১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিল্ক রোডের পুনরুজ্জীবন চায় চীন, উদ্বিগ্ন তুরস্ক

  • প্রাচীন বাণিজ্য পথের আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই লক্ষ্য

সিল্ক রোড নামে পরিচিত প্রাচীন বাণিজ্য পথটির পুনরুজ্জীবন ঘটাতে ইচ্ছুক চীন। কিন্তু চীনের বাণিজ্যিক সহযোগী দেশগুলো এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা এটি হলে চীনের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে। বেজিংয়ের এ উদ্যোগ নাড়িয়ে দিতে পারে ভূরাজনৈতিক সম্পর্ককেও।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছিল। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের সঙ্গে ৩৪০ কোটি ডলারের যৌথ উদ্যোগের একটি পরিকল্পনাও তুরস্ক সম্প্রতি নিয়েছিল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তা তুরস্কের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করত নিঃসন্দেহে। কিন্তু উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার (নেটো) চাপে কয়েক সপ্তাহ আগে আঙ্কারাকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। ন্যাটো জোটের আশঙ্কা ছিল ন্যাটো সদস্য হিসেবে তুরস্কের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপন তথ্যের নাগাল পেয়ে যেতে পারে চীন।

চীন এখন এক হাজার বছরের বেশি পুরনো বাণিজ্যিক রুটটি নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই রুটে প্রাচীনকালে সমুদ্র হয়ে স্থলেপথে দূর প্রাচ্য থেকে পণ্য পশ্চিমা দেশগুলোতে যেত। চীনের নতুন অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে তুরস্ক ও সিল্করোডের আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বেল্ট এ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নামে চীনের নয়া উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছে। তারা মনে করছে এতে চীনের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা আরও বেড়ে যাবে। মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান বেজিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ইতোমধ্যেই চীনের বিনিয়োগ এবং চীন থেকে লোক আসা সীমিত করে দিয়েছে। অপর মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তান ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দিয়েছে। চীনের সহযোগিতায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন সম্পর্কে তুরস্কের অবস্থান হলো ন্যাটোর ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। ন্যাটো অথবা চীন কারও ওপরই বেশি নির্ভরশীল না থেকে তুরস্ক এর মাঝামাঝি একটি পথ অবলম্বন করতে চায়। তুরস্কের ন্যাশনাল ডিফেন্সের আন্ডার সেক্রেটারি ইসমাইল ডেমির বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও ন্যাটো সব সময় সমার্থবোধক নয়।’ কিন্তু চাপে তুরস্ককে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি নিয়ে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তির বিষয়টি ছাড়া আরেকটি কারণ এখানে কাজ করেছে সেটি হলো চায়না প্রেসিশন মেশিনারি ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কর্পোরেশন নামের সংশ্লিষ্ট চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আইনের আওতায় পড়ে। কারণ কোম্পানিটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও সিরিয়ার কাছে ব্যলিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস