২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বসাহিত্যের টুকরো খবর

দ্য ওয়াটার স্টোন চিলড্রেনস লরিয়েট হলেন ক্রিস রিডেল

ক্রিস রিডেলকে প্রদান করা হলো দ্য ওয়াটার স্টোন চিলড্রেনস লরিয়েটের দায়িত্ব। ক্রিস রিডেল মূলত ব্রিটেনের একজন শিশুসাহিত্যিক, প্রচ্ছদশিল্পী এবং অবজারভারের রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট। আগামী দুই বছরের জন্য তাঁকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ যাবতকালের ওয়াটার স্টোন চিলড্রেনস লরিয়েটদের মধ্যে তাঁর অবস্থান নবম। শিশুদের স্কুল এবং প্রত্যন্ত এলাকায় শিশুদের সৃষ্টিশীল কর্মের অনুপ্রেরণামূলক কর্মকা পরিচালনা করবেন তিনি। শিশুদের মা-বাবাদের প্রতিও তাঁর আহ্বান হলো, তাঁরা যেন শিশুদের ভেতরের প্রতিভা প্রকাশের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন। চিলড্রেনস লরিয়েট স্টিয়ারিং গ্রুপের প্রধান আবিগেইল ক্যাম্পবেল বলেন, ক্রিস সৃষ্টিশীল কর্মের এক শক্তির আঁধার। তাঁর কথা শুধু ছোটরাই শুনবে এমন নয়; বড়রা যাঁরা বিভিন্ন নীতিনির্ধারণীর দায়িত্বে থাকেন এবং জনমত তৈরি করতে পারেন তাঁরাও শুনবেন তাঁর কথা। আগামী দুই বছরে তিনি যেসব কাজকর্ম করবেন, সেগুলোর মাধ্যমে শিশুদের উৎসাহিত করবেন এবং তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করবেন। লরিয়েটের দায়িত্ব পেয়ে ক্রিস রিডেল বেশ উচ্ছ্বসিত।

মাইলস ফ্রাঙ্কলিনের সংক্ষিপ্ত তালিকা

নিউইয়র্কভিত্তিক অস্ট্রেলীয়-জাপানী লেখক ক্রিস্টিন পাইপারের প্রথম উপন্যাস ‘আফটার ডার্কনেস’ প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে। বইটি সে বছরই ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার অর্থমূল্যের অস্ট্রেলিয়ান/ ভোগেল লিটারারি এ্যাওয়ার্ড জয় করে সাহিত্য মহলকে চমকে দেয়। প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবে এটি আরেকটি চমক সৃষ্টি করেছে। তা হচ্ছে, এটি অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ মাইলস ফ্রাঙ্কলিন প্রাইজের জন্য মনোনীত বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এবারের পুরস্কারের পাঁচজনের সংক্ষিপ্ত তালিকার চার জনই নারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্যাম্পে আটক এক জাপানী ডাক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদকালে তাঁর মধ্যে এক আত্মপরিচয়ের সঙ্কট সৃষ্টি হয়। সেই গল্পই ক্রিস্টিন তুলে এনেছেন তাঁর গল্পে। তালিকার অন্য বইগুলো হচ্ছে, সোনিয়া হার্টনেটের ‘গোল্ডেন বয়েজ’, সোফি লাগুনার ‘দি আই অব দ্য শিপ’, জোয়ান লন্ডনের ‘দ্য গোল্ডেন এইজ’ ও ক্রেইগ শারবোর্নের ‘ট্রি প্যালেস’। এর মধ্যে জোয়ান লন্ডন ও সোফি লাগুনা ২০১৫ সালের স্টেলা প্রাইজের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও রয়েছেন।

তানিয়া ল্যান্ডমান পেলেন কার্নেগি পুরস্কার

শিশুসাহিত্যের প্রধান পুরস্কার জয় করেছে ইতিহাসের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কাহিনী ‘বাফেলো সোলজার’। লিখেছেন তানিয়া ল্যান্ডমান। এখানকার কাহিনীর সুর বড় বেদনাবিধুর। লেখক কাহিনী বর্ণনার ভার তুলে দিয়েছেন অল্পবয়সী আফ্রিকান-আমেরিকান দাস মেয়ে শার্লটের ওপর। এ রকম একজন অল্পবয়সী নিপীড়িত মানুষের মুখে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের শেষের দিকের কথা প্রকাশ করেছেন লেখক তানিয়া ল্যান্ডমান। তবে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, লেখক একজন চরিত্রের মুখে বয়ানের দায়িত্ব দিলেও উপস্থাপনে যথেষ্ট পরিমিতি বজায় রেখেছেন। এখানকার কাহিনী টনি মরিসনের ‘বিলাভিড’সহ অন্যান্য উপন্যাসের কথা মনে করিয়ে দেয়। কার্নেগি শিশুসাহিত্যের পুরস্কার গ্রহণকালে তানিয়া ল্যান্ডমান ব্রিটেনের জাতীয় পাঠ্যক্রম সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, শিশুদের মধ্যে যেটুকু কল্পনা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, সেটুকু জোর করে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের সৃষ্টিশীল হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কার্নেগি পুরস্কার দেয়া হচ্ছে ১৯৩৬ সাল থেকে। এ পুরস্কার পেয়েছেন টেরি প্রাসেট, সিএস লিউইসের মতো বিখ্যাত লেখকরাও।

অঞ্জন আচার্য