১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আফগান লজ্জায় শুরু বাংলাদেশের সাফ মিশন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কথার ফুলঝুলি ভালই ছুটিয়েছেন কোচ মারুফুল হক ও অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। দেশে একাধিকবার এ দু’জন বলেছেন, ‘দল পাল্টে গেছে, এবার শিরোপা ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না’। ভারতে উড়াল দেয়ার পরও একই কথা শোনান তারা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গোহারা হেরেছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তানের কাছে লাল-সবুজের দেশের হার ৪-০ গোলে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরলের ত্রিভানদ্রাম ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আফগানদের হয়ে গোলগুলো করেনÑ মাসিহ সাইগানি, ফয়সাল শায়েস্তা, জুবায়ের আমিরি ও বদলি খেলোয়াড় খাইবার আমানি। ম্যাচে কোন সময়ই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেননি মামুনুল, জাহিদ, মুন্নারা। কোচ ও অধিনায়ক যে গালগল্প করেছেন, মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশকে দেখা গেছে চরম অগোছাল। দলে ছিল না কোন সমন্বয়। রক্ষণ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ সবখানেই খাবি খেয়েছে দল। প্রতিপক্ষের চেয়ে টেকনিক, টেকটিস থেকে শুরু করে প্রতি পজিশনে যোজন যোজন পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলগুলো আদায় করে নেয় আফগানরা। যার ফসল হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম জয় তুলে নেয় পিটার সেগার্টের দল। এই জয়ে সেমিফাইনালে খেলার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল আফগানিস্তান। অন্যদিকে বড় হারে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ধূসর হয়ে গেল বাংলাদেশের। শেষ চারের টিকেট পাওয়ার জন্য নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে ভাল করা ছাড়াও অন্য দলের খেলার ফলাফলের দিকে চেয়ে থাকতে হবে মারুফুল হকের দলকে। ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে মালদ্বীপ। বিজয়ী দলের হয়ে ম্যাচের নয় মিনিটে আহমেদ ইমাজ, ৩১ মিনিটে আসাদুল্লাহ আব্দুল্লাহ ও ৭০ মিনিটে আলী আশফাক গোলগুলো করেন। ভুটানের একমাত্র গোলটি করেন দর্জি ম্যাচের ২০ মিনিটে।

কিক অফের মধ্য দিয়ে ম্যাচ শুরুর পর থেকেই আফগানদের আক্রমণের তোড়ে খাবি খাতে থাকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। অবশ্য ম্যাচে প্রথম গোলের সুযোগ পায় বাংলাদেশই। কিন্তু সপ্তম মিনিটে স্ট্রাইকার সাখাওয়ানত হোসেন রনি গোলরক্ষককে একা পেয়েও বারপোস্টের ওপর দিয়ে মারেন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই নিয়ে নেয় আফগানরা। ম্যাচের ৩০ মিনিটে প্রথম গোল পায় তারা। আমিনির কর্নার কিক থেকে আসা বলে আমিরি গোলমুখে হেড করেন। ফিরতি বলে ফের হেডে লক্ষ্যভেদ করেন মাসিহ সাইগানি।

প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। দুই মিনিট পর আফগানদের হয়ে গোল করেন অধিনায়ক ফয়সাল শায়েস্তা। ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে আগুয়ান গোলরক্ষক শহিদুল আলমের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচের ৪০ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন আগের দুই গোলে এ্যাসিস্ট করা জুবায়ের আমিরি। ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পরও এলোমেলো, উদ্দেশ্যহীন ফুটবল খেলতে থাকেন রনি, নাসির, তপুরা। যে কারণে ম্যাচে ফেরা দূরে থাক, ব্যবধানেও কমাতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো ৬৯ মিনিটে খাইবার আমিনি চতুর্থ গোল করে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।

অনেক হাঁকডাক নিয়ে ভারত গেলেও মারুফুল হকের শিষ্যরা প্রথম ম্যাচে কিছুই করতে পারেননি। খেলা দেখে মনে হয়েছে মামুনুল, জাহিদদের প্রতিপক্ষ কোন বিশ্বকাপে খেলা দল। অবশ্য অনেকেই মনে করছেন, বেঙ্গল টাইগারদের বড় এই হারের অন্যতম কারণ ফুটবলারদের পা বাঁচিয়ে খেলা। সামনে দলবদল থাকায় কেউ ম্যাচে ঝুঁকি নিয়ে খেলেননি। অনেকটা গা ছাড়া ভাব দেখা যায়। যার খেসারত দিতে হয়েছে এক হালি গোল হজম করে। ম্যাচটিতে কোচ মারুফুল হকের অসহায়ত্ব চরমভাবে ফুটে ওঠে। অনেকের মতে, সাবেক ডাচ্ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফই ছিলেন বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত। তার অধীনে বঙ্গবন্ধু কাপে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। এরপর বাফুফে তাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেয় ইতালিয়ান ফ্যাবিও লোপেজকে। তার অধীনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয় লাল-সবুজের দল। এবার মারুফুল হক এ বছরে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূরণ করতে চলেছেন।