২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জানুয়ারিতে নতুন স্কেলে বেতন তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

  • সংশোধিত আইডি কার্ড পাননি সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র এখনও হাতে না পাওয়ায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন স্কেলে বেতন ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। কিন্তু যারা ভুল সংশোধনের আবেদন করেছেন তাদের আইডি কার্ড প্রস্তুতে বিলম্ব ঘটছে। ফলে জানুয়ারিতে বেতন উত্তোলন নিয়ে তারা রয়েছেন ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

সরকারী-আধাসরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী পত্রিকা অফিসে টেলিফোন করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তারা জানান, কর্মস্থল থেকে তাদের কাছে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে না পারলে নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে কর্মকর্তা কর্মচারীরা রয়েছেন গভীর উৎকণ্ঠায়।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায়, কর্মকর্তা কর্মচারীরা এখন রয়েছেন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম কিংবা নতুন আইডি কার্ড সংক্রান্ত কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে কথা বলবার মতো পর্যাপ্ত সময়ও এখন তাদের নেই। অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীই অভিযোগ করে জানান যে, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে নির্বাচন অফিসের কাছ থেকে তারা সদুত্তোর পাননি।

এদিকে, সরকার থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন বছরের জানুয়ারিতেই নতুন স্কেলে বেতন পাবেন সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা। গত জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় বর্ধিত বকেয়া বেতন দেয়া হবে দুই কিস্তিতে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও এতে অনেকের কার্ডেই ভুলভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষ করে নাম ঠিক থাকলেও জন্মতারিখে ভুল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া পিতা-মাতার নাম এবং ঠিকানায় ভুলও প্রচুর। অনেকেরই অনুযোগ, পরিচয়পত্রে ভুলভ্রান্তির দায়ভার তারা কেন নেবেন?

বেসরকারী চাকুরেদের বেতন ভাতার ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র মুখ্য না হলেও ভুলে ভরা পরিচয়পত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ফলে নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের পরিচয়পত্র সংশোধনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়। এক্ষেত্রে যথেষ্ট বিড়ম্বনার শিকারও হতে হয়। কেননা, যাদের শিক্ষা সনদ নেই তাদের এফিডেভিট এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার প্রয়োজনও হয়েছে। এতে করে ছুটাছুটির পাশাপাশি হয়েছে অর্থ ব্যয়। কিন্তু ডিসেম্বর মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তারা এখনও সংশোধিত পরিচয়পত্র হাতে পাননি।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ খোরশেদ আলম এ প্রসঙ্গে জানান, নাগরিকদের আবেদন অনুযায়ী তাদের তথ্য সংশোধন করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি কাজটুকু কেন্দ্রেই হবে। পরিচয়পত্র পেতে কেমন সময় লাগতে পারে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজ বেশ দ্রুত চলছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাস গড়িয়ে যেতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে বিলম্ব হওয়ায় বেশ চিন্তায় পড়েছেন সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অনেকেই জানান, তাদের অফিসের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আইডি কার্ডের জন্য তাদের চাপ দেয়া হচ্ছে। আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন স্কেলে যে বেতন পরিশোধ করা হবে তা থেকে তারা বাদ পড়তে পারেন এমন শঙ্কারও সৃষ্টি হয়েছে। আর সরকারী কাজে একবার ঝামেলায় পড়লে তা থেকে বেরিয়ে আসা যে কত কষ্টসাধ্য তা ভুক্তভোগীরাই ভাল জানেন।

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, এর জন্য সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেননা, তারা সরকার ঘোষিত সময়সূচীর মধ্যেই যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছেন। যদি এরমধ্যে সংশোধিত আইডি কার্ড হাতে না আসে তার দায়ভার আবেদনকারীদের নয়। তিনি বলেন, সংশোধন করে সে তথ্য নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিচয়পত্রের সংশোধন তো হয়ে গেছে। আইডি কার্ড হাতে পেতে কিছু বিলম্ব হচ্ছে, এই যা। এতে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলে তিনি জানান।