১৯ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুরু হচ্ছে মাশরাফিদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প

শুরু হচ্ছে মাশরাফিদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প
  • দুই-একদিনের মধ্যেই প্রাথমিক দল ঘোষণা করবে বিসিবি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল টি২০) শেষ হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর। সেই থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা আছেন বিশ্রামে। সেই বিশ্রাম শেষ হচ্ছে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ১৫ থেকে ২০ দিনের বিরতি শেষে আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরবেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকরা। কন্ডিশনিং ক্যাম্প দিয়ে শুরু হবে জাতীয় দলের অনুশীলন। যেখানে প্রাথমিক দলের ২৫ থেকে ২৭ সদস্য থাকবেন। কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে স্কিল ট্রেইনিংস হবে। শুরু হবে ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলনও।

এ বছরটি স্বপ্নের মতই কেটেছে। যা চাওয়া হয়েছে তা মিলেছে। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করা, ভারতকে সিরিজে হারানো, দক্ষিণ আফ্রিকাকেও সিরিজে হারানোর মত কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুইয়েকেও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এবার নতুন বছর শুরু করার পালা। সেই শুরুটা হচ্ছে অনুশীলন দিয়ে।

এ বছর তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডেতে সাফল্যের ঝুলিতে জমা পড়েছে ১৩টি জয়। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, দেশের মাটিতে টানা চারটি সিরিজ জয়ে ওয়ানডেতে টাইগারদের বছরটা হল সাফল্যে ঘেরা। সেই সাফল্য এখন ধরে রাখার পালা।

সেই সাফল্য ধরে রাখতে গিয়ে এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে শুধু টি২০ই খেলতে হবে। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি২০ সিরিজ হতে পারে। এরপর দেশের মাটিতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপ টি২০ ও ভারতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপ আছে। টানা টি২০ খেলার মধ্যেই কাটাবে বাংলাদেশ। এ জন্য দুই একদিনের মধ্যে ২৫ থেকে ২৭ সদস্যের একটি প্রাথমিক দলও ঘোষণা করা হবে।

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের মাটিতে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টি২০ সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখ থেকে শুরু এশিয়া কাপ টি২০। যা শেষ হবে ৬ মার্চ। এশিয়া কাপ শেষ করেই ভারতে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে যোগ দেবে টাইগাররা। ৯ মার্চ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। এ টি২০তে খেলতে নামার প্রস্তুতি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু করবে বাংলাদেশ দল। ক্যাম্পের জন্য প্রাথমিক দলও তৈরি করে ফেলেছেন নির্বাচকরা। দুই-একদিনের মধ্যেই প্রাথমিক দলটি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রাথমিক দলে ২৫-২৭ ক্রিকেটার থাকবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। এই প্রাথমিক স্কোয়াড থেকেই প্রয়োজন অনুসারে সামনের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড় নেয়া হবে।

শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমরা অলরেডি একটা প্রাথমিক স্কোয়াড তৈরি করে ফেলেছি। এটা আজ-কালের মধ্যে বোর্ডে জমা দিয়ে দিব। আগামী মাস থেকে শুরু হবে ক্যাম্প। প্রথমে কন্ডিশনিং ক্যাম্প হবে। তারপর স্কিল ক্যাম্প হবে। দুই-একদিনের মধ্যে টিমটা পাবলিশ হয়ে যাবে।’

বিপিএলে ঝলক দেখানো নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুরনো কিছু খেলোয়াড়ও ঝলক দেখিয়েছেন। বিপিএলে দেখা নতুন ও পুরনো খেলোয়াড়রা দল গঠনে কতটুকু বিবেচনায় ছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করি বাংলাদেশের বেস্ট পসিবল একটা টিম তৈরি করতে। সেক্ষেত্রে যারা হয়তো নিকট অতীতে বাংলাদেশ টিমে খেলেনি কিন্তু খুব ভাল খেলছে এবং তাকে সুযোগ দিলে আগামীতে আরও ভাল করতে পারবে, এমন কিছু বিবেচনায় ছিল। দুই-একজন উঠতি তারকা আমাদের চোখে পড়েছে। এই পরিবেশে রাখলে কি রকম করে সেটা দেখবো আমরা।’

হঠাৎ ভাল করা খেলোয়াড়দের নিয়ে ফারুক বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে ব্যাটসম্যানের বাজে সময় আসা খুব সহজ একটা বিষয়। দল গঠনে আমরা পার্টিকুলার টুর্নামেন্ট থেকে কোন কিছু চিন্তা করি না। আমাদের সবসময় মাথায় থাকে একটা সময়। যে সময় পর একটা ছেলেকে দলে ঢুকানো যায় বা বের করা যায়। সেদিক বিবেচনা করলে আমরা দল গঠনে চেষ্টা করেছি যারা টি২০তে ভাল করতে পারে তাদের রাখতে।’