১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একুশ শতক ॥ ডিজিটাল রূপান্তর ও ডিজিটাল অপরাধ

  • মোস্তাফা জব্বার

॥ চার ॥

ডিজিটাল যুদ্ধ : অনেকের কাছেই এমন প্রশ্ন রয়েছে যে আগামী দিনে যুদ্ধ বিগ্রহের রূপটা কেমন কবে। ডিজিটাল যুদ্ধ কি ধীরে ধীরে অস্ত্রভিত্তিক যুদ্ধকে স্থলাভিষিক্ত করবে? যদিও দৃশ্যটি এখনও স্পষ্ট নয়, তথাপি ভয় তো লেগেই আছে। সাধারণত ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জগতে ডিজিটাল অপরাধের শঙ্কার পাশাপাশি এখন ডিজিটাল যুদ্ধের শঙ্কাও বাড়ছে। প্রচলিত যুদ্ধ ডিজিটাল যুদ্ধে রূপ নেবে সে বিষয়ে এখন আর কোন সন্দেহ নেই। সমরাস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক পুরনো। এখন বরং ভাবা হচ্ছে যে, ডিজিটাল সৈনিকদের নিয়ে ডিজিটাল যুদ্ধের মহড়া কবে হবে বা যুদ্ধটাও আমরা কবে দেখব। মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া থেকে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে দিচ্ছি।

The U.S. (DoD) notes that cyberspace has emerged as a national-level concern through several recent events of geo-strategic significance. Among those are included the attack on Ôs infrastructure in 2007, allegedly by Russian hackers. ÒIn August 2008, Russia again allegedly conducted cyber attacks, this time in a coordinated and synchroni“ed kinetic and non-kinetic campaign against the country of . Fearing that such attacks may become the norm in future warfare among nation-states, the concept of cyberspace operations impacts and will be adapted by warfighting military commanders in the future.

আমরা হয়ত এখনও জানি না যে ভবিষ্যতে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে যুদ্ধ বা রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যুদ্ধ আদৌ থাকবে কিনা আগামীতে পুরো যুদ্ধটাই হয়তো ডিজিটাল হয়ে যাবে।

২০১৩ সালের ২৯ মে মাসে দৈনিক প্রথম আলো খবর প্রকাশ করে যে, চীন জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর ডিজিটাল মহড়ার আয়োজন করছে। সম্ভবত দুনিয়াতে এটিই সামরিক বাহিনীর প্রথম ডিজিটাল যুদ্ধের মহড়া।

খবরে বলা হয়, চীনের উত্তরাঞ্চলে ইনার মঙ্গোলিয়া এলাকায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল আক্রমণের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডিজিটাল যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও খবরে প্রকাশ। এসব ঘটনা ঘটেছে এবং আমরা দিনে দিনে কেবল ছান-আমেরিকা নয় ডিজিটাল যুদ্ধ নিয়ে দুনিয়াকে উদ্বিগ্ন দেখতে পাচ্ছি। অনেকই মনে করেন রাষ্ট্রীয় সীমানা অধিকার করা বা ভূমি দখলের চাইতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে এই বিষয়টি নিরাপত্তার ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ও ডিজিটাল সংস্কৃতি : বাংলাদেশের ডিজিটাল জীবনধারা, এর সূচনা, বিকাশ ও প্রসারের পাশাপাশি ডিজিটাল অপরাধের ধরন ধারণ নিয়ে এর আগে কিছুটা আলোচনা হয়েছে। এতে আমাদের নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ সম্পর্কে ছোট একটি ধারণা দেয়া যেতে পারে।

খুব প্রাসঙ্গিক কারণেই ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এখন ডিজিটাল অপরাধের প্রসার ঘটছে। বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহারের পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধের সঙ্গেও ব্যাপকভাবে যুক্ত হচ্ছে। এদের কেউ অপরাধ করছে আবার কেউ সেই অপরাধের শিকারে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী এখন নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, যুবারা। এদের সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রী। এক সময়ে তারা কেবলমাত্র মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। মোবাইলেও এখন আর কেবল কথা বলা নয়। ইন্টারনেটসহ বিভন্ন ধরনের কাজে এখন ব্যাপকভাবে মোবাইল ব্যবহৃত হয়। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা প্রযুক্তিও প্রচলিত ফটোগ্রাফির জগতকে ব্যাপকভাবে ছাড়িয়ে গেছে। নানা ধরনের এ্যাপস এখন মোবাইলকে কম্পিউটারে পরিণত করেছে। অন্যদিকে এখন তাদের কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়েছে। তারা এখন কম্পিউটার ও মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে। এটি এখন আর ঢাকা শহরেও সীমিত নেই। এক সময়ে যদি ঢাকার বাইরে শ’ তিনেক ছাত্র-ছাত্রীর সমাবেশে জানতে চাওয়া হতো যে, তোমরা কয়জনে কম্পিউটার ব্যবহার কর, তখন দুয়েকটি হাত উঠতো। কিন্তু ২০১২ সালে আমি ময়মনসিংহের স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে যখন এই প্রশ্ন করলাম তখন তারা শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ কম্পিউটার ব্যবহার করছে বলে জানাল। ২০১৩ সালে নেত্রকোনাতেও দেখলাম যে, ব্যবহারকারীর সংখ্যা কেবলই বাড়ছে। তারা জানাল, ইন্টারনেটে ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর চাইতে বেশি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে। যদি আমরা আরেকটি ডিজিটাল যন্ত্র মোবাইল ফোনের হিসাব করি তবে আমাদের জনসংখ্যার তিন- চতুর্থাংশ মোবাইল কানেকশন এখন দেশে রয়েছে। এখন সংখ্যাটি ১৩ কোটির ওপরে। যদিও ব্যবহারকারীর সংখ্যা হয়ত কানেকশনের চাইতে কম। তবুও এত বেশি কানেকশন কম কথা নয়। অন্যদিকে সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে দেশে। শুধুমাত্র ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি। দিনে মোবাইল ব্যাঙ্কিং হয় ৫৫০ কোটি টাকা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এইসব ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ডিজিটাল মাত্রাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এজন্যই বাংলাদেশে ডিজিটাল মাধ্যমের অপরাধসহ অন্যান্য ভিন্ন ধরনের অপরাধ এখন সবচেয়ে বড় আলোচিত বিষয়। মাত্র কদিন আগে ফেসবুক-ভাইবার-হোয়াটস এ্যাপ বন্ধ করে সরকার এর তীব্রতা জানিয়ে দিয়েছে।

মোবাইল ও অপসংস্কৃতি: যে বিষয়টি আমাদের ভাবিত করছে সেটি হলো আমাদের ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারকারীরা কি এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করছেন, নাকি এর সাইড এফেক্ট বা কুপ্রভাব অনেক বেশি। আমরা কি ডিজিটাল যুগের সাংস্কৃতিক সঙ্কটেই রয়ে গেছি?

মোবাইলের যাত্রাটি যথেষ্ট আগে ও ব্যাপকভাবে হবার ফলে আমরা মোবাইল ব্যবহারের সাইড এফেক্ট সম্পর্কে খবর পাই আগে। মোবাইলে মিস কল প্রদান, বিরক্তিকর কল প্রদান, মেয়েদেরকে বিরক্ত করা, মোবাইলে পর্নো ছবি তোলা, ব্ল্যাকমেইল করা ও প্রকাশ করা ইত্যাদি ঘটনা অহরহ ঘটছে।

নানা ধরনের উৎপাতের খবর প্রকাশের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার উপায় জেনে যাবার পর তুলনামূলকভাবে এখন মোবাইলের বাজে ব্যবহার কিছুটা কমেছে। তবে নিবন্ধনহীনভাবে মোবাইলের সিম বিক্রি অব্যাহত থাকায় ভয়টা থেকেই যাচ্ছে। আইনের দিকে সতর্কতা ও আইনপ্রয়োগকারীদের কর্মতৎপরতা এক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর হয়েছে। এছাড়াও মোবাইলের কল ব্লক করার সুবিধা ও সেল থেকে কলারকে শনাক্ত করার সুবিধা পাবার ফলে কেউ মোবাইলে কোন অপকর্ম করে খুব সহজে পার পেতে পারে না। কলের রেকর্ড রাখার পাশাপাশি কল লিস্ট সংগ্রহ করার সুবিধাও এক্ষেত্রে অপরাধী শনাক্ত করতে সহায়ক হয়েছে। মোবাইলের বিক্রির সময় যদি নিবন্ধনের বিষয়টি আরেকটু সতর্ক করা যেত তবে কাজটি আরও সহজ হতো। আইনের প্রয়োগ আরেকটু বাড়লে মোবাইল নিয়ে দুশ্চিন্তা কমে যেতে পারে। তবে পরিচয়হীন ভিওআইপি কল বা ইন্টারনেট কলের আপদ নতুন করে দেখা দিয়েছে। এটি বস্তুত একটি সাংস্কৃতিক মানের প্রশ্নও। সভ্যতার নগরায়ন বা আধুনিকায়নের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা না গড়ে ওঠায় আমাদের রাষ্ট্রে ও সমাজে সঠিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। অনেক ক্ষেত্রেই এর অপসংস্কৃতির দিকটা বিকশিত হয়েছে।

ইন্টারনেট ও অপসংস্কৃতি : ইন্টারনেটের খারাপ প্রয়োগ দিনে দিনে বাড়ছে। আমি এখনকার অবস্থাটিকে ভয়ানক ও প্রলয়ঙ্করী বলে মনে করি। এটি দিনে দিনে মহামারীতে পরিণত হচ্ছে। সরকারের উচ্চ মহল হোক আর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হোক সকলের জন্য ইন্টারনেট একটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে প্রতারণা করা, অশ্লীলতা ছড়ানো, মানহানি করা, মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িকতার প্রসার, জঙ্গীবাদের পক্ষে ব্যবহার ও রাজনৈতিক অপপ্রচারের জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার অতীতের সকল সীমা অতিক্রম করেছে। হ্যাকিং-এর মতো ক্ষতিকর কাজও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। একটি সমাজে প্রযুক্তি প্রবেশের সময় নানা ধরনের উৎপাত যেমনি করে মানুষকে শঙ্কিত করে এখনকার ইন্টারনেট সম্প্রসারণের বিষয়টা তেমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করছে।

ইন্টারনেট মাধ্যমটি সারা দুনিয়াতেই মুক্ত মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পারতপক্ষে কোন দেশ একে শৃঙ্খলিত করতে চায় না। পশ্চিমা দুনিয়ায় বা তথাকথিত মুক্ত বিশ্বে ইন্টারনেটকে মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের স্বাধীনতা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। আমরা লক্ষ্য করব, কোন একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই খবরটির ওপর মন্তব্য করার সুযোগকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা কাজে লাগান। সাধারণ নাগরিকেরা সংবাদ তৈরিও করেন। কোন একটি ওয়েবসাইটে কোন তথ্য বা মন্তব্য থাকলে সেটির বিষয়েও মন্তব্য প্রদান করা যায়। এর ফলে যে কোন বিষয়ের ওপর সাধারণ মানুষ কিভাবে এবং তাদের কি প্রতিক্রিয়া সেটি খুব সহজেই গোচরীভূত হয়। ব্লগ লেখার স্বাধীনতা সেই সুযোগকে আরও সম্প্রসারিত করেছে। এক সময়ে আমরা কেবল পত্র-পত্রিকাতেই মতামত পেতাম। এখন ব্লগে যে কেউ তার নিজের মত প্রকাশ করতে পারছে। বলা যেতে পারে, মানবজাতি এর আগে আর কখনও এত স্বাধীন ছিল না। বাংলাদেশের মতো অনুন্নত ও রাজনৈতিকভাবে অস্থির ও অসহনশীল দেশেও এই অবস্থাটি অব্যাহত আছে। মাঝখানে দুবার এই সরকার ফেসবুক বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে এরপর সম্ভবত সরকারের নীতি নির্ধারকরা এটি অনুভব করেছেন যে, কোন কিছু বন্ধ করে দিয়ে তার সমাধান করা যাবে না। বরং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যাহত না করলে যেমন করে খারাপ মতটি প্রকাশিত হবে তেমনি খারাপের বিপরীতে ভালো মতটিও প্রকাশিত হবে। এক সময়ে সত্যই জয়ী হবে; এটিই স্বাভাবিক।

কিন্তু এত চমৎকার একটি সুযোগ ও প্রকৃত সম্ভাবনাময় একটি ব্যবস্থাকে যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অপব্যবহার করে তখন তাকে নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মাত্র কিছুদিন আগে ভারতের উচ্চ আদালত সেই দেশে অনেক ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকের পেজ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করেছে। সেইসব সাইটের মত প্রকাশের বিষয়টির চাইতেও জরুরী ছিল পর্নোগ্রাফি। ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি যে কতটা ভয়ঙ্কর সেটি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন অভিভাবকেরা। ছেলেমেয়েদেরকে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে দিতেও মানা করতে পারেন না, আবার ইন্টারনেটে থাকা বাজে উপাত্ত সন্তানের মানসিকতাকে কতটা বিপজ্জনকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে সেটি নিয়েও নিশ্চিত হতে পারেন না। এই সঙ্কটে পাকিস্তানও পড়েছে। বস্তুত বিশ্বের প্রায় সকল দেশই এই সঙ্কটের বাইরে নয়। বিগত দুই যুগ ধরে যখনই ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের ইন্টারনেট ব্যবহারে তাদের সন্তানদের উৎসাহিত করা ও সুযোগ দেয়ার কথা বলেছি, তখনই এই আশঙ্কার কথা প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থা সত্যি সত্যি ভয়ঙ্কর। এখানে কেবল যে ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির জন্য ব্যবহার করা হয় তা নয়, মোবাইল ফোন এই দেশের পর্নোগ্রাফির একটি বড় হাতিয়ার। শুধু আমাদের কথাই কেন বলি। ভারতের দুই মন্ত্রী সেদিন পদত্যাগ করেছেন সংসদে বসে পর্নো ছবি দেখার জন্য। আমাদের দেশে মেয়েদের ছবি মোবাইলে তুলে সেটি মোবাইলেই প্রচার করার একটি বাজে প্রবণতা গড়ে উঠেছে। এর বাইরে আছে ইন্টারনেটে মোবাইলে তোলা ছবির প্রচার। নামী-দামী লোকজন ছাড়াও সাধারণ ছেলেমেয়েদের নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে অহরহ ছাড়া হয়। কখনও ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই এসব মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়। আমরা পত্র-পত্রিকায় এমন অসংখ্য খবর পড়েছি। উন্নত দেশগুলোতে পর্নোগ্রাফি তেমন কোন বড় ঘটনা না হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান বা এমন উন্নয়নমুখী দেশগুলোর জন্য পর্নোগ্রাফির অত্যাচার প্রকটভাবে সামাজিক সঙ্কট তৈরি করছে। পশ্চিমা দেশের সমাজটি খোলামেলা বলে তারা ইন্টারনেটে কি আছে তাতে তেমন মাথা ঘামায় না। কিন্তু আমরা কোনভাবেই এসব বিষয়ে নীরব থাকতে পারিনা। বস্তুত ইন্টারনেটের স্বাধীনতার জন্য আমাদের সাংস্কৃতিক মান উন্নত করার বিষয়টি অনেক গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। অন্যথায় স্বাধীনতার এই দুয়ারটি সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে।

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ॥

mustafajabbar@gmail.comww

w.bijoyekushe.net,ww w.bijoydigital.com

এই মাত্রা পাওয়া