১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফল একজন

  • লুনা সামসুদ্দোহা

জাহিদ রহমান

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীরা আসবেন, তারা অবদান রাখবেন- এমনটি বোধ হয় এক সময় কারও ভাবনাতেই ছিল না। কিন্তু সেই বৃত্ত ভেঙ্গে অনেক আগেই নারীরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসা করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এক ধরনের পেশাদারিত্ব তৈরি করে নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় নিতে সক্ষম হয়েছেন। আর তাই মেধা, নেতৃত্ব, দক্ষতা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তারাও হয়ে উঠেছেন অনন্য একজন। লুনা সামসুদ্দোহা সেই বৃত্তভাঙ্গা নারীদের প্রথম কাতারের একজন। ‘দোহাটেক নিউমিডিয়া’ নামক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন তিনি। একজন সৃজনশীল সফটওয়্যার এন্টারপ্রেনার হিসেবে যিনি এখন সুবিখ্যাত। দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সুদৃঢ় করতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে যিনি একীভূত করতে পেরেছেন। তবে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মেয়েদের অন্যরকম এক উচ্চতায় নিতে তিনি ভীষণ রকম অঙ্গীকারবদ্ধ।

৯২ সালে পল্টন লেনে মাত্র দু’জন কর্মী নিয়ে ‘দোহাটেক’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ১শ’ জনেরও বেশি শুধু মেধাবী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন। শুরুতেই কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ শুরু করে ‘দোহাটেক’। এক সময় ডাব্লিউএইচও, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হয়েও এই কাজটি করেন তারা। বর্তমানে তাদের কর্মপরিধি প্রসারিত হয়েছে আমেরিকা, কানাডা, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স তৈরির ক্ষেত্রে ‘দোহাটেক’ বিরাট ভূমিকা পালন করছে। সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারাই ভোটার এনরোলমেন্ট সফটওয়্যার তৈরি করে, যে ধারাবাহিকতায় সবার জন্য ন্যাশনাল আইডি কার্ড তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ এ দেশে সম্ভব হয়েছে। ইলেকট্রিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপিতেও ‘দোহাটেক’-এর অবদান অসামান্য। বাংলাদেশ সরকারের এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন ফর দ্য পুররেস্ট (ই-জিপিপি) প্রকল্পের এমআইএস সিস্টেমও ‘দোহাটেক’-এর অবদান। এসব কাজের নেতৃত্বেই থেকেছেন লুনা সামসুদ্দোহা। সম্মুখ সারিতে থেকে তিনিই সব সময় নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ চুকিয়ে এক সময় ব্রিটিশ কাউন্সিলে টিচিং শুরু করেছিলেন লুনা সামসুদ্দোহা। কিন্তু পরবর্তীতে মনোযোগী হন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এখন এই সেক্টর ঘিরেই তার যত স্বপ্ন। বর্তমানে দেশ-বিদেশে এই সেক্টরের অনেক প্রতিষ্ঠান ও ফোরামের সঙ্গে যুক্ত তিনি। নিজ কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময় শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সম্মানিত এবং পুরস্কৃত হয়েছেন। প্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ভারত থেকে উইমেন লিডারশিপ এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, সুইডেন থেকে গ্লোবাল উইমেন ইনভেন্টরস এ্যান্ড ইনভেন্টরস নেটওয়ার্ক (গুইন) সম্মাননাসহ আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তিনি নানান ধরনের সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বেই প্রতিবছর এই দেশে ‘গার্লস ইন আইসিটি ডে’ পালিত হয়। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য। এ ছাড়াও এসএমই ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইউসেপ বাংলাদেশের মেম্বর ট্রাস্টি তিনি।

লুনা সামসুদ্দোহা মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তি এ দেশের মেয়েদের জন্যে খুবই ভাল একটি সেক্টর। এই সেক্টরে মেয়েদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তার মতে, গ্রামীণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের যেসব মেয়েরা খুব বেশি লেখাপড়া করতে পারেনি তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হলে নির্দ্বিধায় এই সেক্টরে তারা বড় ধরনের অবদান রাখতে সক্ষম। ঘরে বসেই তারা ডাটা এন্ট্রিসহ নানান ধরনের কাজ করে কর্মসংস্থান করতে পারবে। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রচুর সময় দেন সামসুদ্দোহা। কাজের প্রতি তিনি এতটাই অঙ্গীকারবদ্ধ যে, দিন এবং রাতকে আলাদা করে দেখেন না। তবে অবসরে নিজ হাতে রান্না করতে ভালবাসেন। বই পড়া বরাবরই তার পছন্দের। অসম্ভব বিনয়ী এবং সুন্দর মনের লুনা সামসুদ্দোহা মনে করেন, মানুষের শেখার শেষ নেই। তিনিও তাই প্রতিদিনই শিখছেন। শেখাটাই তার কাছে এক বড় আনন্দ।