১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিলেটে বিদ্রোহীরাই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেটের তিনটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই দলের মূল প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলের মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীরাও সমান তালে প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মুহূর্তে ৩টি পৌরসভায় জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। আওয়ামী লীগের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হলে অন্যরা সুবিধা নিতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। এখন দলমত নেই। নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরে বক্তব্য নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন প্রার্থীরা। কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সবাই। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে দিচ্ছেন চটকদার নানা প্রতিশ্রুতি। তিন পৌরসভার সব ক’টিতেই আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসেবে বড় রকম কোন পরিবর্তন না ঘটলে তিন পৌরসভায় ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। জকিগঞ্জ পৌরসভায় দলের মনোনীত প্রার্থী নিয়ে দলের ভেতরে বড় ধরনের অসন্তুষ রয়েছে। দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে নেতা কর্মীদের। অনেকে বলছেন দলের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াতের লোকদের ভাল সম্পর্ক রয়েছে। স্থানীয় নেতারা বলছেন স্থানীয়দের পরামর্শ না নিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। যে কারণে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে খোলামেলা কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক আহমদ ভোটের মাঠে ভাল অবস্থানে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন, বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ নেতা মাওলানা হিফজুর রহমান। জামায়াতের সমর্থন না পেলে এ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী বদরুল হক বাদল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুবধাজনক পর্যায়ে যেতে পারবেন না।

গোলাপগঞ্জে মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল জব্বার ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল। বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন। এ ছাড়া খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। এ পৌরসভায় এখন পর্যন্ত ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

কানাইঘাটে বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান। বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজানকে টেক্কা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বর্তমান মেয়রকে। আওয়ামী লীগের এ দুই প্রার্থীর গৃহবিবাদকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী মাঠে সুবিধা আদায় করতে চাচ্ছেন স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী জামায়াত নেতা অলিউল্লাহ।

নির্বাচিত সংবাদ