১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে লেনদেন বেড়েছে ৭৯ দশমিক ১৯ শতাংশ

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। গত রবিবার পুজিবাজারে ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধন বিনিয়োগসীমার বাইরে রেখে প্রজ্ঞাপন জারির পরই সূচকের সঙ্গে লেনদেনের গতি ফিরেছে। ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস) মূলধন বাবদ প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ছে- এমন ঘোষণা আসার পরই পুঁজিবাজারে খুশির ঝলকানি দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন বেড়েছে আগের চেয়ে ৭৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর বর্ষ সমাপনীকে কেন্দ্র করে অনেক প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যস্ত হচ্ছে, ক্ষেত্রবিশেষে নিট বিক্রিও বাড়ার কারণে সূচকের মন্দাবস্থা ছিল। কিন্তু রবিবারের প্রজ্ঞাপনের পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পরদিন সোমবারই সূচক বাড়ে প্রায় ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ করে অর্থাৎ একদিনেই প্রায় ৭০ পয়েন্ট সূচক বাড়ে। মঙ্গলবার কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও বুধবার সূচকের কিছুটা পতন ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার আবারও তা বেড়ে যায়।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর সার্বিক সূচক বা ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ৮৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট। শেষ পর্যন্ত ডিএসইর সার্বিক সূচকটি চার হাজার ৬০৮ পয়েন্টে গিয়ে পৌঁছে। প্রধান সূচকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ধরনের সূচকই বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ২৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট। অপরদিকে শরিয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বা ১৪ দশমিক ১৫ পয়েন্ট। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে দর বেড়েছে ২৩১টির, কমেছে ৬৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির। আর লেনদেন হয়নি পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের কারণে গত সপ্তাহে বেশিরভাগ কোম্পানির দর বেড়েছিল, যার কারণে সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বাজার মূলধনের যার প্রতিফলন দেখা গেছে। এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে মোট পাঁচ হাজার কোটি টাকা। রবিবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর মোট বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ হারে বাজার মূলধন বেড়েছে।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, রবিবার নেতিবাচক প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে মাত্র একদিনেই সূচকের উর্ধগতি ফিরে আসে। ব্যাংকের বিনিয়োগ বিষয়ক এই প্রজ্ঞাপন জারির ফলে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সক্ষমতা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে নতুন করে বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন হয়। ফলে বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়। ফলে পরদিন সোমবারই আগের চেয়ে সার্বিক সূচকটি মোট ৬৭ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সার্বিকভাবে সূচকটি আগের দিনের চেয়ে মোট ৮৭ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সব ধরনের কোম্পানির দরবৃদ্ধির সপ্তাহে শুধুমাত্র জীবন বীমা খাতের দর কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের দর বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা কোম্পানির দর বেড়েছে ৪ শতাংশ।

সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো ফার্মা, কাসেম ড্রাইসেল, বেক্সিমকো, কেডিএস এক্সেসরিজ, এমারল্ড ওয়েল, স্কয়ার ফার্মা, এসিআই লিমিটেড, তিতাস গ্যাস, আফতাব অটোস ও বিএসআরএম স্টিল।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো- বারাকা পাওয়ার, জিকিউ বলপেন, ফনিক্স ফাইনান্স, আনালিমা ইয়ার্ন, এসিআই ফর্মুলেশন, এএমসিএল (প্রাণ), রংপুর ফাউন্ড্রি, ন্যাশনাল হাউজিং ও ফাইন্যান্স এবং গ্রীন ডেল্টা।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো- এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড, ৫ম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, প্রগেসিভ লাইফ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, গ্রামীণ মিউচুয়াল ওয়ান ফান্ড, রহিমা ফুড, পদ্মা ওয়েল, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ও ট্রাস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড।