১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের আইনে নারী নির্যাতন প্রসঙ্গ

  • আতাউল্লাহ নুরুল কবীর

‘ইউএন উইমেন’-এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার, সড়ক দুর্ঘটনা, ম্যালেরিয়া ও যুদ্ধের কারণে ১৫ থেকে ৪৪ বছরের যতসংখ্যক নারী ও মেয়েশিশুকে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিত্ববরণ করতে হচ্ছে, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক নারী ও মেয়েশিশুকে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিত্ববরণ করতে হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতার কারণে।

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা বা নারী নির্যাতনের ব্যাপকতা ও ধরন ভয়াবহ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পদে পদে নারীকে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০১১-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে বিবাহিত নারীদের শতকরা ৮৭ জন কোন না কোন সময় স্বামীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। এই সর্বব্যাপী ভয়াবহ নির্যাতনের হাত থেকে নারীকে সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন সময় নতুন কিছু আইন হয়েছে, আবার পুরনো কিছু আইনে নারী নির্যাতনের বিষয়গুলো সন্নিবেশিত আছে, যা সংস্কার বা যুগোপযোগীকরণ প্রয়োজন। বাংলাদেশে প্রচলিত এসব আইনে উঠে আসা নারী নির্যাতনের বিষয়গুলো নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশের আইনে নারী নির্যাতন প্রসঙ্গ’ নামের একটি বই। বইটিতে ১১টি পরিচ্ছেদে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত আইন ও বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে, ‘নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ নিয়ে, যাকে নারী নির্যাতন বিষয়ে দেশের প্রধান আইন বলা যেতে পারে। নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইনে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও গুরুত্ব বিবেচনায় ‘ধর্ষণ’ বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ধরনগত কারণে বাংলাদেশে নতুন ও ভিন্নধর্মী একটি আইন ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০’ বিষয়ে তৃতীয় পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে। চতুর্থ পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশে নারীর প্রতি ‘এ্যাসিড সহিংসতা’ ও সে বিষয়ক আইন নিয়ে। ‘বহুবিবাহ’ ও তার কারণে সৃষ্ট নারী নির্যাতন বিষয়ে চিন্তাকর্ষক একটি আলোচনা আছে পঞ্চম পরিচ্ছেদে। ‘ফতোয়া’ ও তার ভয়াবহতা এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বইটির ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে। সপ্তম পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশে নারীপাচারের বাস্তবতা এবং ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২’ সংক্রান্ত বিষয়ে। অষ্টম পরিচ্ছেদে উঠে এসেছে ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২’ নিয়ে একটি বিশদ আলোচনা। তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমে নারী নিগ্রহ ও ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬’-এ এর প্রতিকার সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা আছে বইটির নবম পরিচ্ছেদে। ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, ২০১৪’ তে নারী ও শিশু প্রসঙ্গ বিষয়টি উঠে এসেছে দশম পরিচ্ছেদে এবং একাদশ পরিচ্ছেদে নারী নির্যাতন বিষয়ে জানুয়ারি ২০০৫ থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত ১০ বছরের আসক-এর সংগৃহীত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বইটির প্রতিটি পরিচ্ছেদে দেয়া আছে বেশকিছু প্রাসঙ্গিক কেসস্টাডি, যা লেখাগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। বইটির জন্য আসকের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল চমৎকার একটি মুখবন্ধ লিখেছেন, যা বইটিকে একটি দার্শনিক ভিত্তি দিয়েছে।