২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংঘাত নয়, সমঝোতার বার্তা

  • মোদির আকস্মিক পাকিস্তান সফর, নওয়াজের সঙ্গে বৈঠক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ব্যক্তিগত ফোন থেকে পাকিস্তানে তার আকস্মিক সফরের সূচনা হয়। মোদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে শুক্রবার সকালে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফোনটি করেন।

প্রায় চার ঘণ্টা পর মোদি শরীফের সঙ্গে অনির্ধারিত সাক্ষাতের জন্য পাকিস্তানের লাহোর শহরে অবতরণ করেন। এত সংক্ষিপ্ত নোটিসে সফরটি অনুষ্ঠিত হয় যে শরীফের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সময়মতো ইসলামাবাদ থেকে রওনা দিতে পারেননি। প্রায় ১২ বছরের মধ্যে এটিই কোন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পাকিস্তান সফর। দুটি পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন করে রেখেছে। তাঁদের আশঙ্কা, দুটি দেশের মধ্যকার পরোক্ষ লড়াই এক বাস্তব লড়াইয়ের রূপ নিতে পারে। মোদি আফগানিস্তানকে সামরিক সহায়তাদানসহ সে দেশে ভারতের ভূমিকাকেও বড় করে দেখাচ্ছেন। এটি পাকিস্তানী নেতাদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে ঝুঁকি রয়েছে।

কিন্তু শুক্রবার মোদি তার ব্যক্তিগত স্বতঃস্ফূর্ত কূটনীতির চমক দেখিয়ে প্রকাশ্যে এক শক্তিশালী বার্তা পাঠালেন। এটি হলো এই যে, তিনি যে পাকিস্তানের প্রতি অস্পষ্টনীতি গ্রহণ করে এগোচ্ছেন, তা বদলে গিয়ে সংঘাত নয়, সমঝোতার নীতিতে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে তার প্রশাসন সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্য নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করার এ বার্তারই আভাস দিচ্ছিল। মোদি পাকিস্তান সম্পর্কে মিশ্র আভাস দিয়েছিলেন। তিনি গত বছর তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়ে অনেককে বিস্মিত করেছিলেন, কিন্তু তিন মাস পরই কাশ্মীরী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানী কূটনীতিকদের বৈঠককে কেন্দ্র করে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত করে সেই প্রাথমিক সমঝোতার প্রয়াস হঠাৎ বন্ধ করে দেন। ভারতের বার্তা সংস্থা ‘দি ওয়্যার’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারঞ্জন বলেন, মোদি সবাইকে খানিকটা এ আভাসই দিচ্ছেন যে আর পথ পাল্টানো হবে না। তিনি এ প্রক্রিয়াতে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। তিনি এখন খুব সহজেই এ থেকে সরে যেতে পারবেন না। আফগানিস্তানেই মোদির দিনটির সূচনা হয়। সেখানে তিনি ভারতের প্রায় ৯ কোটি ডলারের সহায়তায় আট বছরে নির্মিত নতুন পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধন করেন। তিনি তিনটি এমআই-২৫ এ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর শহীদ সদস্যদের শিশুদের জন্য ৫০০ নতুন বৃত্তি প্রদান করেন। এতে আফগানিস্তানে ভারতে উপস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ দেখা দেয়। মোদি বলেন, এমন কেউ কেউ আছেন যারা চান না আমরা এখানে থাকি। এমন লোকজন আছেন যারা এখানে আমাদের উপস্থিতিতে অশুভ অভিসন্ধি দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের ওপর আপনাদের আস্থা আছে বলেই আমরা এখানে আছি। আপনারা জানেন, ভারত প্রতিযোগিতা করতে নয়, অবদান রাখতে, সংঘাতের আগুন জ্বালাতে নয়, ভবিষ্যতের ভিত্তি রচনা করতে, কোন জাতিকে ধ্বংস করতে নয়, জীবন পুনর্গঠন করতে এখানে রয়েছে।

মোদি লাহোরের বাইরে শরীফের ব্যক্তিগত বাসভবনে পৌঁছে পাকিস্তানী নেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। শরীফের নাতনির বিয়ে উপলক্ষে বাসভবনের আশপাশ সাজানো হয়েছিল। পাকিস্তানের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বেশিরভাগই মোদির সফরকে স্বাগত জানিয়ে এটি দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের পথে উৎসাহ যোগাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে। বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির অন্যতম নেতা আইতজাজ আহসান বেসরকারী টিভি নিউজ নেটওয়ার্ক জিওকে বলেন, আজকের দিনটি পাকিস্তান ও ভারতের জন্য শুভ। ভারতের সরকারবিরোধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এক নেতা মোদির সফরকে ‘অঘোষিত, নজিরবিহীন ও অরাষ্ট্রনায়কোচিত’ বলে সমালোচনা করেন। দলের ঐ সিনিয়র নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, গত প্রায় ৬৭ বছরের মধ্যে কোন প্রধানমন্ত্রীই এভাবে অন্য কোন দেশে অবতরণ করেননি। মোদি পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী দলগুলো ভেঙ্গে দেয়া বা ২০০৮-এর মুম্বাই হামলার অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করার বিষয়ে কোন অগ্রগতি দাবি করতে পারেন কিনা, কংগ্রেস নেতা সেই প্রশ্ন করেন। -নিউইয়র্ক টাইমস