২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক বছরে আইপিও অনুমোদন কমেছে অর্ধেক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০১৪ সালে ১৯টি কোম্পানিকে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দিলেও চলতি বছর এ সংখ্যা ১০-এ নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার থেকে কোম্পানিগুলোর পুঁজি সংগ্রহের পরিমাণও কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায়ও ব্যাপক পরিবর্তন আনছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট খসড়া অনুমোদন হয়েছে। স্টেক হোল্ডারদের মতামত ও জনমত যাচাই শেষে আগামী বছরের শুরুতেই তা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। আইপিওতে কোম্পানির জন্য আরও বেশি তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ইস্যু ম্যানেজারদের স্বচ্ছতার পরিধিও বাড়ছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কার হচ্ছে। এছাড়া আইপিওতে কোটা ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পরিধিও বাড়ছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্যও আইপিওর কোটা বরাদ্দ থাকছে। স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য আলাদা বাজার ব্যবস্থা রাখার বিষয়টিও চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৩ সালে আইপিও অনুমোদন কম দিলেও পরের বছর ২০১৪ সালে অবস্থান পরিবর্তন করে। ২০১৪ সালে মোট ১৯টি কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে মোট ১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দেয়া হয়। সে সময় প্রিমিয়ামে আসা কিছু কোম্পানি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। তালিকাভুক্তির পর বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারদর বরাদ্দ মূল্যের নিচে নেমে আসে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আইপিও অনুমোদনে বিএসইসির ভূমিকাকে স্মরণ করিয়ে চিঠিও দেয়া হয়।

তবে চলতি বছর বাজারের মন্দাবস্থায় আইপিও অনুমোদনে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে বিএসইসিকে। প্রতি মাসে দুটি আইপিওর অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কমিশন। চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১০টি আইপিওর অনুমোদন দেয়া হয়। যদিও এ বছর আরও একটি কমিশন সভা হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। এসব কোম্পানিকে ৪৯২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

চলতি বছর আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতের কোম্পানিই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বুধবার পর্যন্ত আইপিও থেকে যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এর প্রায় ৬০ শতাংশই পাচ্ছে বস্ত্র খাতের চার কোম্পানি। এর মধ্যে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, সিমটেক্স ও রিজেন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড এরই মধ্যে ২৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আর ড্রাগন সোয়েটার এ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড অভিহিত মূল্যে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে ৭ ডিসেম্বর। চলতি বছর অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিজেন্ট টেক্সটাইল সবচেয়ে বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। কোম্পানিটি পাঁচ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে বিএমআরই, নতুন তৈরি পোশাক প্রকল্পে ব্যয় করবে। এছাড়া সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

এ বছর ৯ এপ্রিল আইপিওর অনুমোদন পেয়ে আমান ফিড লিমিটেড দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে ৭২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। আইপিওতে এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য ছিল ৩৬ টাকা (২৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ)। এছাড়া কেডিএস এ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ২৪ কোটি টাকা ও অলিম্পিক এ্যাক্সেসরিজ দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর বাইরে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস এ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড আইপিওতে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে ৫৮ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে। অভিহিত মূল্যে ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্ট লিমিটেডের অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। আর গত ১২ মে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডকে অভিহিত মূল্যে ১ কোটি ৭৭ লাখ শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেয়া হলেও আইডিআরের আপত্তির মুখে আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়। আর বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারদর নিলামের অনুমোদন পেয়েছে একমি ল্যাবরেটরিজ।

প্রসঙ্গত, প্রাইমারি বাজার চাঙ্গা হওয়ায় সেকেন্ডারি বাজার থেকে অর্থ চলে যাওয়ার বিতর্ক উঠায় কমিশন চলতি বছর আইপিও অনুমোদনে রক্ষণশীল ভূমিকা নেয়। এছাড়া নতুন শেয়ারের দরে উল্লম্ফন রোধে মার্জিনসহ অন্যান্য সুবিধার লাগাম টানা হয়।

এছাড়া আইপিওর পর উদ্যোক্তা-পরিচালক ও বড় শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস শেয়ার বিক্রিও প্রথম দুই হিসাব বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। আইপিও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কোম্পানির পাবলিক অফার ডকুমেন্টের ওপর স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়া কোন কোম্পানি আইপিওর শেয়ারে প্রিমিয়াম চাইলে তাদের জন্য বুকবিল্ডিং পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়।