সময় নিজের এই ১০ নম্বা জার্সিটা রোনল্ডিনহো মেসিকে দিয়েছিলেন। সাক্ষাতকারে এ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ক্লাব ছাড়ার কয়েক মাস আগে সে খুব চিন্তিত ছিল। আর চলে যাওয়ার এক মাস আগে সে আমাকে জার্সিটি দেয়। তখন আমি জার্সিটি না দেখেই নেই। কিন্তু তখন যদি চিন্তা করতাম যে এ জার্সি গায়ে তিনি কত কিছু করেছেন, তাহলে হয় তো আমি সেটা নিতাম না।

রোনাল্ডিনহোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেসি আরও বলেন, আমি যখন বার্সার ‘বি’ দলে ছিলাম, তখন মূল দলের সবাই আমাকে ড্রেসিং রুমে স্বাগতম জানাত। তবে রোনাল্ডিনহোই আমাকে মূল দলে আসার বিষয়ে স্বাগত জানিয়েছিল। ১০ নম্বর জার্সির মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হননি বার্সা ডায়মন্ড। ২০০৮ সালের পর ১০ নম্বর জার্সি গায়ে জিতেছেন পাঁচ লা লিগা ও তিন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা। গড়েছেন নতুন নতুন রেকর্ড। ২০০৯ সাল থেকে টানা চারবার ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।

স্পেনের সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড ডেভিড ভিয়া বলেছেন, বার্সিলোনার ইতিহাসের সেরা আক্রমণভাগ হচ্ছে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমার সমন্বয়ে গড়া ‘এমএসএন’। সাক্ষাতকারে সাবেক বার্সা তারকা বলেন, নিঃসন্দেহে তারা বার্সার ইতিহাসের সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। এমএসএন যা করে চলেছে তা আর কেউ করতে পারেনি। এদিকে ২০১৩ সালে বার্সিলোনায় নাম লেখানো নেইমার ইউরোপিয়ান ফুটবলের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। এবারের ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের তিন জনের চূড়ান্ত তালিকায় মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে আছেন তিনি। ব্রাজিলের এ ফুটবল সেনসেশনকে বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে দেখছেন মেসি-নেইমারের ক্লাব সতীর্থ বার্সার রাফিনহা।

সাক্ষাতকারে রাফিনহা বলেন, কোন সন্দেহ নেই বার্সার ‘১০‘ নম্বর জার্সি গায়ে খেলা মেসিই ফিফা ব্যালন ডি’র পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। তবে নেইমারের ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা জানি। সে বার্সায় প্রথম মৌসুমে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। দ্বিতীয় মৌসুমে সে যা করেছে তাতে নেইমারকে বিশ্বসেরা না বলে কোন উপায় নেই। কার্যকরী এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, আমি নেইমারের সত্যিকারের একজন ভক্ত। মেসিকে আমার কাছে অন্যগ্রহের ফুটবলার মনে হয়। ভবিষ্যতে নেইমার বিশ্বের এক নম্বর ফুটবলার হতে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে মেসিই সেরা।