১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মালদ্বীপের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

রুমেল খান, ত্রিভান্দ্রাম, কেরল থেকে ॥ ‘কি আশায় বাঁধি খেলাঘর, বেদনার বালুচরে ...’ একটা সময় ছিল যখন পুচকে দেশ ও দুর্বল ফুটবল শক্তি মালদ্বীপকে বলে-কয়ে, হেসে-খেলে, নেচে-কুঁদে দুই হালি করে গোল উপহার দিত বাংলাদেশ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন? মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করা তো দূরে থাক, তাদের সঙ্গে জিততেই পারে না লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এই যেমন শনিবার পারলো না কেরলের ত্রিভান্দ্রাম আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ১-৩ গোলে মানতে হলো তিক্ত পরাজয়। এই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল বাংলাদেশের। দিনের অপর ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান সহজেই পরাজিত করে ভুটানকে। এতে মালদ্বীপের সঙ্গে আফগানিস্তানও পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। আর বিদায়ে বাংলাদেশের সঙ্গী হয়েছে ভুটান।

এই হার অনেক আক্ষেপে পোড়াবে বাংলাদেশকে। কেননা ম্যাচে ০-১ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ৮৭ মিনিটে আচমকা গোল করে সমতায় ফিরেছিল বাংলাদেশ। দুই মিনিট পরেই আবারও গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। ইনজুরি টাইমের ৪ মিনিট খেলা বাকি ছিল। ক্ষীণ আশা ছিল, এবারও হয়তো অলৌকিক কিছু করে আবারও একটা গোল দিয়ে সমতায় ফিরবে বাংলাদেশ। কিন্তু হলো উল্টোটা। পাল্টা আক্রমণ থেকে আবারও গোল হজম করে বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় বাংলাদেশের। এ নিয়ে টানা তিন আসরেই (২০১১, ২০১৩, ২০১৫) গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত ২০১১ সাফ ফুটবলেও মালদ্বীপের কাছে একই ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারও ঘটলো সেই একই ফলের পুনরাবৃত্তি (৬ ডিসেম্বর, ২০১১, দিল্লীর জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে)।

বাংলাদেশে এখন শীত। তবে এর বিপরীত অবস্থা ভারতের কেরলের ত্রিভান্দ্রামে। গরমের দিনে ‘গরম’ খেলা উপহার দিয়ে জয় কুড়িয়ে শেষ চারে খেলা নিশ্চিত করে ফেললো মালদ্বীপ। বাংলাদেশের তৃতীয় ও গ্রুপের শেষ ম্যাচ ভুটানের বিরুদ্ধে আগামী সোমবার। উভয় দলের জন্যই ম্যাচটি কেবলই নিয়ম রক্ষার। আর মালদ্বীপের তৃতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচ বর্তমান শিরোপাধারী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একই দিনে। এ ম্যাচে নির্ধারণ হবে গ্রুপ সেরা।

শনিবার দিনটা আক্ষরিক অর্থেই ‘শনিময়’ ছিল মারুফুল হকের শিষ্যদের জন্য। যত গর্জে তত বর্ষে না। শনিবার বাংলাদেশের খেলা দেখে মনে হয়েছে তেমনটাই। মাঠে তাদের শরীরী ভাষা দেখে মনেই হয়নি গোলের ও জয়ের জন্য তারা খেলছে! প্রেসবক্সে কর্মরত কয়েকজন তো রাগ করে বলেই ফেললেন, ‘প্রতিপক্ষের দ্রুতগতির ফুটবলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুটবল খেলা হয় না!’ মালদ্বীপের কৌশলী ফুটবলের (হিট এন্ড রান এবং বিপক্ষের খেলার ছন্দ নষ্ট করে দেয়া) কাছে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের খেলা। গ্যালারিতে উপস্থিত মালদ্বীপের সমর্থকদের টানা ভুভুজেলা বাজানোটা সার্থক হয়েছে খেলা শেষে! খেলার শুরুতে বাংলাদেশ দল মাঠে নামে ৪-৫-১ ফর্মেশনে। উদ্দেশ্যÑ ডিফেন্স ঠিক রেখে আক্রমণে যাওয়া। কিন্তু সে কাজে আসেনি সফলতা। দলনায়ক মামুনুলের খেলা ছিল হতাশাজনক এবং ভুলে ভরা। ক্রমাগত ভুল পাস দেয়া, কর্নার ও ফ্রি কিকের বলগুলোর বেশিরভাগই তুলতে না পারা ... দৃষ্টিকটুই লেগেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যে সর্বাধিক পারিশ্রমিকধারী এই ফুটবলারের খেলা। প্রথমার্ধে উইঙ্গার জাহিদ হোসেনই একটু যা খেলেছেন। অনেকগুলো গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন কিন্তু সেগুলোর একটাও কাজে লাগাতে পারেননি তার সতীর্থরা। আরেকটা উল্লেখ করার মতো ব্যাপার হলোÑ এই ম্যাচে বাংলাদেশ একাধিক কর্নার পেয়েছে ঠিকই। কিন্তু নিজেদের প্রথম ম্যাচের পুরোটা এবং শনিবারের ম্যাচের প্রথম কর্নার পাওয়ার আগ পর্যন্ত হিসেব করে দেখা গেছে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল তাদের প্রথম কর্নারটি পেয়েছে দীর্ঘ ১১৭ মিনিট পর! হেড টু হেডে ১১ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৬০ ফিফা র‌্যাঙ্কিংধারী মালদ্বীপ এ নিয়ে তৃতীয়বার হারালো ১৮২ র‌্যাঙ্কিংধারী বাংলাদেশকে। বাংলাদেশও অবশ্য সমসংখ্যকবার হারিয়েছে মালদ্বীপকে। বাকি ৫ ম্যাচ ড্র হয়। ২৭ মিনিটে ওয়ালী ফয়সালের ক্রস থেকে জাহিদের হেড মালদ্বীপের সাইড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৪১ মিনিটে পেনাল্টি বক্সে মালদ্বীপের ইমাজের শট ফেরাতে গিয়ে হ্যান্ডবল করে ফেলেন লেফট ব্যাক ওয়ালী ফয়সাল। এ জন্য ভিয়েতনামের রেফারি ঢালীকে হলুদ কার্ড দেখানোর পাশাপাশি পেনাল্টিরও নির্দেশ দেন। অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড আলী আশফাকের বাঁ পায়ের সামান্য উঁচু শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের হাতে লাগিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল। বল জড়ায় জালে (১-০)। বর্ষীয়ান-অভিজ্ঞ ফুটবলার আশফাকের এটা ব্যক্তিগত ২০তম সাফ গোল। ৮৭ মিনিটে মামুনুলের কর্নারে মালদ্বীপের এক ফুটবলার হেড করে ফেরালে বক্সের বাইরে পেয়ে যান সোহেল রানা। এই মিডফিল্ডারের দ্রুত ভলি মালদ্বীপের এক ফুটবলারের মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ায় (১-১)। ৮৯ মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বলে নিখুঁত ব্যাক ফ্লিকে বাংলাদেশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বদলি ফরোয়ার্ড নিয়াজ হাসান (২-১)। ইনজুরি টাইমে (৯০+৩) আর এক গোল করে গ্রুপের টানা দ্বিতীয় জয় ও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে নেয় ২০০৮ সালের সাফ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ (প্রথম ম্যাচে তারা ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে, আর বাংলাদেশ হেরেছিল ০-৪ গোলে আফগানিস্তানের কাছে)। রায়হানের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে কাউন্টার এ্যাটাক থেকে বদলি ফরোয়ার্ড নাশিদ আহমেদ গোল করে বাংলাদেশের পরাজয়ের কফিনে ঠুকে দেন শেষ পেরেকটি (৩-১)।

উল্লেখ্য, টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিতে খেলা নিশ্চিত করে আফগান্তিান ও মালদ্বীপ। শনিবার ভুটানের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পায় আফগানরা।