১৬ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২০১৫ ॥ সেরেনা-জোকোভিচের সাফল্যের বছর

  • আন্তর্জাতিক টেনিস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত কয়েক মৌসুমে টেনিস বিশ্বে পুরুষ এককে রাজত্ব করেছেন রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচ। কিন্তু ত্রিমূর্তির সেই ধারাবাহিক পারফর্মেন্সের যেন সমাপ্তি ঘটে চলতি বছর। ২০১৫ সালে যেন সব আলো এককভাবেই কেড়ে নিলেন নোভাক জোকোভিচ। ১১ শিরোপা জিতে এই মৌসুম শেষ করেন সার্বিয়ার এই টেনিস তারকা। যার মধ্যে রয়েছে তিন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট। ফ্রেঞ্চ ওপেন ছাড়া বাকি তিন মেজর টুর্নামেন্টের সবটিতেই শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতেছেন তিনি। সবমিলিয়ে ৮২ ম্যাচ জেতা জোকোভিচ এই বছরে হেরেছেন মাত্র ছয়টিতে।

মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনে না হারলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ‘ক্যালেন্ডার সøাম’ জয়ের রেকর্ডটাও গড়ে ফেলতেন তিনি। নোভাক জোকোভিচের মতো ঠিক সেরেনা উইলিয়ামসের গল্পটাও প্রায় এক। স্বপ্নের খুব কাছাকাছি পৌঁছার পরই হাতছাড়া হয়ে গেল প্রথমবারের মতো ‘ক্যালেন্ডার সøাম’ জয়ের বিরল কীর্তিটা। তাও দারুণ রোমাঞ্চিত সেরেনা। এই মৌসুমেই যে তিন গ্র্যান্ডসøাম জিতে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এ বছরে ৫৩ জয়ের বিপরীতে আমেরিকান কিংবদন্তির পরাজয় মাত্র তিনটিতে। শুধুই কী তাই টানা তিন বছর ধরে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বছর শেষ করার বিস্ময়কর কীর্তিটাও এখন তার দখলে। যা সবমিলিয়ে পাঁচবার বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নাম্বারে থেকে মৌসুম শেষ করেছেন সেরেনা উইলিয়ামস।

তবে সেরেনা উইলিয়ামস চোট আর ক্লান্তির কারণে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেও জোকোভিচ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শেষ চমকটা দেখিয়েছেন এটিপি ট্যুর ফাইনালসে। ফাইনালে পুরনো ‘শত্রু’ রজার ফেদেরারকে হারিয়ে। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান তারকা জোকোভিচ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ৬-৩ এবং ৬-৪ গেমে ফেদেরারকে হারিয়ে রেকর্ড বইয়ে নিজের নামটিতে তুলে নেন। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা চারবার এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের শিরোপা জিতে। গ্রুপ পর্বে ফেদেরারের কাছে হারলেও ফাইনালে সুইস তারকার বিপক্ষে সহজেই জয় তুলে নেন নোভাক জোকোভিচ। আর এই ট্যুর ফাইনালস জিতেই ২০১৫ সালটা শেষ করেন তিনি। যে কারণে জোকোভিচও স্বীকার করে নিয়েছেন যে এটাই তার ক্যারিয়ার সেরা বছর। এ বছরই ক্যালেন্ডার সøাম জয়েরও হাতছানি ছিল জোকোভিচের সামনে। চার গ্র্যান্ডসøামের তিনটিই (অস্ট্রেলিয়ান, উইম্বল্ডন ও ইউএস ওপেন) জেতেন তিনি। শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেনের ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারেননি শীর্ষ তারকা। তবে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন ঠিকই। সেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে সুইস তারকা স্টানিসøাস ওয়ারিঙ্কার কাছে শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যায় তার। কিন্তু তাতে মোটেও আফসোস নেই তার। তবে এটিপি ট্যুর ফাইনালসে খেলার স্বপ্নটা শৈশব থেকেই দেখতেন জোকোভিচ। যে কারণে এই টুর্নামেন্টের শিরোপা ধরে রাখতে পেরে যেন আবেগাপ্লুত সার্বিয়ান তারকা ফিরে যান শৈশবে। ফেদেরারকে হারানোর পরই স্বীকার করেছেন যে এখানে খেলার স্বপ্নটা সেই জীবনের শুরু থেকেই দেখতেন তিনি। এ বিষয়ে জোকোভিচ বলেন, ‘কোর্টের প্রতি মুহূর্তই উপভোগ করেছি। এখানে খেলার ইচ্ছেটা শৈশব থেকেই ছিল। আমার দলের সঙ্গে এই ট্রফিটা জিততে পেরে আমি গর্বিত। প্রকৃতপক্ষে এটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা বছর।’

সেরেনাকে অনেকেই তুলনা করে থাকেন পুরুষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে। এ বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং সর্বশেষ উইম্বল্ডনের শিরোপা দিয়ে থেমে যায় তার জয়রথ। এই যাত্রা পথে ‘ছোটখাটো’ ট্রফিত ছিলই, মার্কিন কৃষ্ণকলি চলেছেন রেকর্ডের ফুলঝুরি ছুটিয়ে। প্রকৃতপক্ষে এমনটা বোধ হয় শুধু সেরেনা উইলিয়ামসই পেরেছেন! গত বছরের ইউএস ওপেন থেকে শুরু করে এবার ফরাসী, অস্ট্রেলিয়ান ও শেষে উইম্বল্ডনের ট্রফি ঘরে তুলেছেন বিশ্বের এক নাম্বার মার্কিন মহিলা টেনিস তারকা। টেনিসের উন্মুক্ত যুগে মহিলাদের মধ্যে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডসøামের অধিকারী মার্গারেট কোর্ট। ২৪টি খেতাব রয়েছে তার। তারপরই ২২ ট্রফি জিতে সেরেনার চেয়ে একধাপ এগিয়ে আছেন কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফ। তাদের পরের জায়গাটাই সেরেনার। আমেরিকান কৃষ্ণকলি এখন তাকিয়ে রয়েছেন আগামী জানুয়ারির অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দিকে। ফ্লিন্ডার্স পার্কে ট্রফি জিতে মেলবোর্নের ইয়ারা নদীর ধারে ‘ভিরি পোজ’ দিলে স্টেফিকে ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই হপম্যান কাপ দিয়ে নতুন মৌসুমে কোর্টে ফেরার ঘোষণাটা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস।

এই মাত্রা পাওয়া