১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গয়েশ্বরের মতে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধ’

গয়েশ্বরের মতে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধ’
  • নিন্দার ঝড়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ‘নির্বোধ’ বলে তিনি নিন্দা ও বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, ২১ ডিসেম্বর বিএনপির এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়নি বলে যে নিন্দনীয় মহাবিতর্কের সৃষ্টি করেছেন সেই পথ ধরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের এবার ‘নির্বোধ’ বলে মন্তব্য করলেন গয়েশ্বর। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে বিএনপি হীনউদ্দেশ্য সফল করতে চায়।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গয়েশ্বর রায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গিয়েছিলেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন? আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দিই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি এত বুদ্ধিমান হোন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কিভাবে?

গয়েশ্বর বলেন, নেতৃত্বের অজ্ঞতা ও আগাম সতর্কতার অভাবে ২৫ মার্চ যারা মারা গেছেন, তারা না জানার কারণে মারা গেছেন। কিন্তু ১৪ ডিসেম্বর যারা মারা গেছেন, তারা অজ্ঞতার কারণে মারা যাননি। তারা জ্ঞাতসারেই ছিলেন। কারণ তখনও তারা প্রতিদিনই তাদের কর্মস্থলে যেতেন এবং পাকিস্তানের বেতন খেয়েছেন। তিনি বলেন, যারা পকিস্তানের বেতন খাইল তারা হয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা, আর যারা না খেয়ে পালিয়ে বেড়াল তারা হয়ে গেল রাজাকার। এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করা দরকার। কারণ এগুলো এখন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেছে।

আলোচনা সভায় গয়েশ্বর স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, এখন তো আধুনিক প্রযুক্তি আছে, প্রশাসন আছে। ইচ্ছা করলেই সাত দিনের মধ্যে শহীদদের পরিসংখ্যান বের করা যায়। এ কারণে আওয়ামী লীগের ‘অজ্ঞ’ বুদ্ধিজীবীদের বলব, প্রধানমন্ত্রীকে বলুন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি জরিপ করে ফেলুন। তাহলে প্রকৃত চিত্র চলে আসবে।

গয়েশ্বর রায় বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেছেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তিনি কমও বলেননি, বেশিও বলেননি। এই বিতর্ক কিন্তু ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদে উঠেছিল। প্রয়াত বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন এই প্রশ্নটি করেছিলেন। ‘শেখ সাহেব’ হিথরো এয়ারপোর্টে যেটি বলেছেন সেটি তো আর ধর্মগ্রন্থের বাণী নয় যে, পরিবর্তন করা যাবে না। ‘অজ্ঞতাবশত তিন লাখ, তিন মিলিয়ন হয়ে গেছে। তাড়াহুড়োর মধ্যে হয়ত এমনটি হয়েছে।’

গয়েশ্বর বলেন, যতদূর জানি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দুই লাখ পঁচাত্তর হাজার শহীদ পরিবারের তালিকা আছে। তাহলে বাকি ২৭ লাখ কোথায় গেল? গলার জোরে কথা না বলে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখের জায়গায় ৬০ লাখ হলে ক্ষতি কোথায়? তিন লাখ হলেও তো সমস্যা নেই। দেশ তো স্বাধীন হয়েছে। এটি বিতর্কের বিষয় নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর রায় বলেন, আপনারা একাত্তরে যত গ্রামে মানুষ মারা গেছেন, সেখান থেকে একটা নম্বর দিয়ে মেসেজ পাঠাতে বলেন। দেখবেন তখন সঠিক পরিসংখ্যানটি চলে আসবে। তাই এটি নিয়ে বিতর্ক করার দরকার নেই।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, সাবেক সাংসদ আসিফা আশরাফি পাপিয়া প্রমুখ।

ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে- রিজভী ॥ পৌরসভা নির্বাচনে সরকারী দল ভোট কারচুপির চেষ্টা করবে অভিযোগ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ২০১১ সালে দেশব্যাপী পৌর নির্বাচন ও ২০১৩ সালে ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের গ্লানি মুছতে গিয়ে পরবর্তীতে সকল নির্বাচনে বন্দুক, ককটেল ও বোমার ওপর নির্ভর করেছে। দেশের মানুষের কাছ থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের যে নির্মম পরাজয় হয়েছে সেটি তারা কখনই বিশ্বাস করতে চায় না। তাই এখন নির্বাচনগুলোয় দখলদারিত্ব বজায় রাখছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, এখন দেশজুড়ে চলছে এক ভয়াবহ দুর্দিন। সমালোচনাকে সহ্য করার কোন ঐতিহ্য নেই আওয়ামী লীগের। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর শাসক দল গুম, খুন, অপহরণ আর বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের মহোৎসব করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনের ঐতিহ্য হচ্ছে গণতন্ত্রকে উৎখাত করা। এরা শান্তি, স্বস্তি ও স্থিতি চায় না। এরা জনগণকে সম্মান দিতে চায় না। হুকুম ও বাধ্য করার হুঙ্কার ছেড়ে জনগণকে ভয় দেখিয়ে নির্বাচন করে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের যে কোন বিরোধিতা ও সমালোচনা দমন করতে সরকার এখন ফেরাউনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের সকল অপতৎপরতা উপেক্ষা করে ভোট প্রদান করতে হবে। ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন একটি নিষ্ক্রিয় ডাকঘরে পরিণত হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ অসংখ্য অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে কিন্তু তারা এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে। তাদের এই নতজানু ভূমিকার জন্য ছি ছি করছে মানুষ। কমিশনের এই ভূমিকার কারণেই লক্ষ্মীপুরবাসী তাহের আতঙ্কে ভুগছে। ফেনীর নিজাম হাজারীর লোকেরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দিয়ে।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে বেশি সুবিধা দিচ্ছে। তার এই বক্তব্য বছরের শ্রেষ্ঠ আলোচিত তামাশা ছাড়া মানুষ অন্য কিছু ভাবতে পারছে না। তার এই বক্তব্যে মনে হয়, ধানক্ষেত বা ধানের গোলার নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন হয়ে ‘মূষিক বিলাপ করছে গৃহস্থের কাছে’। যদি হানিফ সাহেবের কথা সত্য হয় তাহলে ঢাকা থেকে পৌর নির্বাচনী এলাকায় শাসক দলের প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসীদের পাঠাচ্ছে কারা? বিএনপির মেয়র প্রার্থীর মিছিলে ককটেল ও বোমা ফাটাচ্ছে কারা?

রিজভী বলেন, জোর করে, শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিন্তু মানুষের বিচার-বুদ্ধিকে বেঁধে রাখা যায় না। মানুষ সবকিছুই দেখতে পাচ্ছেন, উপলব্ধি করছেন। আমি দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আহ্বান জানাতে চাই, আসন্ন পৌর নির্বাচনে বজ্জাত, খুনী, ক্ষমতাদর্পী ও দাগী অপরাধীদের অপতৎপরতা অগ্রাহ্য করে নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান করতে হবে। সকল চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে ৩০ ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচনকে সাফল্যম-িত করতে হবে।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের যে আধুনিক কনসেপ্ট, সেটিকে বিকৃত করে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দলবাজি টিকিয়ে রাখছে সমাজবিরোধী গ্যাংয়ের মতো। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর তাদের নিষ্ঠুর আচরণ এতবেশি তীব্রতর হয়ে উঠেছে যে, মনে হয় তারা গণতন্ত্রের ছাইভস্মও অবশিষ্ট রাখবেন না। সরকারপ্রধান ও তার সহকর্মীদের অহঙ্কার, ঔদ্ধত্য, দুর্নীতি ও মানুষকে ক্ষমতার দম্ভে হেয় করার প্রবণতা অতীতের সকল মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

জামালপুর জেলার মেলান্দহ, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা, নোয়াখালীর চৌমুহনী, সাতক্ষীরার কলারোয়া, হবিগঞ্জ, যশোর, গাইবান্ধা ও নড়াইল পৌরসভায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার-নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান রুহুল কবির রিজভী। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে গ্রেফতার-নির্যাতন বন্ধ ও কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, নড়াইলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

বিএফইউজের কাউন্সিলে যোগ দিচ্ছেন খালেদা জিয়া ॥ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে-একাংশ) দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে যোগ দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। আজ রবিবার বেলা এগারোটায় সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।