১৬ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মনোরম শীতকাল

মনোরম, আরামদায়ক এক প্রকৃতি ও পরিবেশের খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। পৌষের শুরুতে আকাশ মাঝে-মধ্যে আংশিক মেঘলা থাকা সত্ত্বেও আবহাওয়া মোটের ওপর থাকবে শুকনো। মধ্যরাত থেকে সকল নদ-নদীর অববাহিকায় বিরাজ করবে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা। উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়তে পারে এক থেকে দুই ডিগ্রী সেলসিয়াস। দিনের তাপমাত্রা থাকবে অপরিবর্তিত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৌষের হাড়কাঁপানো শীতের বার্তা পাওয়া যায়নি এখনও। মাঘেও যে মিলবে তার নিশ্চয়তা নেই। এই না শীত না গরম আবহাওয়া এক কথায় উপভোগ্য ও আরামপ্রদ। হাড়হিম ঠা-ায় জবুথবু হয়ে ঘরে বসে থাকার জো নেই। বরং হাল্কা শীতবস্ত্রসমেত বেরিয়ে পড়া যায় ঘরের বাইরে পরিবার-পরিজন নিয়ে। মানুষ যায়ও সদলবলে মিরপুর চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে। শিশু পার্কে অথবা আহসান মঞ্জিলে। আরও একটু দূরে ঐতিহাসিক সোনারগাঁ, মেঘনা অথবা যমুনা রিসোর্ট অথবা মধুপুরে। সামনে দু’চারদিন ছুটিছাটা থাকলে চাই কি দীর্ঘতম বেলাভূমি কক্সবাজার, কুয়াকাটা কিংবা হিল রিসোর্ট বান্দরবান-রাঙ্গামাটি-সিলেট। রবীন্দ্রনাথ বোধ হয় এরকম কোন উপলক্ষেই লিখেছিলেন, কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা....

মানুষ আজকাল নগরজীবন থেকে প্রায়ই মুক্তি চায়। মহানগরীর নিত্য অসহনীয় যানজট, জনজট, ধূলি ও ধোঁয়া থেকে সময় পেলেই সে পালিয়ে বাঁচতে চায়। ঈদ-উল-আজহা, ঈদ-উল- ফিতর, শারদীয় দুর্গোৎসব, মেরি ক্রিসমাস, খ্রিস্ট নববর্ষ অথবা বৈশাখী বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মানুষ গ্রামগঞ্জে নিজ বাড়িতে যায় প্রিয়জনের সান্নিধ্যে। আর শীতকালে ছোটে দেশ দেখার আমন্ত্রণে। আর শীতকাল যেহেতু শুকনো ও আর্দ্রতামুক্ত, তাপমাত্রা আরামদায়ক ও উপভোগ্য, বৃষ্টি বাদলা, জলকাদা অথবা স্যাঁতসেঁতে গরম ও ঘামের ভয় নেই, সেহেতু শীত ঋতুকেই সে বেছে নেয় বেড়ানোর অভিপ্রায়ে। এ সময়ে সে দেখতে চায় একটি ধানের শীষের ওপর একটি শিশির বিন্দু, আদিগন্ত সুবিস্তৃত সর্ষে ক্ষেত, লাউমাচা, খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি, পিঠেপুলির ধুম, রোদ বা আগুন পোহানো সর্বোপরি মৌমাছিদের ফুলের মধু খেয়ে ফুলের ওপর ঘুমিয়ে থাকার অপরূপ দৃশ্য। বাস্তবে মানুষ আজকাল ভ্রমণে তথা দেশ দেখায় ক্রমশ আগ্রহী হচ্ছে। গত কয়েক বছরে অভ্যন্তরীণ পর্যটন অনেক বেড়েছে। আর এর জন্য শীতকালই সর্বাধিক উত্তম ও বিধেয়।

তবে একথাও সত্য যে, বৈশ্বিক আবহাওয়া ও ঋতুচক্র ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আশঙ্কার ইঙ্গিত। এর অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় পৃথিবীতে মানুষসৃষ্ট মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকে। বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিচ্ছে আবহাওয়ার খামখেয়ালীপূর্ণ আচরণ। বাংলাদেশও এই বৃত্তের বাইরে নয়। ফলে শীত ও বসন্তকাল হচ্ছে অপেক্ষাকৃত হ্রস্ব। গ্রীষ্মকাল হচ্ছে প্রলম্বিত। সে অবস্থায় সচেতন হতে হবে আমাদেরও। প্রকৃতি ও পরিবেশকে বাঁচাতে হবে যে কোন মূল্যে। দায়িত্বসচেতন হতে হবে সবাইকে।

বিবিসি খবর দিয়েছে, দূষিত বাতাসের কারণে চীনের রাজধানী বেজিংয়ে চতুর্থ দিনের মতো চলছে ‘রেড এ্যালার্ট’। সেখানকার বাসিন্দা বিশেষ করে শিশুদের শ্বাসকষ্ট নিবারণের জন্য কানাডা থেকে আমদানিকৃত রকি মাউন্টেনের বিশুদ্ধ বাতাসের ক্যান কিনে খাওয়াতে হচ্ছে। ঢাকার বাতাস এতটা মারাত্মক দূষিত না হলেও অন্তত ভাল যে নয়, একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। সুতরাং বিশুদ্ধ বাতাস সেবন এবং দু’নয়ন মেলে প্রকৃতিকে অবলোকনের নিমিত্ত বাইরে বেরিয়ে পড়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

এই মাত্রা পাওয়া