১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদার বক্তব্যের বিরূপ প্রভাব নওগাঁর মাঠে

বিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ ॥ পৌর এলাকায় নির্বাচনী প্রচার এখন তুঙ্গে। নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের প্রচার ততই বাড়ছে। অনর্গল মাইকে প্রচার সাধারণের কান যেন ঝালাপালা। কয়েক লাখ পোস্টারে ছেয়ে গেছে পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট ও অলিগলি। এলাকাজুড়ে চলছে ভোটের উৎসব। প্রচারে কেউ যেন পিছিয়ে নেই। দিনরাত নানাভাবে চলছে ভোটের প্রচার। এবারের নির্বাচনে নওগাঁ পৌরসভায় পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। অতিসম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ওপর। মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল স্তরের মানুষ ফুঁসে উঠেছেন। তারা খালেদার ধানের শীষ মার্কাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পক্ষান্তরে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে।

ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন, সে বিষয়টি কেউ প্রকাশ্যে তেমন একটা মুখ না খুললেও সকলেই যেন প্রার্থীদের যোগ্যতা বিশ্লেষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হাটে-বাজারে, রাস্তার মোড়ের চা দোকানে শুধু একই আলোচনাÑ কোন্ প্রার্থী ভাল, কাকে ভোট দেয়া যায়। তবে এবারের পৌর নির্বাচন সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা, চরিত্র, সততা বা যোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে না। এবার ভোটের লড়াই হবে রাজনৈতিক দলীয় মার্কার ওপর নির্ভর করে। ঠিক এমনটাই এখন ভোটারদের মুখে মুখে ফিরছে।

পৌরবাসী বিগত দিনে কী পেল কিংবা আগামী দিনে কী পাবে তা নিয়ে কোন মাথাব্যথা যেন নেই কারও। উন্নয়ন হোক বা না হোক, লুটপাট হয়েছে, লুটপাট হবেই (!) হয় ধানের শীষ, না হয় নৌকা! খোদ বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীসহ সকলের মুখে মুখে যে কথা প্রচলিত সেটি হলোÑ ‘সৎ আর উচ্চশিক্ষার কথা বলে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের কমিশন ভোগ আর নিজের আখের ঠিকই গুছিয়েছেন বর্তমান মেয়র এবং ফের মেয়র প্রার্থী নজমুল হক সনি। কিছু মুষ্টিমেয় কর্মী বাদে বেশিরভাগ নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করেছেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে কিছু এলাকায় ইউজি প্রজেক্টের কাজ শুরু হলেও কাক্সিক্ষত প্রতিশ্রুত পৌর উন্নয়ন কিংবা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিতে অনেকটাই ব্যর্থ হওয়ায় কারও কারও ধারণা, এবার নজমুল হক সনির ভরাডুবি অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু যেহেতু মার্কা এবার ধানের শীষ, তাই রক্ষা! তবে সবকিছু ভুলে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে বিএনপির প্রায় সকল নেতাকর্মী শুধুমাত্র ধানের শীষের মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে প্রচারে মাঠে নেমেছেন। তবে অতিসম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন এককাট্টা হয়ে ধানের শীষকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে করে বিরূপ প্রভাব পড়েছে ধানের শীষের ওপর।

আবার অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী দেওয়ান ছেকার আহম্মেদ শিষানের প্রতি সুদীর্ঘ সময় ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করে আসা শীর্ষস্থানীয় বেশকিছু নেতাকর্মীর মনোভাব অনেকটাই নেতিবাচক। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার নাকি সম্পৃক্ততা কম। সুদীর্ঘ সময় ধরে ঠিকাদারি ব্যবসা তার পেশা এবং প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া উল্লেখ করার মতো নয়। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলোসহ পৌর এলাকার দলীয় সভা-সমাবেশ সফল করতে তার আর্থিক ভূমিকা রয়েছে উল্লেযোগ্য। এমনকি দল পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্মীদের সহায়তাও করেছেন তিনি। যেহেতু তিনি নির্বাচনী মার্কা পেয়েছেন নৌকা, তাই হতে পারে তারও রক্ষা। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে দলীয় প্রায় সকল নেতাকর্মীই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন নৌকাকে জেতানোর জন্য। সেই সুবাদে বর্তমানে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নেতা আব্দুল জলিলের ভগ্নিপতি এবং মেয়র নজমুল হক সনির খালাত ভাই বিগত দিনে তিনবারের কমিশনার/কাউন্সিলর এবং বর্তমান প্যানেল মেয়র মোঃ আব্দুল ওয়াহাব এবার নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তার দ্বারা উপকারভোগী ভোটার এবং যারা শিষান বা সনিকে ভোট দেবেন না, সেসব ভোট তার ভরসা। এছাড়া চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শহীদুল ইসলামকে লোকজন চেনেন না বললেই চলে। তিনি হাতপাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। হাস্যকর হলেও সত্য, ভোটাররাই তাকে একনজর দেখার জন্য খুঁজছেন। অনেকের মতে, তার জামানত ফিরে পাওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা নেই।