১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলে গেলেন প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল খালেক

চলে গেলেন প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল খালেক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক নগর সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক। শনিবার দুপুরে বড় ছেলে খালেদ আলফে সানি পিতা আবদুল খালেককে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান। চিকিৎসক দেখিয়ে বাসায় ফেরার পথে বনানীর কাছে প্রাইভেটকারের মধ্যেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এ প্রবীণ সাংবাদিক। দ্রুত রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহে... রাজিউন)। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণেই মারা গেছেন প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল খালেক। দীর্ঘদিন থেকেই তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী শাহানা খালেক, দুই পুত্র খালেদ আলফে সানি, শাহেদ আল জিলানী, একমাত্র মেয়ে নিশাত মাহজাবিন, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রয়াত আবদুল খালেকের ভাগ্নে আরিফুল ইসলাম শামীম জনকণ্ঠকে জানান, সকালে চিকিৎসককে দেখাতে বড় ছেলে খালেদ আলফে সানি মামাকে (আবদুল খালেক) নিয়ে যান। চিকিৎসককে দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বনানীর কাছে গাড়ির মধ্যেই আবদুল খালেক ছেলেকে বলেন তার খারাপ লাগছে। এ সময় তিনি পানি ও কিছু শুকনো খাবার খেতে চান। গাড়ি থামিয়ে সানি পানি ও শুকনো খাবার এনে বাবাকে খেতে দেন। কিন্তু পানি খাওয়ার পরও শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকলে দ্রুত তাঁকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল খালেককে মৃত ঘোষণা করে বলেন, গাড়ির মধ্যেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় মারা গেছেন এই প্রবীণ সাংবাদিক।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সিএমএইচ থেকে তাঁর মরদেহ মিরপুর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার বাসভবনে আনা হয়। বাদ মাগরিব সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছোট ছেলে শাহেদ আল জিলানী অস্ট্রেলিয়া থাকায় ফিরে না আসা পর্যন্ত বাবার মরদেহ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ছোট ছেলে ফিরে আসার পর আগামীকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় দফা এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বাদ জোহর তৃতীয় দফা জানাজা শেষে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।

আবদুল খালেকের জন্ম ১৯৪৭ সালের ৭ এপ্রিল ভারতের ত্রিপুরায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়ে ১৯৬৮ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দৈনিক বাংলা এবং পরে দৈনিক জনকণ্ঠে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ দৈনিক জনকণ্ঠের নগর সম্পাদক ছিলেন তিনি।

আবদুল খালেক তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে ভারতের হিন্দি দৈনিক রাজস্থান, ডেকান হেরাল্ড, দৈনিক মাতৃভূমি, আলোকপাত ও অস্ট্রেলিয়ার দি এইচ পত্রিকায় বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আবদুল খালেক ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া আবদুল খালেক একাত্তরে প্রকাশিত ‘জয় বাংলা’ পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ছিলেন।

প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল খালেকের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জামালউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ডের সভাপতি শামসুদ্দিন পেয়ারা, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া।