১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনী উষ্ণতায় শীত উধাও

সমুদ্র হক ॥ পৌষের এই সময়টায় শীত যে হারে জেঁকে বসেছে তাতে ঠকঠক করে কাঁপারই কথা। সেই কাঁপুনি কয়েকদিনের জন্য ‘ডেডলক’। মনে হবে ইলেকশন ওয়ার্মআপের ঠেলায় শীত থমকে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতির অবস্থা তা নয়। শীতের কাঁটা গায়ে বিঁধলেও তা গা করছে না প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। নির্বাচনী এলাকার দিকে তাকালে তাই মনে হবে। ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার অনেক এলাকাকে দেখে এখনও মনে হয় অজপাড়াগাঁ। মেয়র পদের তিন প্রতিদ্বন্দ্বীকেই সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই যেতে হচ্ছে এলাকাগুলোতে।

মোরগ কুককুড়ুক কু শব্দ করে সকালের জানান দিলেও অনেক মানুষের ঘুম ভাঙ্গে না। এর মধ্যেই ‘উড বি মেয়রের’ তিনজনই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এক্ষেত্রে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম মন্টুর মধ্যে তারুণ্যের আভা ৬৪ বছর বয়সেও উদ্ভাসিত হওয়ায় খুব স্পিডে প্রচার কার্যক্রমে এগিয়ে যাচ্ছেন। আরেকদিকে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী সিটিং মেয়র মাহবুবুর রহমানের বয়স প্রতিপক্ষের চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়ায় প্রচারকাজে দম ফেলতে হয় ধীরগতিতে। আরেক প্রার্র্থী মিনার প্রতীকের ইসলামী ঐক্যজোটের খেলাফতে মজলিস বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হকের অবস্থানটি ঢিলেঢালা। এতবড় পৌরসভার বর্ধিত এলাকার অনেক ভোটারের কাছে তিনি অপরিচিত। নড়েচড়ে বসতেও সময় লাগে। দুটি কথা কইতেও সময় টানে।

এদিকে নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীও যে খুব খোশমেজাজে আছেন, তাও নয়। পৌরবাসী খুব সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই দু’জনের প্রচারের পথটি রবীন্দ্রনাথের গানের মতো- ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে...’। তারপরও তারা একলা চলুক আর সমর্থক-সঙ্গীদের নিয়েই চলুক, ভোটের রণক্ষেত্রে মূল ফাইট এই দুই সেনাপতির মধ্যেই হবে। রেজাউল করিম মন্টু ও মাহবুবুর রহমান দু’জনই পৌর মেয়র ছিলেন। প্রথমজন (মন্টু) মেয়র থাকাকালীন মূল শহর এলাকায় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। বিএনপি শাসনামলে মাহবুবুর রহমান মেয়র পদে বিজয়ী হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে পৌর এলাকা ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার থেকে এক লাফে সাড়ে চারগুণ বাড়িয়ে প্রায় ৭০ বর্গকিলমিটার করা হয়। এই বর্ধিত এলাকার উন্নয়নের কচ্ছপগতি এবং পৌর সুবিধায় না পৌঁছানোর কারণে বিএনপি সমর্থক মাহবুবুর রহমান অনেকটা বিতর্কের মধ্যে পড়েন। তারপরও পরবর্তী নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হন বর্ধিত এলাকার উন্নয়নের আশ্বাসে। এবারের নির্বাচনে তিনি একই রেকর্ড বাজাচ্ছেন। সঙ্গে যোগ করেছেন সরকার বাজেট দেয় না। এই ভাঙ্গা রেকর্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাজাচ্ছেন একেবারে নতুন রেকর্ড।

বগুড়া পৌর নির্বাচনে ৭০’র দশক থেকে ৯০’র দশকের শুরু পর্যন্ত একটানা জনপ্রিয়তা ধরে রাখা পৌর চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের ইন্তেকালের পর যতবার নির্বাচন হয়েছে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকেন বর্তমানের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই দুই প্রার্থী। পৌর এলাকার মানুষের কাছে এই দু’জন এতটাই পরিচিত যে, ভোট চাওয়ার সময় ফেরানোর কোন পথ পায় না। তবে দিনকয়েক হয় হঠাৎ করে ড্রেনের পানি উপচে ওঠায়, কোন কোন সড়কের বাতি না থাকায় (ফিউজ হওয়ায়) এবং দাঁতমুখ খেঁচানো পথঘাটগুলোয় জনচলাচলে হোঁচট খাওয়ায় সিটিং মেয়র বিএনপি প্রার্থীকে নানা কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে। এই জায়গাটিতে ভোটের প্রচারে অনেকটা সুবিধা নিতে পারছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। পৌরবাসী বলাবলি করে, কায়দা আর বেকায়দা দুইয়ের মধ্যে পড়েছেন দুই প্রার্থী।

যত কায়দাই হোক প্রকৃতি শীতের তীব্রতা বাড়িয়েও কোন ফায়দা লুটতে পারছে না। শীত থামাতে পারছে না তাদের প্রচারে। দিনভর মাইকের প্রচার আর সন্ধ্যার পর জনসংযোগ শীত এগোতে পারে না। ভোট চাই ভোটারের দোয়া চাই সকলের- এমন সেøাগানের সঙ্গে মুখরিত হয়ে উঠেছে নগরী। তারপর তো প্রতীকে কান ঝালাপালা। কাউন্টডাউনের পালায় দিন যত ঘনিয়ে আসছে শোরগোল তত উপরে উঠছে।

নির্বাচিত সংবাদ