১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলে ফ্যাক্টর আওয়ামী লীগের ছয় বিদ্রোহী

ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল ॥ আটটি পৌরসভার চারটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়রপদে নির্বাচন করছেন। দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের। কিন্তু এই বহিষ্কার তাদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। পুরোদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিজয়ী হলে দলে ফেরার আশা ব্যক্ত করছেন অনেকেই। তবে আওয়ামী লীগ এদের সমস্যা মনে করছেন না। অপরদিকে শুধু সখীপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলার ভূঞাপুর পৌরসভায় মেয়রপদে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নির্বাচনে চরম বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের ওই দুই বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মআহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম চঞ্চলকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তারা দমে যাননি; আরও জোরেশোরে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে এসব বিষয়কে পাত্তা না দিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, দল বহিষ্কার করলে সে আর দলের থাকে না। বহিষ্কৃতরা দলের কেউ না। বিএনপির এজেন্ট হয়ে তারা কাজ করছে। দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার পরাজয় নিশ্চিত জেনে তার গু-াবাহিনী দিয়ে আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। হুমকিধমকি দিচ্ছে। তবে নির্বাচন না করতে দলের চাপ রয়েছে বলে তিনি জানান।

কালিহাতী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন খালিদ। তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম। হুমায়ুন খালিদ বলেন, প্রচারণা চালাতে মাঝে মধ্যে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। তবে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আনছার আলী বিকম বলেন, সে উপজেলা আওয়ামী লীগের কেউ নন। তাকে এলাকায় কেউ চিনে না। ভোটে কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। গোপালপুর পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হক ছানা। সেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বেলায়েত হোসেন। বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমার প্রচারে বাধা দিচ্ছে। গোপালপুর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগাতে দেয়নি। ডুবাইলে আমার নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। আমার কর্মীদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এ ব্যাপারে রকিবুল হক ছানা বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। সে নির্বাচনে জামানত হারানোর ভয়ে এসব বলছে। এদিকে ধনবাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম তপন। সেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জহুরুল হক বকল। তপন বলেন, বকল আওয়ামী লীগের সমর্থক। দলে তার কোন অবস্থান নেই।

সখীপুর পৌরসভায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আযম খান এ খবর নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সারাদেশের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের সঙ্গে তাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির বিদ্রোহী মেয়রপ্রার্থী সানোয়ার হোসেন সজীব বলেন, আমি দলের কাছে মনোনয়নই চাইনি। দল আমাকে বহিষ্কার করেছে না রেখেছে, এটা নিয়ে ভাবি না।